২০ জানুয়ারি ২০২১
`

২৮ বছর পর আজারবাইজানের দখলে কারাবাখের লাচিন


নাগার্নো-কারাবাখের লাচিন অঞ্চল থেকে আর্মেনিয়ার ছেড়ে যাওয়ার সময়সীমা সোমবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। আর সোমবার মধ্যরাতের মধ্যেই ওই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে আর্মেনিয়া। আর এরপরই দীর্ঘ ২৮ বছর পর কারাবাখের লাচিন অঞ্চলের দখল নিয়েছে আজারবাইজানের সেনাবাহিনী।

আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী সোমবার স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে লাচিন অঞ্চলটি ছেড়ে চলে যায় আর্মেনিয়া। এর আগে নাগার্নো-কারাবাখের কালবাজার ও আগদাম অঞ্চলও আজারবাইজানের হাতে ছেড়ে দেয় আর্মেনিয়া।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ১৮ মে আর্মেনিয়ার বাহিনী কারাবাখের লাচিন অঞ্চল দখলের পর খানখেন্দি ও শুশা শহর দখল করে। ওই সময়ে লাচিন শহর ও এর ১২৫ গ্রামে ৬৫ হাজারের বেশি আজারবাইজানির বসবাস ছিল। দখলের আগে এই অঞ্চলটিতে আর্মেনীয় নাগরিকদের কোনো বসবাস ছিল না।

সাবেক সোভিয়েতভুক্ত দুই দেশের মধ্যে নাগার্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে যুদ্ধ চলে আসছে বহুদিন ধরে। ১৯৯১ সালে আর্মেনিয়া নাগার্নো-কারাবাখ দখল করলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ওই যুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। নাগাার্নো-কারাবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত।

পরে চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ হলেও সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর আর্মেনিয়া আজারবাইজানের সামরিক ও বেসামরিক এলাকায় হামলা চালায়। এরপরই নাগার্নো-কারাবাখে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে আজারবাইজানের সেনাবাহিনী। যুদ্ধে সুবিধা করতে না পেরে এবং বিশাল আকারে সামরিক ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে আর্মেনিয়া গত ১০ নভেম্বর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আজারবাইজানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করতে বাধ্য হয়।

টানা ৪৪ দিন চলা এই যুদ্ধে নাগার্নো-কারাবাখের ৩০০টির বেশি বসতি ও এলাকা দখলমুক্ত করে আজারবাইজানের সেনাবাহিনী। চুক্তিটি আজারবাইজানের জয় ও আর্মেনিয়ার পরাজয়ের দলিল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সূত্র : ইয়েনি শাফাক



আরো সংবাদ