২৯ মার্চ ২০২০

গণপরিবহন এড়িয়ে চলার পরামর্শ

-

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গণপরিবহন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কর্মকর্তারা। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন নতুন দেশ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে এখনো এই ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলেও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় সতর্কতা অবলম্বন করা ছাড়া বিকল্প নেই। এরই অংশ হিসেবে সম্ভব হলে গণপরিবহন এড়িয়ে চলতে হবে।
পরিচালক আরো বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এলেই করোনা সংক্রমিত ধারণা করা সঠিক নয়। তবে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। তাই বিদেশ থেকে এলে নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার এবং গাড়ির জানালা খুলে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিকে এগিয়ে আনতে পরিবার কিংবা স্বজনদের বিমানবন্দরে না যাওয়াই ভালো। এতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়িয়ে চলা যাবে।
ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা: ফ্লোরা বলেন, দেশটিতে প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এটি অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের। এ ছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্ত দেশ ও রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালির পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং প্রতিদিন এসব দেশে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে করোনা নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পরিচালক বলেন, এ নিয়ে গুজবে কান না দিয়ে আইইডিসিআরের তথ্যে ভরসা রাখুন। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ১১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে কারো শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। বিদেশের আক্রান্ত অঞ্চল থেকে আগত ব্যক্তিদের জ্বর, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট থাকলে তাদের আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
আতঙ্কিত হবেন না, করোনায় আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী সাধারণ চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, কেউ আতঙ্কিত হবেন না। ভয় পাবেন না। যাদেরকে শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের অবস্থা ভালো আছে। তারা নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এই রোগের সবচেয়ে বড় প্রতিকার হচ্ছে সতর্ক থাকা। সতর্কতা বিষয়ে যেসব নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে, সেগুলো সাধ্যমতো মেনে চলার চেষ্টা করুন।


আরো সংবাদ