১৫ আগস্ট ২০২০

তালেবানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি ২৯ ফেব্রুয়ারি

অস্ত্র বিরতি সপ্তাহ শুরু শনিবার
-
24tkt

আফগানিস্তানে সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধহ্রাস শেষে আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ও তালেবানের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এ কথা জানিয়েছেন। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে এক সপ্তাহব্যাপী অস্ত্র বিরতি কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে বলে শুক্রবার এক আফগান কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

আংশিক যুদ্ধবিরতি যদি এগিয়ে যায়, তবে এটি আফগানিস্তানের ১৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা মারাত্মক সংঘাতের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসাবে চিহ্নিত হবে এবং একটি চুক্তির পথ তৈরি করবে যার ফলে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের মতো পরিস্থিতি দেখা যাবে।

আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জাভেদ ফয়সাল এএফপিকে বলেছেন, সহিংসতা হ্রাসে শান্তি বজায় রাখার কার্যক্রম ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে এবং এক সপ্তাহব্যাপী চলবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও আফগানিস্তানের সরকার এই ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। পাকিস্তানে তালেবানের একটি সূত্র এএফপিকে নিশ্চিত করেছে যে, শনিবার থেকে আংশিক যুদ্ধ বিরতি শুরু হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তালেবানের সাথে এমন একটি চুক্তি সম্পন্নের ব্যাপার নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে; যাতে তারা তালেবানের দেয়া নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও প্রতিশ্রুতিগুলোর বিনিময়ে আফগানিস্তানে মোতায়েনকৃত কয়েক হাজার মার্কিন সেনা সরিয়ে নেবে। তালেবান তাদের বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কিনা এবং যে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বিশ্বাসের যথাযথ মূল্য প্রদর্শন করতে পারে কিনা সহিংসতা হ্রাস সপ্তাহ দ্বারা তার প্রমাণ মিলবে। এটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে আফগানিস্তানে বর্তমানে মোতায়েনকৃত ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার সেনার প্রায় অর্ধেককে প্রত্যাহার করে নেবে পেন্টাগন।

আফগান কর্মকর্তারা বলেছেন, যুদ্ধ হ্রাস করার পরিকল্পনাটি যথাযথভাবে এগিয়ে গেলে ২৯ ফেব্রুয়াারি দোহায় মার্কিন-তালেবান চুক্তি চূড়ান্ত করা যেতে পারে বলে ধরে নেয়া যায়।

পাকিস্তানের তালেবান সূত্র জানায়, ‘উভয় পক্ষই ২৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়েছে। বিস্তৃত শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে আলোচনা ১০ মার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

অস্ত্রবিরতি হচ্ছেই
পাকিস্তানে দ্বিতীয় তালেবান কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, অস্ত্র বিরতি সপ্তাহ সম্ভবত রোববারের আগে শুরু হতে পারে না। তবে শনিবার বা রোববার যেদিনই শুরু হোক না কেন, তালেবান নেতৃবৃন্দ মূলত সহিংসতা হ্রাস শুরু করতে এবং চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছে। ফলে এটি ঘটছে।

তালেবানদের কেন্দ্রভূমি হিসাবে পরিচিত আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারের একজন তালেবান এএফপিকে বলেছিল যে, তিনি যুদ্ধ বিরতিতে যাওয়ার আদেশ পেয়েছেন। সূত্রটি জানিয়েছে, ‘আমাদের নেতৃত্বের কাছ থেকে আমরা আদেশ পেয়েছি যে শনিবার থেকে সহিংসতা হ্রাস সপ্তাহ শুরু হবে এবং এর জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে।’

এর আগেও সহিংসতা বন্ধের আলোচনার ধারাবাহিকতায় একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানরা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে চুক্তির জন্য নির্ধারিত সময়ের এগারো ঘণ্টা আগে কেবলমাত্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনাগ্রহের কারণে চুক্তিটি স্থগিত হয়ে বাস্তবতার মুখ দেখতে পারেনি।

যেকোনো যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে নতুন করে খারাপ পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই বিশ্লেষকরা হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন যে, আফগানিস্তানে রক্তপাত বন্ধ করার প্রচেষ্টা জটিলতার ঘূর্ণিপাকে আবদ্ধ এবং যে কোনো সময় এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে। এসবের খারাপ দিক হচ্ছে- যুদ্ধক্ষেত্রে নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় সুবিধা পাওয়ায় যুদ্ধরত দলগুলি তাদের বাহিনীকে পুনরায় সুবিন্যস্ত করতে পারে এবং নতুন করে পরিকল্পনা নিয়ে সুসজ্জিত করতে পারে।

বৃহস্পতিবার তালেবান উপ-নেতা বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের সাথে একটি চুক্তি করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তালেবান।

সিরাজউদ্দিন হাক্কানী নিউ ইয়র্ক টাইমসে একটি মতামতে লিখেছেন, আমরা দুই দশক ধরে শত্রুদের সাথে এইরকম কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি। তারপরও আকাশ থেকে বিমান হামলায় লাশের মিছিল বড় হয়েছে। তবুও তাদের সাথে শত্রুতার অবসান এবং আমাদের দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছি।

সূত্র : এএফপি 


আরো সংবাদ