০৬ এপ্রিল ২০২০

আসন্ন বর্ষায় ঢাকা উত্তরে জলাবদ্ধতার শঙ্কা

-

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা হতে পারে এমন ১১টি এলাকা চিহ্নিত করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এসব এলাকায় আগের বছর জলাবদ্ধতা বেশি হয়েছিল। এখনো জলাবদ্ধতার কারণগুলোর সমাধান হয়নি। ডিএনসিসির কর্মকর্তারা বলছেন, এ জন্য সরকারের একাধিক সংস্থার দায় রয়েছে। এই ১১ এলাকায় জলাবদ্ধতার সঙ্গে ডিএনসিসি ছাড়াও ঢাকা ওয়াসা, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, হাতিরঝিল প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এই তালিকা ডিএনসিসির পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগে জমা দেয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতার প্রতিকারে করণীয়ও নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শরীফ উদ্দীন বলেন, এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে আগের বছরেও ভোগান্তি হয়েছে। এলাকাগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারের অন্যান্য সংস্থা আন্তরিক না হলে একা সিটি করপোরেশনের পক্ষে এর সমাধান সম্ভব নয়।
নয়াটোলার শহীদ আবদুল ওহাব রোডে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা হয়। ওয়াসার সরু পাইপ, বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধকতায় এই অবস্থা হচ্ছে। প্রতিকার হিসেবে ওহাব রোড এবং নয়াটোলা জাহাবক্স লেনে অধিক ব্যাসের পাইপ বসানো, নয়াটোলা শাহ সাহেববাড়ী রোডে চল্লিশ ঘর মসজিদসংলগ্ন, আমবাগানের ২২৭/বি হোল্ডিংসংলগ্ন সংযোগ হাতিরঝিলে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
পানি নির্গমনের পথ না থাকায় নিউ ইস্কাটনের বিয়াম গলিতে জলাবদ্ধতা হয়। বিয়াম গলির পশ্চিম পাশের ৬৩ নম্বর হোল্ডিং এবং রহমতুল্লাহ হাফিজিয়া মাদরাসা মসজিদের পাশের সংযোগটি হাতিরঝিলের সঙ্গে মেলাতে হবে। মধুবাগ প্রধান সড়কে ওয়াসার সরু পাইপের কারণে জলাবদ্ধতা হয়। বড় ব্যাসের পাইপ বসানো এবং মধুবাগ জামে মসজিদের পাশের হাতিরঝিলে যুক্ত নির্গমন পথটি সংস্কার করতে হবে।
কাওরানবাজারের টিসিবি ভবন থেকে সোনারগাঁও হোটেলের পূর্ব পাশে পানি নিষ্কাশনের পাইপটি সরু, পানির চাপের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে বৃষ্টিতে এফডিসি সংলগ্ন রেলগেট থেকে সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত দুই থেকে তিন ঘণ্টার অস্থায়ী জলাবদ্ধতা হয়। এ জন্য বিদ্যমান লাইনটি সংস্কার করে নতুন তিনটি নির্গমন পথ নির্মাণের সুপারিশ করেছে ডিএনসিসি।
হাতিরঝিল প্রকল্পের আগে কারওয়ান বাজার এলাকার পানি সরাসরি হাতিরঝিলে যেত। হাতিরঝিল প্রকল্পের পর সরাসরি পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যায়। কাওরানবাজারের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সামনে থেকে সোনারগাঁও হোটেলসংলগ্ন স্থায়ী নির্গমন পথ পর্যন্ত পাইপলাইন বসানো হলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হতে পারে।
বিমানবন্দর সড়কের আর্মি স্টেডিয়াম থেকে বনানী ২৭ নম্বর পর্যন্ত সড়কের পশ্চিম পাশে প্রাকৃতিক জলাশয় ছিল। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজের সময় এই জলাশয় ভরাট করে। পরে ডিএনসিসির নির্দেশনায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ ভরাট করা মাটি কিছুটা সরালেও আগের মতো প্রশস্ত ও গভীর হয়নি।
এই প্রকল্পের পরিচালক এ এইচ এম শাখাওয়াত আকতার বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। এই এলাকায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা থাকার কথা নয়।
ঢাকা ওয়াসার সরু নির্গমন পথের কারণে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণির হলিডে ইন হোটেল, পশ্চিম নাখালপাড়া ৬ নম্বর গলি থেকে ৮ নম্বর গলি হয়ে পাগলার পোল পর্যন্ত, পূর্ব ও পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে। বৃষ্টির পানি নির্গমনের পথ না থাকায় উত্তর বেগুনবাড়ি এলাকা ও মণিপুরীপাড়ায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে। পান্থকুঞ্জ পার্ক, কাঁঠালবাগান, পান্থপথ হয়ে রাসেল স্কয়ার পর্যন্ত বক্স কালভার্ট ভরাট হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি আকতার মাহমুদ বলেন, গত বর্ষার পরে অনেক সময় পেরিয়েছে। এত দিনে উদ্যোগ নিলে চিহ্নিত এলাকাগুলোর জলাবদ্ধতার সমাধান হতে পারত। এখনো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে, উদ্যোগ নিলে বর্ষার আগেই সমাধান সম্ভব।


আরো সংবাদ