০৬ এপ্রিল ২০২০

তারকা হোটেলগুলোতে কমছে অতিথির সংখ্যা

-

করোনাভাইরাসের প্রভাবে প্রতিনিয়ত রাজধানীর তারকা হোটেলে কমছে অতিথির সংখ্যা। এখন নতুন করে অতিথি না এলে হোটেলগুলো শূন্য হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে চিন্তিত হোটেল মালিকরা। আর্থিক ক্ষতির মুখে কর্মীদের বেতনভাতা নিয়ে শঙ্কিত আছেন তারা। ইতোমধ্যে খরচ কমাতে কোনো কোনো হোটেলে কর্মী কমানো হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক হোটেলের কর্মীরা জানিয়েছেন, হোটেলে নতুন কোনো বুকিং হচ্ছে না, অতিথিও না থাকার মতো। ফলে হোটেলগুলোতে জনবল তেমন প্রয়োজন হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়ে গেছে, ফলে অনেকেই বিপদে পড়ছেন।
সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত হোটেলগুলোর অতিথির চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে জানুয়ারি মাস থেকে তারকা হোটেলগুলোতে অতিথিদের আগাম বুকিং বাতিলের হিড়িক পড়ে। একই সাথে কমতে থাকে নতুন করে অতিথিদের বুকিং।
বাংলাদেশের সাথে ফ্লাইট বন্ধ করেছে কয়েকটি দেশ। এ দিকে ইউরোপে ফ্লাইট বন্ধ করেছে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় তারকা হোটেলগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যবসায়িক কাজে বিদেশীরা বেশি আসেন। তারকা হোটেলে তারা থাকার পাশাপাশি ব্যবসায়িক মিটিং করেন। এ ছাড়া পর্যটকরাও ঘুরতে এসে অনেকে তারকা হোটেলে ওঠেন। অন্য দিকে হোটেলের বলরুমগুলোতে হয় নানা রকম মেলা, সভা, সেমিনার ও অনুষ্ঠান। প্রায় প্রতিটি হোটেলেই এ সময়ে ৭০-৮০ শতাংশ রুমে অতিথি থাকেন। কোনো কোনো হোটেলে শতভাগ রুম অতিথিতে পরিপূর্ণ থাকে। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবে ক্রমাগত বুকিং বাতিল হয়েছে। নতুন করে অতিথিরা বুকিং করছেন না। যারা খুব প্রয়োজনে এসেছিলেন তারাও সফর সংক্ষিপ্ত করে নিজে দেশে ফিরে যাচ্ছেন।
রাজধানীর তারকা হোটেল স্যারিনার নির্বাহী পরিচালক মাশকুর সারওয়ার বলেন, প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি খুবই খারাপ হচ্ছে। ক্রমাগত অতিথি কমছে। পুরনো বুকিং তো বাতিল হচ্ছেই, নতুন কোনো বুকিং হচ্ছে না। দেশের প্রায় সব হোটলেই এ অবস্থা বিরাজ করছে। অবস্থার উন্নতি না ঘটলে বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়তে হবে।
তারকা হোটেলগুলোর মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিহা)। এই সংগঠনের সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে বিদেশী অতিথিদের বেশির ভাগই আসেন চীন, জাপান, ভারত, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও শ্রীলঙ্কা থেকে। সাধারণত বছরের এ সময়ে ৭০ শতাংশের বেশি রুমে অতিথি থাকলেও করোনার প্রভাবে সেটি ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। কার্যত সারাবিশ্ব বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, যার কারণে অতিথি আসছে না। বরং সবাই আটকা পড়ার ভয়ে নিজ থেকে ফিরে যাচ্ছেন। আগামী এপ্রিল পর্যন্ত এ পরিস্থিতি থাকলে হোটেলগুলো একেবারেই অতিথি শূন্য হয়ে পড়বে।
হোটেলগুলোকে অতিথি জোগান দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ট্যুর অপারেটররা। দেশে আসা পর্যটকদের জন্য তারা হোটেলের রুম বুক করেন। করোনার প্রভাবে পর্যটকরা বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত বাতিল করায় ট্যুর অপারেটরদের বাতিল করতে হচ্ছে হোটেল বুকিং।

 


আরো সংবাদ