১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩ আশ্বিন ১৪২৮, ১০ সফর ১৪৪৩ হিজরি
`

বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দিতে চেয়ে মমতার কৌশল

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় - ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পরেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজর এখন দিল্লির দিকে।

তৃণমূল নেত্রীর প্রাথমিক লক্ষ্য জাতীয় স্তরে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেয়া। তারপরের লক্ষ্য অবশ্য ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে বিজেপিকে হারানো।

তৃণমূল সূত্র জানাচ্ছে, আপাতত সেই লক্ষ্যে দ্বিমুখী কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন মমতা।

প্রথমটি হলো, সংসদের বর্ষা অধিবেশনে কংগ্রেসকে টপকে প্রতিটি ইস্যুতে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে প্রথমে হইচই করা। দরকার হলে সেই বিষয়টিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাতে তৃণমূলই যে নেতৃত্ব দিচ্ছে তা স্পষ্ট হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত, দিল্লিতে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী নেতাদের সাথে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত।

শান্তনু সেন-কাণ্ড
গত বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব পেগাসাস নিয়ে লিখিত বিবৃতি পড়ছিলেন। আর তৃণমূল সাংসদরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন একটি হিন্দি দৈনিকের অফিসে আয়কর নিয়ে। হঠাতই শান্তনু সেন সোজা মন্ত্রীর কাছে গিয়ে তার হাত থেকে লিখিত বিবৃতি টেনে ছিঁড়ে তা চেয়ারম্যানের চেয়ারের দিকে ছুঁড়ে দেন। ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ তখন সভা পরিচালনা করছিলেন। তিনি সাথে সাথে সভা মুলতুবি করেন।

শান্তনু সেন এবং তৃণমূলের অভিযোগ, এ সময় আরেক মন্ত্রী হরদীপ পুরী তাকে ডাকেন এবং খারাপ ব্যাবহার করেন। হাতাহাতি হওয়ার উপক্রম হয়। বিজেপি সংসদরা তাকে ঘিরে ধরেন। তৃণমূল সংসদরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু ততক্ষণে টিভির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে তার কোনো ভিডিও রেকর্ড নেই।

নাটকের এখানেই শেষ নয়। শুক্রবার সভা শুরু হতে চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, ‘যা হয়েছে তা দুর্ভাগ্যজনক ও অসাংবিধানিক।’ তার প্রশ্ন, ‘আমরা কি গণতন্ত্রের এই চেহারা তুলে ধরব?'’ পরে বিজেপির প্রস্তাব মেনে অধিবেশনের বাকি দিনগুলোর জন্য শান্তনু সেনকে সাসপেন্ড করেন চেয়ারম্যান। কিন্তু তারপরেও শান্তনু সভা ছেড়ে যাননি। ফলে দু’বার সভা মুলতুবি রাখতে হয়।

এমন নয় যে, এরকম ঘটনা প্রথমবার হলো। এর আগে রাজ্যসভাতেই ইউপিএ আমলে মেয়েদের সংসদ ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেয়া সংক্রান্ত বিল মন্ত্রীর হাত থেকে কেড়ে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল। অন্ধ্র প্রদেশকে ভেঙে তেলেঙ্গানাকে পৃথক রাজ্য করা নিয়েও সংসদের দু’কক্ষে ভয়ংকর দৃশ্য দেখা গেছে। এক সংসদ সদস্য গোলমরিচের গুড়ো পর্যন্ত স্প্রে করেছিলেন। চেযারম্যান ও স্পিকার সাসপেন্ড করার পরেও সভা ছেড়ে বেরিয়ে না যাওয়ার নজিরও আছে।

শান্তনু সেন পেশায় চিকিৎসক। চিকিৎসকদের প্রধান সংগঠন আইএমএর শীর্ষ পদে ছিলেন। তিনি কেন এমন একটি কাণ্ড করলেন?

প্রবীণ সাংবাদিক শরদ গুপ্তার ব্যাখ্যা হচ্ছে, ‘তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধীদের থেকে বিজেপি বিরোধিতায় এগিয়ে থাকতে চাইছে।’

শরদ বলেছেন, ‘তৃণমূল আপাতত বিজেপি-বিরোধী অবস্থান নেয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেস ও অন্য আঞ্চলিক দলের থেকে এগিয়ে থাকতে চাইছে। তারা বিরোধী দলবগুলোর নেতৃত্ব দিতে চাইছে। তাই বলা যেতেই পারে, এটা তৃণমূলের কৌশলের অংশ। তবে এই ধরনের ঘটনা গণতন্ত্রের মর্যাদা বাড়ায় না।’

মমতার দিল্লি সফর
বিধানসভা ভোটে জয়ের পর সোমবার প্রথমবারের জন্য দিল্লি আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি দিল্লি পৌঁছবেন। তিনি রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাথে দেখা করবেন। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের বাড়িতে গিয়ে দেখা করবেন।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ বাকি বিরোধী নেতাদের সাথেও তিনি দেখা করবেন। সংসদেও যেতে পারেন মমতা।

মুখ্যমন্ত্রীর সফর ওই একই কৌশলের অঙ্গ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রবীণ সাংবাদিক সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘মমতার প্রথম লক্ষ্য বিরোধী দলগুলিকে একজোট করা।

দ্বিতীয় লক্ষ্য, মোদীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরোধী মুখ হয়ে ওঠা। কংগ্রেস ছাড়া জোট হবে না জানেন বলে, মমতা সোনিয়াকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন।’ দিল্লি আসার আগে মমতা পেগাসাস নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

সংসদীয় দলের চেয়ারম্যান
তিনি সংসদ নন তা সত্ত্বেও তৃণমূল সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন হলেন মমতা। এটাও তৃণমূল তথা মমতার জাতীয় স্তরে নেতৃত্ব দেয়ার কৌশলের একটা অঙ্গ। তবে এটা নজিরবিহীন নয়। রাজনীতিতে আসার পর ১৯৯৮ সালে সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন ছিলেন। তখনো তিনি সাংসদ হননি।

মমতার দিল্লি সফর
বিধানসভা ভোটে জয়ের পর সোমবার প্রথমবারের জন্য দিল্লি আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি দিল্লি পৌঁছবেন। তিনি রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাথে দেখা করবেন। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের বাড়িতে গিয়ে দেখা করবেন। অরবিন্দ কেজরিওয়াল সহ বাকি বিরোধী নেতাদের সঙ্গেও তিনি দেখা করবেন। সংসদেও যেতে পারেন মমতা।

মুখ্যমন্ত্রীর সফর ওই একই কৌশলের অঙ্গ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রবীণ সাংবাদিক সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, মমতার প্রথম লক্ষ্য বিরোধী দলগুলিকে একজোট করা। দ্বিতীয় লক্ষ্য, মোদীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরোধী মুখ হয়ে ওঠা। কংগ্রেস ছাড়া জোট হবে না জানেন বলে, মমতা সোনিয়াকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন।’ দিল্লি আসার আগে মমতা পেগাসাস নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

সংসদীয় দলের চেয়ারম্যান
তিনি সাংসদ নন, তা সত্ত্বেও তৃণমূল সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন হলেন মমতা। এটাও তৃণমূল তথা মমতার জাতীয় স্তরে নেতৃত্ব দেয়ার কৌশলের একটা অঙ্গ। তবে এটা নজিরবিহীন নয়। রাজনীতিতে আসার পর ১৯৯৮ সালে সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন ছিলেন। তখনো তিনি সাংসদ হননি।

সূত্র : ডয়চে ভেলে



আরো সংবাদ


কাবুলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে রকেট হামলা (১৬০০২)তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র চাইলেন মাসুদ (১৫৭০৩)মালয়েশিয়ায় স্বদেশীকে অপহরণের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি ৪ বাংলাদেশী (১২৮৭১)মার্কিন সফরে মোদির ঘুম কেড়ে নেয়ার হুঁশিয়ারি শিখ গ্রুপের (১১৩৬১)নতুন ঘোষণা আফগান সেনাপ্রধানের (৯৮৫২)বিমানে হিজাব পরিহিতা দেখেই চিৎকার ‘মুসলিম সন্ত্রাসী’ (৭৩২১)ভারত সীমান্ত থেকে চীনের সেনা সরিয়ে নিতে জয়শঙ্করের হুঁশিয়ারি (৬০৯৮)যাত্রীবেশে উঠে গলা কেটে মোটরসাইকেল ছিনতাই (৬০১৫)রিকসা চালকের তথ্যে নিখোঁজ তিন ছাত্রী উদ্ধার (৫৯১৯)ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে চায় সৌদি আরব (৫৬৯১)