১১ জুলাই ২০২০

চীন সীমান্তে উত্তেজনা : জরুরী বৈঠকে মোদি

নরেন্দ্র মোদি - ফাইল ছবি

ফের লাদাখে ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরী বৈঠকে বসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ডাকা ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন ৩ বাহিনীর প্রধান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং দ্য চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বা প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জেনারেল বিপিন রাওয়াত।

এর আগে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গেও এবিষয়ে এক পৃথক বৈঠক হয় মোদির। সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রীর আগেই ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ৩ বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা করেন। সিকিম ও লাদাখ সীমান্তে হঠাৎই চীন ও ভারতীয় সেনাদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, বেইজিং লাদাখের কাছে তাদের বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ চালাচ্ছে। এমনকী বেশ কিছু ছবিতে এও দেখা গেছে যে, কয়েকটি যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সোমবার চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে একটি নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছে যে, চীনের যেসব নাগরিকরা দেশে ফিরে যেতে চায় তাদের ফেরাতে প্রস্তুত তাঁরা।

ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী গালওয়ান এলাকায় একটি সড়ক ও সেতু নির্মাণ শুরু করতেই সে বিষয়ে চরম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে চীন। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। শুধুমাত্র স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তার জন্যেই এই রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়", এনডিটিভিকে জানান ভারতের এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা।

৯ মে, একটি ভারতীয় টহল দলের কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন কর্মীর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে চীনা সেনারা।
ভারতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, ভারত-চীন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে চীনের সেনাবাহিনী।

জানা গেছে যে চীনের পক্ষ থেকে সীমান্তের গালওয়ান নদীর কাছেও তাঁবু খাটানোর চেষ্টা করা হয়। এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযোগ ছিল যে, চীনা হেলিকপ্টারগুলি লাদাখের বিতর্কিত অঞ্চলে প্রবেশ করে ঘোরাফেরা করছে।

একটি সাক্ষাৎকারে, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আরকেএস ভাদৌরিয়া বলেন, ‘(চীনা) হেলিকপ্টারের আনাগোণা লাদাখে ক্রমেই বাড়ছে।’

এরপরেই ভারতীয় সেনাবাহিনী গালওয়ান অঞ্চলে সেনা সংখ্যা বাড়িয়ে সেখানকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করে। ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের সময় এটা ছিল একটি ফ্ল্যাশপয়েন্ট। পাশাপাশি প্যাংগ তসো এবং ডেমচোকের উত্তর দিকেও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এনডিটিভি অনলাইন


আরো সংবাদ