০৩ ডিসেম্বর ২০২০

সমীক্ষার বিলম্বে নতুন রেলসেতু ও রেলপথ নির্মাণ অনিশ্চিত


সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়া নিয়েই যত সংশয়। যাচাই কাজ যেখানে সাড়ে তিন বছরে সম্পন্ন করার কথা, সেখানে পৌনে তিন বছরে অর্থাৎ দুই বছর ১০ মাসে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

হাতে সময় আছে মাত্র আট মাস। ফলে এই সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে যে নতুন রেলসেতু ও রেলপথ নির্মাণ করার কথা সেটা অনেকটাই অনিশ্চয়তার কবলে।

রেলওয়ের পর্যালোচনা থেকে জানা গেছে, রেলের পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৮ সালে পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদন দেন ৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে, যা ২০২১ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। উদ্দেশ্য হলো, পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পাদনসহ বিদ্যমান তিস্তা সেতুর সমান্তরাল নতুন একটি সেতুর জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বিশদ ডিজাইন এবং দরপত্র প্রণয়ন।

প্রকল্পের আওতায় কাজগুলো হলো, পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণের জন্য সমীক্ষা, ডোমার থেকে জলঢাকা হয়ে ভোটমারী পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণে সমীক্ষা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদ পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণের সমীক্ষা এবং বিদ্যমান তিস্তা সেতুর সমান্তরাল দ্বিতীয় তিস্তা সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ডিজাইন ও দরপত্র দলিল প্রণয়ন করা। তবে সাড়ে তিন বছরের সমীক্ষা প্রকল্পের আড়াই বছরে অগ্রগতি মাত্র প্রায় ৮ শতাংশ।

প্রকল্প পরিচালকের তথ্যানুযায়ী, তিস্তা রেলসেতু হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম বৃহত্তম সেতু, যা রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলায় অবস্থিত। সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫৪ মিটার এবং এটি প্রায় শত বছরের পুরনো। সেতুটি বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। নিরাপদ ও দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যমান তিস্তা রেলসেতুর সমান্তরালে একটি নতুন রেলসেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ, পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা ও নীলফামারীর ডোমার পর্যন্ত নতুন রেলপথও নির্মাণ করা হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক মোহাম্মদ আবু জাফর মিয়া বলেন, তিস্তায় সমান্তরাল দ্বিতীয় বৃহত্তম রেলসেতু নির্মিত হবে। দীর্ঘদিনের পুরনো এ সেতুটি বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বাংলাবান্ধা ও সোনামসজিদ স্থলবন্দরকে নতুন রেলপথে যুক্ত করা হবে। ফিজিবিলিটি স্টাডি কাজ প্রায় শেষের দিকে। এর পরেই মূল প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

রেলওয়ে সূত্র ও পর্যালোচনা বৈঠকের তথ্যানুযায়ী, সীমান্তবর্তী রেলপথের উন্নয়নে তিস্তা নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নকশা ও টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া শুরু করা হচ্ছে প্রয়োজনীয় সার্ভে, মাটি পরীক্ষা ও ট্রাফিক সার্ভের কাজ। কারণ সীমান্তবর্তী এলাকায় যেন ভারতীয় রেলওয়ের মতো মান বজায় রাখা যায় সেই কথাই চিন্তা করছে সরকার।

ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে ভারত হয়ে নেপাল ও ভুটানের সাথে সহজ রেলসংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আর এ জন্য পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা রুটে ৫৭ কিলোমিটার নতুন ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মিত হবে। এই রুটের সাথে সংযোগ দেয়ার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হয়ে সোনামসজিদ ভারতীয় সীমান্ত পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে।

ফলে এটি বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে (বিবিআইএন) রেলসংযোগের অন্যতম রুট হবে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। স্থলবন্দরটিতে রেল যোগাযোগব্যবস্থা চালু করা গেলে যাত্রী ছাড়াও আমদানি-রফতানি মালামাল পরিবহন সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। ভারত, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রফতানির জন্য বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে নেপাল মাত্র ৬১ কিলোমিটার, ভুটান মাত্র ৬৮ কিলোমিটার এবং চীন সীমান্ত মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এই একটি বন্দর, যা পাঁচটি বন্ধুপ্রতিম দেশকে একই সূত্রে আবদ্ধ করতে পারে। সেই জন্যই বাংলাবান্ধা হয়ে চারটি দেশের মধ্যে রেলসংযোগ স্থাপন করতে চায় সরকার।

জানা গেছে, ভারতীয় অংশেও রেলপথ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সে দেশের সরকার। উভয় পাশে রেলপথ নির্মাণ সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ থেকে ভুটানের সীমান্তবর্তী জলপাইগুড়ির হাসিমারা স্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চালু করা যাবে। একইভাবে নেপালের সীমান্তবর্তী বিহার রাজ্যের জগবানি স্টেশন পর্যন্তও ট্রেন চালু করা যাবে। ওই দুই স্টেশন থেকে সড়কপথে ভুটান ও নেপালে পণ্য পরিবহন করা যাবে। এ ছাড়া জগবানি থেকে নেপালের অভ্যন্তরে ২০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

ফিজিবিলি স্টাডি কাজের ধীরগতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক বলেন, নানা কারণে কাজে ধীরগতি হয়েছে। তবে ২০২১ সালের জুন মাসে ইনশাআল্লাহ কাজ শেষ হবে। শুধু ত্রিদেশীয় নয় এর পাশাপাশি নীলফামারীর জলঢাকা, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ, অঞ্চলের জনসাধারণের রেলসেবাও বৃদ্ধি পাবে। জলঢাকা হয়ে ডোমার রেলস্টেশন হয়ে ভোটমারী রেলস্টেশন পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মিত হবে।


আরো সংবাদ