০৫ এপ্রিল ২০২০

কলেবর কমলেও বেড়েছে প্রবেশমূল্য

-

এ বছর মেলায় প্রবেশের মূল্য বৃদ্ধি করে নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা। আর অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। ক্রেতাদের খোলামেলা পরিসরে কেনাকাটার সুযোগ করে দিতে এবার স্টলের সংখ্যা কমানো হয়েছে। গত বছর ৬৩০টি ছোট-বড় স্টলের পরিবর্তে এবার করা হয়েছে ৪৮৩টি। সব মিলিয়ে কলেবর কমলেও প্রবেশ মূল্য বেড়েছে। মেলা ঘুরে লিখেছেন মাহমুদুল হাসান
এবারের মেলার প্রধান গেট তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে। ফটকের দুই পাশের দুই গেটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতীকের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে পদ্মা সেতুর প্রতীকী কাঠামো। দুই স্মৃতিসৌধকে যুক্ত করছে পদ্মা সেতু দিয়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রাম আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামকে স্মৃতিসৌধের মাধ্যমে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মেলায় ৪৮৩ স্টলের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন ১১২টি, মিনি প্যাভিলিয়ন ১২৮টি এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ২৪৩টি। গত বছর ২৫০টি সাধারণ স্টল থাকলেও এবার মাত্র ৫০টি স্টল রাখা হয়েছে। ইপিবি জানায়, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইরান, তুরস্ক, মরিশাস, ভিয়েতনাম, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাণিজ্য মেলার ২৫তম এই আসরে অংশ নিচ্ছে।
মেলায় আসা দেশী-বিদেশী অংশগ্রহণকারী ও দর্শনার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। দর্শনার্থীদের মনোরঞ্জন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার জন্য এবার দু’টি ফোয়ারা, ইকোপার্ক, বিশ্রামাগার, মা ও শিশু কেন্দ্র, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার ও শিশুপার্ক রাখা হয়েছে মেলার ভেতরে। জনপ্রতি ১৫ টাকা করে টিকিট কিনে শিশুপার্কে খেলতে পারছে মেলায় আগত শিশুরা।

প্যাভিলিয়ন বিদেশী ভেতরে সব বাংলাদেশী
বাণিজ্যমেলায় বিদেশীরা প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ নিয়ে বাংলাদেশীদের কাছে স্টল বিক্রি করেছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই সেসব স্টলে বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশী পণ্য। মেলা ঘুরে দেখা গেছে, মেলায় অংশ নিয়েছে ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, ভুটান, নেপাল, চীন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, মালয়েশিয়া, ইরান, তুরস্ক, মরিশাস, ভিয়েতনাম, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়া। আর আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ।
বিদেশী প্যাভিলিয়ন নম্বর ৬ বরাদ্দ নিয়েছেন বিদেশীরা। তবে বাংলাদেশী পণ্যে সয়লাব। বিদেশী প্যাভিলিয়নে কেন বাংলাদেশী পণ্য জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রয়কর্মী বলেন, এই প্যাভিলিয়ন বিদেশীরা বরাদ্দ নিয়ে বাংলাদেশীদের কাছে স্টল বিক্রি করেছেন। তাই তারা বাংলাদেশী পণ্য বিক্রি করছেন। মেলায় প্যাভিলিয়ন নম্বর ৫ ভুটান প্যালেস। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি স্টলে রয়েছে সব বাংলাদেশী। সেখানকার বিক্রয়কর্মীরাও বাংলাদেশী। তাদেরও একই বক্তব্য, বিদেশীরা প্যাভিলিয়ন নিয়ে বাংলাদেশীদের কাছে বিক্রি করেছেন। তাই তারা বাংলাদেশী পণ্য বিক্রি করছেন।
প্যাভিলিয়ন নম্বর ১৫, দক্ষিণ কোরিয়া। সেখানে গিয়েও দেখা মিলেছে বাংলাদেশী পণ্য আর বাংলাদেশী বিক্রয়কর্মীদের। ভারতীয় প্যাভিলিয়নে শাড়ি, ক্রোকারিজের পণ্য, জুতার স্টলে ভারতীয় কিছু বিক্রয়কর্মী রয়েছেন।

নিম্নমানের পণ্য
২৫তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। দেশী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশী প্যাভিলিয়নেও বিক্রি হচ্ছে নিম্নমানের বিভিন্ন পণ্য। যদিও মেলা শুরুর আগে আয়োজক রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়, নিম্নমানের পণ্য নিরুৎসাহিত করে এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার গুণগত মান বাড়ানো হয়েছে। বিদেশী প্যাভিলিয়নে দেশী পণ্য বিক্রি করতে দেয়া হবে না।
সরেজমিন বাণিজ্যমেলা ঘুরে দেখা গেছে, একাধিক বিদেশী প্যাভিলিয়নে নিম্নমানের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বিক্রেতারা হাঁকডাক ছেড়ে ক্রেতা আকর্ষণ করছেন। রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিল, ফার্মগেটের ফুটপাথের ব্যবসায়ীদের মতো ‘দেইখ্যা লন, বাইছা লন এক দাম’ এমন স্লোগান তুলে ক্রেতাদের ডাকছেন বিদেশী প্যাভিলিয়নের বিক্রেতারা। মেলায় নিম্নমানের হকারি পণ্য বিক্রি হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মেলার সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, মেলায় যাতে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি না হয় সে জন্য ভোক্তা অধিদফতর আছে। কেউ নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করলে তারা ব্যবস্থা নেবে। তবে একটি বিষয় দেখতে হবে মেলায় যেসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে তার ক্রেতা আছে কি না। ক্রেতা থাকলে বিক্রি তো হবেই।

বাণিজ্যমেলায় কারুপণ্যের সাজ
বাণিজ্যমেলায় সবার নজর কাড়ছে দোতলা একটি প্যাভিলিয়ন; যা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পণ্য খুঁটি বেড়া এবং গাছপালা সমন্বয়ে তৈরি। প্যাভিলিয়নটিতে মূলত রয়েছে শতরঞ্জিসহ দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন ধরনের কারুপণ্য। কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি প্যাভিলিয়নটি ঢুকতেই দেখা যায় বিভিন্ন আকারের অসংখ্য ডিজাইনের শতরঞ্জির সমাহার। দেখা যায় পাঠ ও সুতার তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্য। তা ছাড়া প্যাভিলিয়নটির সাজানোর ক্ষেত্রে রয়েছে দেশের গ্রামীণ সমাজের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত বিলুপ্তপ্রায় জিনিসপত্র। যেমন বাঁশের তৈরি ঝুড়ি, কাঁচি, গাছের ছালবাকল দিয়ে তৈরি ঘর সাজানোর জিনিসপত্রসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় জিনিস। নিচ তলায় রয়েছে শতরঞ্জি এবং দোতলায় রয়েছে কারুপণ্য। কারুপণ্যের সেলস ইনচার্জ মো: আবদুল জলিল বলেন, আমাদের বিভিন্ন আকারের শতরঞ্জি রয়েছে। শতরঞ্জিগুলো সাধারণত সুতি, অ্যাক্রিলিক সুতি, শ্যানেল সুতি ও উলের সুতা দিয়ে তৈরি।
মাসব্যাপী এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

 


আরো সংবাদ