২২ অক্টোবর ২০২১, ৬ কার্তিক ১৪২৮, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

নিঃস্বর্গ গীরিদেশ

নিঃস্বর্গ গীরিদেশ - ছবি : সংগৃহীত

পাহাড়, নদী, ঝর্ণা ঘিরে তিন পার্বত্য জেলা;
‘প্রকৃতি’টা করছে সেথায় অপার রূপের খেলা।
খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি কিংবা বান্দরবান;
মুগ্ধ দেখে রূপের বাহার, স্নিগ্ধ জীবন-প্রাণ।
চিম্বুক পাহাড়, কেওক্রাডং, সাকাহাফং-এর চূড়ায়;
মেঘের-রানী জড়িয়ে ধরে মনের জ্বালা জুড়ায়।
ক্লান্ত পথিক থমকে দাঁড়ায় আলুটিলা বটমূলে;
হৃদয় পাগল প্রেমিক খোঁজে চেঙ্গী নদীর কুলে।
চাকমা, ত্রিপুরা, পেংকুয়া, লুসাই, মারমা, মুরং, চাক;
বোম, তংচঙ্গা, খুমী, খেয়াং, কুকী, অসমীয় সুখে থাক।
পাহাড় ঢালে বসত ভিটায় নানা জাতির বাস;
কারো হাতে খুন্তি-কুড়াল, কেউবা খেলে তাস।
সহজ-সরল মানুষগুলো, মন যে তাদের ভালো;
কাপ্তাই লেকের ‘জলবিদ্যুৎ’ করছে দেশে আলো।
‘বোমাং’-‘মং’-‘চাকমা’ রাজার রাজমুকুটের নামে;
সকল জাতির সুখের ঐক্য, ব্যস্থ কাজ-কামে।
রাজা, প্রজা মিলে-মিশে একটি পরিবার;
বছর শেষে রাজা বসে হিসাব মিলাবার।
রাজপূণ্যাতে হয় যে ‘মেলা’, ‘জমে ভিশন ভিড়’;
লতা, পাতার, কুঁড়ে ঘরেই সবার সুখের নীড়।।
পাহাড়ী, বাঙ্গালী, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান;-
সবাই মিলে বাংলাদেশী- একই জন্মস্থান।
মানিকছড়ি, মহালছড়ি, লক্ষীছড়ি, বরকল;
মাছের ডিমে ভরছে দু-কুল ‘হালদা’ নদীর জল।
বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, কাউখালী, লংগদু;-
মাইনী নদীর নৌকায় হাসে নানিয়ারচর-এর বধু।।
লামা, রুমা, রোয়াংছড়ি, থানছি, আলীকদম;
নাইক্ষ্যংনছড়ি, আন্দারমানিক হাঁটতে ফুরায় দম।
রাজস্থলী, রামগড়, পানছড়ি, দীঘিনালা;
মাটিরাঙ্গার ললনারা ফাটায় গানের গলা।
কর্ণফুলীর স্বচ্ছ জলে দুলছে নৌকার পালে;
মাতামুহুরী, বাকখালী, সাঙ্গু নদীর ঢালে।
বাঘ, ভালুক, হাতি, গয়াল, হরিণ, ময়না পাখি;
ইতিহাসের পাতায় এখন করছে ডাকাডাকি।
একটি-দুটি হাতি, কিংবা ক্ষুদ্র গ্যাচো বাঘ;
হঠাৎ যদিও দেখা মিলে, বাড়ায় মানব রাগ।
বিরান হলো- শাল, গজারী, বেত আর বাঁশের বন;
কেঁদে মরে শূন্য পাহাড়, উজাড় করে মন।
চোরা কাঠের লোভের ফলে বন হলো ছারখার;
পাহাড় কেটে ইট পুড়ায়, দোজখের কারবার।
এমনিভাবে ধ্বংস হলো স্বর্গসম দেশে;
সৃষ্টিকর্তাই ধরবে একদিন সকল কর্ম শেষে।



আরো সংবাদ