২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
`

হাইতি : প্রধানমন্ত্রীকে শাস্তি দিতে গিয়ে নিজেই বরখাস্ত!

প্রসিকিউটর - ছবি : সংগৃহীত

গত ৭ জুলাই নিজের বাসভবনে নিহত হন হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইজে৷ ক্যারিবীয় দেশটি সেই থেকে আবার চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার ঘূর্ণাবর্তে৷

প্রেসিডেন্ট হত্যায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে ১৮ জন কলম্বিয়ার, দুজন যুক্তরাষ্ট্রের আর বাকি ২৪ জন হাইতির নাগরিক৷

কিন্তু প্রসিকিউটর চেয়েছিলেন নাটের গুরুকে ধরতে৷ সত্যানুসন্ধানে নেমে মনে হয়েছিল খোদ প্রধানমন্ত্রীও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নন। আর তাতেই বাধে বিপত্তি৷

মঙ্গলবার এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী আরিয়েল হেনরিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন প্রসিকিউটর৷ বিচারক গ্যারি ওরেলিয়েনকে তিনি লিখেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত এমনটি মনে করার মতো যথেষ্ট আলামত তার কাছে রয়েছে৷

তিনি জানান, রেকর্ড করা ফোন কল বলছে, প্রেসিডেন্ট নিহত হওয়ার কিছুক্ষণ আগে মূল সন্দেহভাজনদের একজনের সাথে দুবার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ প্রথমবার ৭ জুলাই ভোর চারটা তিন মিনিটে আর দ্বিতীয়বার চারটা ২০ মিনিটে৷ এ মুহূর্তে পলাতক জোসেফ বাডিও নামের সেই সন্দেহভাজন প্রেসিডেন্টের বাসার খুব কাছেই ছিলেন৷ এর একটু পরেই একদল লোক প্রেসিডেন্টকে বাসায় ঢুকে গুলি করে হত্যা করে৷

মূল সন্দেহভাজনদের একজনের সাথে কথোপকথনের কারণ অন্বেষণের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর হাইতির বাইরে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও সুপারিশ করেছিলেন প্রসিকিউটর৷

কিন্তু হাইতির সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের অনুমতি ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায় না৷ দেশে এখন কোনো প্রেসিডেন্ট নেই, তাই সাংবিধানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করাও সম্ভব নয়৷

এই পরিস্থিতির ‘সুবিধা' নিয়ে বুধবার প্রধানমন্ত্রী আরিয়েল হেনরি উল্টে প্রসিকিউটরকেই বরখাস্ত করে দেন৷ এক চিঠিতে বেড-ফোর্ড ক্লাউডেকে তিনি লিখেছেন, ‘আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আপনাকে আপনার (প্রসিকিউটরের) পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷'

এদিকে প্রসিকিউটরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইতির বিচার মন্ত্রী রকফেলার ভিনসেন্ট৷ মন্ত্রণালয় মনে করে প্রসিকিউটরের জীবন এখন ঝুঁকির মুখে, কারণ, গত পাঁচ দিনে তাকে নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয়েছে৷
সূত্র : ডয়চে ভেলে



আরো সংবাদ