১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

মুচি হয়েও বিখ্যাত কবি

মনোয়ার হোসাইন শাকিল - ছবি : নয়া দিগন্ত

প্রতিভা কখনো ধনী-গরিব মানে না। যেকারো মধ্যেই নানা প্রতিভা থাকতে পারে। চাই সে সমাজের চোখে যত ছোট শ্রেণিরই হোক না কেন। তবে, যারা নিজের মেধা ও সুপ্ত প্রতিভা অনুভব করে সঠিক সময়ে তার বিকাশ ঘটাতে পারে তারাই সফল হয়। সমাজের স্বাভাবিক রীতিনীতি ভেঙে সবার চোখে সে তখন হয়ে যায় সম্মানিত।

সম্প্রতি পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে তেমনই এক ব্যক্তি বিভিন্ন দেশে বিপুলভাবে প্রশংসিত হচ্ছেন। তিনি পেশায় মুচি। দারিদ্রতা ঘোচাতে বংশপরম্পরায় এ কাজ ধরে রেখেছেন। পরিবারের সবার মুখে দুমুঠো আহার জোগাতে সারা দিন পথচারীদের জুতা সেলাই, পরিষ্কার করেন তিনি। আর, রাতে ঘরে ফিরে করেন কবিতা চর্চা।

প্রতিভাবান এ কবির নাম মনোয়ার হোসাইন শাকিল। ধর্মে মুসলিম। কবিতার ভাষায় সমাজের নানা অসঙ্গতি, দেশপ্রেম ও ধর্মের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম উর্দু পয়েন্ট কবি মনোয়ার হোসাইন শাকিলের একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। তাতে বলা হয়, শাকিল পাঞ্জাবি ভাষায় এ পর্যন্ত সাতটি কবিতার বই লিখেছেন। যার মধ্যে পাঁচটি পাকিস্তানের নামকরা কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

শাকিল নিজের প্রতিভার জন্য অনেক সম্মাননাও কুড়িয়েছেন। নিজের কর্মস্থলে গল্প, উপন্যাস ও কবিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের বই রাখেন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে ওই সব বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করেন। নিজের দেশ ও পৃথিবীকে জানার চেষ্টা করেন। শাকিল বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক তার কোনো পড়াশোনা নেই। দারিদ্রতার কারণে মা-বাবা তাকে পড়াতে পারেননি। তবে, শত কষ্ট হলেও নিজের সন্তানদের পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত করতে চান না তিনি।

শাকিল বলেন, লোকেরা আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে সংকোচ বোধ করে। এ কারণে অন্যান্য ভাষার প্রভাবে আঞ্চলিক ভাষার ঐতিহ্য হারিয়ে যায়। আমি পাঞ্জাবি ভাষায় কবিতা লিখি আঞ্চলিক ভাষার ব্যাপক প্রসারের জন্য। কেউ যেন এ ভাষায় কথা বলতে সংকোচ বোধ না করে। আঞ্চলিক ভাষার ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায়।



আরো সংবাদ