০২ আগস্ট ২০২১
`

মিয়ানমারে জান্তার বিরুদ্ধে গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগ, নিহত ২

কিন মা গ্রামে ভস্মীভূত বাড়ি - ছবি : মিয়ানমার নাও

মধ্য মিয়ানমারের মাগউই অঞ্চলে সামরিক জান্তা ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর একটি গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। বুধবার এই ঘটনায় ওই গ্রামের বাসিন্দা এক প্রবীণ দম্পতি আগুনে পুড়ে নিহত হয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির কাছে ওই গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আগুনে গ্রামের দুই শ' ৪০টি বাড়ির মধ্যে দুই শ'টিই পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে।

তারা জানান, জান্তা বিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহীদের স্থানীয় দলের সাথে সংঘর্ষের পর সামরিক বাহিনী ওই গ্রামে এসে আগুন লাগিয়ে দেয়।

বিবিসিকে এক বাসিন্দা জানান, সামরিক জান্তার আক্রমণ দমনে গড়ে ওঠা পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) স্থানীয় সদস্যদের সাথে সামরিক বাহিনীর মঙ্গলবার থেকেই সংঘর্ষ শুরু হয়। বুধবার পিডিএফের যোদ্ধারা পিছু হটলে সৈন্যরা ওই গ্রামে এসে আগুন লাগিয়ে দেয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানায়, মঙ্গলবার সামরিক বাহিনীর হামলার আশঙ্কায় স্থানীয়রা গ্রাম ছেড়ে পালান। এই সময় চলতে সক্ষম না হওয়ায় ওই গ্রামের পাঁচ বয়স্ক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয়সহ রেখে যান তারা।

গ্রামে থেকে যাওয়া ওই পাঁচ ব্যক্তিকে পরদিন এসে দেখে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে জানান তারা।

সৈন্যদের লাগানো আগুন থেকে বয়স্ক তিন ব্যক্তি পালিয়ে বাঁচতে সক্ষম হলেও ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মা মং ও তার স্ত্রী ৮৩ বছর বয়সী কাই মিন আগুনে পুড়ে নিহত হন।

এক প্রতিবেশী মিয়ানমার নাউকে বলেন, 'বৃদ্ধ খুবই দুর্বল ছিলেন। এমনকি তিনি হাটতেও পারতেন না। তার সব সন্তানই পালিয়ে গিয়েছিল। ফলে আগুন থেকে তাকে বাঁচানোর মতো কেউ ছিল না। আমার মনে হয়, বৃদ্ধাও পালিয়ে না গিয়ে তার স্বামীর সাথে মরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।'

এদিকে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভিতে প্রচারিত সংবাদে বলা হয়, কিন মা গ্রামে 'সন্ত্রাসীরা' আগুন লাগিয়েছে এবং এর মাধ্যমে তারা 'সামরিক বাহিনীকে কলঙ্কিত করার' ষড়যন্ত্র করছে।

খবরে বলা হয়, ৪০ 'সন্ত্রাসী' কিন মা গ্রামের একটি বাড়িতে আগুন লাগায়। ওই আগুন থেকে পুরো গ্রামে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে মিয়ানমারের অবস্থা পর্যব্ক্ষেণকারী থাইল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস (এএপিপি) তাদের দৈনিক প্রতিবেদনে জানায়, ১ ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে বিক্ষোভে সামরিক জান্তার দমন অভিযানে অন্তত আট শ' ৬৫ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিক্ষোভ সংশ্লিষ্টতায় সামরিক জান্তার হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ছয় হাজার ৭৮ জন। বর্তমানে বন্দী রয়েছেন চার হাজার নয় শ' ১১ জন। এছাড়া গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে আরো এক হাজার নয় শ' ৩৭ জনের নামে।

১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তাতমাদাও দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থান ঘটায় এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে। সাথে সাথে দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্কের জেরে এই অভ্যুত্থান ঘটায় সামরিক বাহিনী।

সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরেই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা অং সান সু চিসহ বন্দী রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির পাশাপাশি সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। বিক্ষোভ দমনে সামরিক জান্তার সহিংসতার ব্যবহারে দেশটির বিভিন্ন স্থানেই বিক্ষোভকারীরা আত্মরক্ষায় অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন।

সূত্র : মিয়ানমার নাও, বিবিসি ও আলজাজিরা



আরো সংবাদ