২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঢাকায় দিনের চেয়ে রাতে বায়ুদূষণের পরিমাণ বেশি

-

ঢাকা বায়ুদূষণের সূচকে শীর্ষে থাকার অন্যতম একটি কারণ এই ধুলা। ধুলার কারণে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া, বৃদ্ধি ও ফুল-ফল প্রদান প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখো গেছে, গাছের পাতায় জমে থাকা ধুলার কারণে ঢাকার বাতাস হয়ে পড়ে আরো বিষাক্ত। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার গাছের পাতায় প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৪৩৬ টন ধুলা জমে। তার একটা বড় অংশ বাতাস এবং যানবাহনের কারণে উড়তে থাকে। এ কারণে গবেষণায় পাওয়া গেছে ঢাকায় দিনের চেয়ে রাতে বায়ুদূষণের পরিমাণ বেশি।
ঢাকার গাছে প্রতিদিন ৪৩৬ টন ধুলা জমে। সেই হিসাবে মাসে ১৩ হাজার টন ধুলা জমার হিসাব পেয়েছে গবেষকরা। এই জমে থাকা ধুলা দিনের বেলা বাতাসের সাথে মিশে যেমন দূষণ বাড়ায়, তেমনই রাতে গাড়ির অতিরিক্ত গতির সঙ্গে বাতাসে উড়তে থাকে। আর তাই দিনের থেকে রাতে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যায়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) ঢাকার চারটি পার্ক ও উদ্যানে বিভিন্ন প্রজাতির ৭৭টি গাছের পাতা সংগ্রহের পর ফেব্র“য়ারি মাসে এই গবেষণা পরিচালনা করে। ঢাকার গুলিস্তান পার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যান, রমনা পার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের বিভিন্ন প্রজাতির ৭৭টি গাছের পাতার ওপর গবেষণা সম্পন্ন করা হয়। গবেষণায় নমুনা হিসাবে রাস্তাসংলগ্ন পার্ক ও প্রাচীরের ভেতরের গাছের পাতা ও রাস্তা হতে প্রায় ১০০ মিটার ভেতরে অবস্থিত গাছের পাতা সংগ্রহ করা হয়।
সবচেয়ে ধুলাপ্রবণ পার্ক হচ্ছে গুলিস্তান পার্ক। রমনা পার্ক ছাড়া বাকি তিনটি পার্কে রাস্তা হতে প্রায় ১০০ মিটার ভেতরে গাছের পাতায় ধুলার উপস্থিতি কম পাওয়া যায় এবং রাস্তাসংলগ্ন গাছের পাতায় উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে। কিন্তু রমনা পার্কের ভেতরের গাছের পাতায় ধুলার উপস্থিতি বেশি ছিল। গবেষণায় আম পাতায় প্রতি বর্গমিলিমিটারে ৩৫ দশমিক ৭৭ মাইক্রোগ্রাম, দেবদারু গাছের পাতায় প্রতি বর্গ মিলিমিটারে ১৮ দশমিক ৬৯ মাইক্রোগ্রাম, কাঁঠাল পাতায় প্রতি বর্গ মিলিমিটারে ৮ দশমিক ৮৪ মাইক্রোগ্রাম, মেহগনি গাছের পাতায় প্রতি বর্গ মিলিমিটারে ৭ দশমিক ৭০ মাইক্রোগ্রাম, বকুল পাতায় প্রতি বর্গ মিলিমিটারে ৩ দশমিক ৬ মাইক্রোগ্রাম পরিমাণ ধুলার উপস্থিতি পাওয়া যায়।
গবেষক দলের প্রধান ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এবং স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার জানিয়েছেন, আগে ৫৮ শতাংশ বায়ুদূষণ বলা হচ্ছিল ইটের ভাটার কারণে। পুরনো যানবাহন এখন ১ নম্বর সোর্স। যানবাহন বন্ধ থাকলে ৪৫-৫০ শতাংশ বায়ুদূষণ কমে যাবে। সাভেতে দেখা গেছে, ঢাকায় এখনো ৪৬টি লোকেশনে প্রধান সড়কগুলো খোঁড়াখুঁড়ি অবস্থায় আছে। এগুলো ন্যূনতম এক মাস আগে খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কিছু কিছু রাস্তা আছে, যেগুলো প্রায় তিন মাস আগে খোঁড়া হয়েছে। এগুলো অরক্ষিত অবস্থায় থাকার কারণে গাড়ি যখন চলে তখন প্রচুর ধুলাবালু আসে। এ ধুলাবালু রাস্তার পাশের গাছেও জমা হয়। রাতে যখন যানবাহন কম থাকে, তখন কিন্তু বায়ুদূষণ কমে যায় না।
রাতে বায়ুদূষণ না কমার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘দিনের বেলা যে ধুলাগুলো গাছের ওপর জমা হয়, রাতে কিছু গাড়ি শহরের ভেতরে অনেক দ্রুত গতিতে চলে। তখন রাস্তার পাশের গাছে যে ধুলাবালু দিনের বেলা জমা হয়, সেগুলো উড়তে থাকে। ফলে রাস্তায় যেই ধুলা থাকে সেটা গতির কারণে উড়তে থাকে, গাছের পাতার ধুলাগুলোও উড়তে থাকে। স্টাডিতে এসেছে যে, গাছের পাতায় প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৪৩৬ মেট্রিক টন ধুলা জমে। তার একটা বড় অংশ বাতাস এবং যানবাহনের কারণে উড়তে থাকে। এ কারণে গবেষণায় পাওয়া গেছে ঢাকায় দিনের চেয়ে রাতে বায়ুদূষণের পরিমাণ বেশি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাখহরি সরকারের মতে, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছ তার নিজের জন্য খাবার তৈরি করে এবং অক্সিজেন ছেড়ে দেয় বাতাসে। এখন পাতার ওপর যদি ধুলার আস্তর পড়ে, তা হলে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যাবে। সেটা বন্ধ হয়ে গেলে গাছ বাতাসে অক্সিজেন ছাড়তে পারবে না। তা ছাড়া, গাছ সূর্যের আলোও গ্রহণ করতে পারবে না। সূর্যের আলো ছাড়া গাছ সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে না। গাছের পরিচর্যার জন্য ধুলা যতখানি কমানো যায়, সেই ব্যাপারে কাজ করতে হবে। যেসব জায়গায় নিচে থেকে পানি স্প্রে করা সম্ভব, সেখানে স্প্রে করা যেতে পারে।

 


আরো সংবাদ