০৮ মে ২০২১
`

মিয়ানমারে ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণার দাবি

মিয়ানমারে ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণার দাবি -

মিয়ানমারের বাগো শহরে শুক্রবার রাতভর সেনা অভিযানে কমপক্ষে আরো ৬০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন থেকে ৯১ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত বাগো শহরে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাতভর অভিযান চালায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এই অভিযানে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি মেশিনগান, গ্রেনেড এবং মর্টার শেল ব্যবহার করে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম রেডিও ফ্রি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার মিয়ানমারের বাগো শহরে বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ করেছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। রাজপথে বিক্ষোভকারীদের ব্যারিকেডও সরিয়ে দিয়েছে তারা। আন্দোলনের সময় সেসব ব্যারিকেড বিক্ষোভকারীরা রাস্তার ওপর রেখেছিলেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দার বরাত দিয়ে রেডিও ফ্রি এশিয়া জানায়, শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত স্থানীয়রা মাত্র তিনটি লাশ উদ্ধার করতে পেরেছেন। বাকিগুলো সেনা সদস্যরা স্থানীয় একটি প্যাগোডা এবং স্কুলে নিয়ে ফেলে রেখেছে।

এদিকে, জান্তা সরকারের দমনপীড়ন ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় মিয়ানমারের ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি দেশটিতে ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের দূত কিয়াও মোয়ে তুন। এছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে সামরিক সরকারের ওপর আরো চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের প্রতিনিধি বলেন, বেসামরিক এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনীর বিমান অভিযান চলছে। আরো রক্তপাত এড়াতে অঞ্চলগুলোকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা উচিত।

সেনা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করা পর্যন্ত বিদেশী বিনিয়োগ বন্ধেরও আহ্বান জানান তিনি।

গত বছরের নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আবারো ক্ষমতায় আসে। সামরিক বাহিনী এই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়ে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই মাস আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে এক বছরের জন্য দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে। তখন থেকে প্রায় প্রত্যেক দিন মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী বিক্ষোভকারীরা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন।

লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ করায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করতে শুরুর দিকে জলকামানের ব্যবহার করে। এর এক সপ্তাহ পর বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট এবং তাজা গুলি ব্যবহার শুরু করে জান্তা নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা বাহিনী। জান্তাবিরোধী আন্দোলনে দেশটিতে এখন পর্যন্ত নারী-শিশুসহ ছয় শতাধিক সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে।

থাইল্যান্ডভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যাসিসট্যান্স এসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স-এর (এএপিপি) হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার নাগাদ মিয়ানমারে নিহত হয়েছেন ৬১৮ জন। সামরিক জান্তার বন্দিশিবিরে অবস্থান করছেন ২ হাজার ৯৩১ জন।
সূত্র : পার্সটুডে



আরো সংবাদ


হেফাজতে ইসলামের নায়েবে অমির মধুপুর পীরের ছোট ছেলে গ্রেফতার রাবিতে ‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান স্থগিত দেশের ১০ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়া রোগের জিন বহন করছে ডা: মাহমুদুর রহমানের মৃত্যুতে এনডিএফ নেতৃবৃন্দের শোক ভারত সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ বাড়ল আরো ১৪ দিন পাকিস্তানের আবিদ আলীর ডাবল সেঞ্চুরি সাকিব করোনা নেগেটিভ, ফলের অপেক্ষায় মোস্তাফিজ লিচু পাড়তে না দেয়ায় খুন হলেন মামা আদালতে জামিন পাওয়া মানুষের অধিকার : বিশিষ্টজনদের অভিমত খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেয়ার প্রয়োজন আছে কিনা প্রশ্ন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর আসাদকে রক্ষায় রাশিয়ার ইসরাইলি ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার

সকল