০৩ জুন ২০২০

হাফতারের দখল থেকে বিমানঘাঁটি উদ্ধার লিবিয়া সরকারের

আলওয়াতিয়া বিমানঘাঁটি উদ্ধারের পর সেখানে লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সৈন্যদের দেখা যাচ্ছে - ছবি : সংগৃহীত

তুরস্কের সমর্থনে দীর্ঘ যুদ্ধের পরে সোমবার ত্রিপোলির দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি কৌশলগত বিমানঘাঁটি উদ্ধার করেছে লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জোট সরকারে বাহিনী। বিদ্রোহী খলিফা হাফতারের দখল থেকে এই ঘাঁটি উদ্ধারের ঘটনা গত প্রায় এক বছরের মধ্যে সরকারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রযাত্রার একটি।

রাজধানী থেকে ১২৫ কিলোমিটার (৮০ মাইল) দূরে অবস্থিত এই ওয়াতিয়া বিমান ঘাঁটি পূর্ব-ভিত্তিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের অনুগত বাহিনীর পক্ষে কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যিনি এপ্রিল ২০১৯ সালে ত্রিপোলি দখল করতে আক্রমণ চালিয়েছিলেন। এই অভিযানটি পূর্ব ও পশ্চিম লিবিয়ায় অবস্থিত দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সঙ্ঘাতকে তীব্রভাবে বাড়িয়ে তোলে এবং বৈদেশিক শক্তির দ্বারা সামরিক হস্তক্ষেপের উত্থান ঘটায়। সোমবার ভোরে শীর্ষস্থানীয় সামরিক কমান্ডার ওসামা জুউইলির বরাত দিয়ে সরকারি গণমাধ্যম জানায়, তুরস্কের সমর্থনে জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের (জিএনএ) সেনাবাহিনী ওয়াতিয়ার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। এটি বিদ্রোহী জেনারেলের মনোবল ভেঙে দেয়ার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাফতার সমর্থক ও বিরোধী সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ত্রিপোলির ৯০ মাইল দক্ষিণের আল-ওয়াতিয়া বিমানঘাঁটি থেকে সেনাদের সরিয়ে আনা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ফুটেজে দেখা গেছে, জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের (জিএনএ) সেনারা বিনা বাধাতেই সামরিক ঘাঁটির রানওয়েতে প্রবেশ করেছে। ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে আচমকা ত্রিপোলিতে অভিযান পরিচালনার কথা ভাবছিল। তবে তার বাহিনী তখন থেকেই লড়ে যাচ্ছিল এবং বেশির ভাগ হামলাই পরিচালিত হচ্ছিল আল-ওয়াতিয়া ঘাঁটি থেকে।

সাম্প্রতিক অন্যান্য সামরিক বিপর্যয়ের পর তার পিছু হটা সেই বিদেশী শক্তিগুলোকে পুনরায় ভাবতে বাধ্য করবে, যারা হাফতারকে জাতিসঙ্ঘ স্বীকৃত জিএনএ সরকারের বিকল্প মনে করছিল। জিএনএ সেনারা গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিমান ঘাঁটিটিতে জোরদার হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল এবং বিদ্রোহীদের সাপ্লাই চেইনে বিঘিœত করছিল। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হামলা বাড়িয়ে দেয় এবং রাশিয়ার তৈরি প্যান্টসির বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়। এ বিমান ঘাঁটিটি ২০১৪ সাল থেকেই হাফতার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।

জাতিসঙ্ঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত বছরের নভেম্বরে জিএনএর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে তুরস্ক। ভূমধ্যসাগরীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে প্রবেশের অনুমতির বদলে জিএনএকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে আঙ্কারা। দ্বিপক্ষীয় চুক্তিটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করছে গ্রিস এবং তা গ্রিক সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বলে অভিযোগ এথেন্সের। আঙ্কারার জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ করতে এবং ভূমধ্যসাগরীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে তার প্রবেশাধিকার প্রসারিত করার আকাক্সক্ষায় জিএনএর প্রতি সমর্থন বাড়িয়েছে তুরস্ক। ড্রোন ও সিরিয়ার বিভিন্ন ভাড়াটে বাহিনীর মাধ্যমে জিএনএকে সহায়তা করছে আঙ্কারা। আঙ্কারা বলছে, জিএনএর জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার এবং হাফতার বাহিনীকে যেভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মিসর ও রাশিয়া অস্ত্র ও ভাড়াটে সেনা সরবরাহ করছে, তা মোকাবেলায় তুরস্ক এ পদক্ষেপ নিয়েছে। সাহেল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হাফতারকে ফ্রান্স আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জুগিয়ে আসছে।

ত্রিপোলিতে মারাত্মক হামলা চালানোর জন্য এখনো দ্বিতীয় বিমানঘাঁটি হিসেবে মিটিগা ব্যবহার করতে পারে হাফতার বাহিনী। সোমবারও সেখান থেকে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে তারা। যখন দেশটি নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, তখন এ হামলায় অনেক বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে এবং হাসপাতাল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ত্রিপোলিতে গত এক বছর ধরে চলা সংঘর্ষে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
ফ্রান্স ও ইউএইর উদ্বেগের বিষয় হলো আল-ওয়াতিয়া বিমানঘাঁটিটি তুরস্কের জন্য একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হয়ে উঠতে পারে, যেখান থেকে লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়া সহজ হবে। এ ছাড়া এ নিয়ন্ত্রণের ফলে ত্রিপোলির দক্ষিণে হাফতার বাহিনীর ওপর চাপ তৈরি করতে পারবে জিএনএ সেনারা। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ হাফতার বাহিনীর হাতে এবং অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তেল রফতানি আটকে দিচ্ছে তারা।

মিডল ইস্ট মনিটর ও রয়টার্স

 


আরো সংবাদ