১৪ জুলাই ২০২০

লিবিয়ায় যুদ্ধবিমান ‘পাঠিয়েছে’ রাশিয়া

এক ডজনের বেশি রুশ যুদ্ধবিমান উড়ে গেছে লিবিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটিতে - ছবি : সংগৃহীত

লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে এবার সরাসরি যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে রাশিয়া। এমন দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বুধবার তারা বলেছে, এক ডজনের বেশি রুশ যুদ্ধবিমান উড়ে গেছে লিবিয়ার খলিফা হাফতার নিয়ন্ত্রিত এলাকার একটি সামরিক ঘাঁটিতে। তবে বিমানগুলোতে রাশিয়ার সিল বা লোগো নেই। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে শুরু থেকেই হাফতার বাহিনীর প্রতি সমর্থন আছে রাশিয়ার। অন্য দিকে ত্রিপোলির জাতিসঙ্ঘ সমর্থিত সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক, কাতার ও ইতালির মতো কয়েকটি দেশ।

গত কয়েকদিনে গৃহযুদ্ধে হাফতার বাহিনী একের পর এক পরাজয় বরণ করার পর রাশিয়ার যুদ্ধবিমান পাঠানোর খবর এলো। দেশটিতে তুরস্ক সামরিক হস্তক্ষেপ করার পরই হাফতার বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে। কিন্তু সত্যি যদি রাশিয়া হাফতারের সমর্থনে যুদ্ধবিমান পাঠায় তাহলে বলতে হবে এই যুদ্ধ এখানেই শেষ নয়।

মার্কিন সেনাবাহিনীর আফ্রিকা কমাণ্ড বুধবার টুইটাইরে লিখেছে, মে মাসের গত কয়েক দিনে রাশিয়ার মিগ-২৯ এস, এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে রাশিয়া। বিমানগুলো সিরিয়ার খেমিনিন বিমান ঘাঁটিতে অবতরণের পর মিগ-২৯ এস বিমানে নতুন করে (প্রতীক ও লেগো) রং করা হয়, যাতে কোন দেশের পতাকা ছিলো না।

আফ্রিকম আরো বলেছে, বিমানগুলো উড়িয়ে নিয়ে গেছে রুশ সৈন্যরা এবং কয়েকটি রুশ যুদ্ধবিমান এই বিমানগুলোকে পাহাড় দিয়ে নিয়ে গেছে। এগুলো সিরিয়ার রুশ ঘাঁটি থেকে উড়ে গেছে লিবিয়ায়। পূর্ব লিবিয়ার তবরুকের কাছে একটি বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে জ্বালানি নেয়ার জন্য। এরপর সেখান থেকে আল জুফরা ঘাঁটিতে উড়ে গেছে। সব মিলে অন্তত ১৪টি রুশ যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে লিবিয়ায়।

এর একদিন আগেই মার্কিন সেনাবাহিনী দাবি করেছিল যে, লিবিয়ায় খলিফা হাফতারের পক্ষে যুদ্ধরত রুশ ভাড়াটে যোদ্ধা বা মার্সেনারিদের সহযোগিতার জন্য রাশিয়া দেশটিতে যুদ্ধ বিমান পাঠাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর আফ্রিকা কমান্ডের প্রধান জেনারেল স্টিফেন টাউনসেন্ট বলেন, রাশিয়া স্পষ্টভাবেই তাদের পক্ষের লোককে সহযোগিতা করছে, যেমনটি তাদের করতে দেখেছি সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে। রুশ সরকারের সমর্থিত ভাড়াটে যোদ্ধা-যারা লিবিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে এবং হাফতারের পক্ষে যুদ্ধ করছে- তাদের শক্তি জোরদারের চেষ্টা করছে রাশিয়া।

উল্লেখ্য, সরকারি বাহিনীর হামলার মুখে এই সপ্তাহে লিবিয়া থেকে পালিয়ে গেছে দেড় হাজার রুশ ভাড়টে যোদ্ধা। এই যোদ্ধা রাশিয়ার বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ওয়াগনার গ্রুপের সৈন্য। আনাদোলু


আরো সংবাদ