২৭ অক্টোবর ২০২০
জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পঅনুমোদিত প্রাক্কলন ছাড়াই টেন্ডার

প্রকল্প মেয়াদে কাজ হয়েছে ৫০.১২ শতাংশ; তদারকির প্রতিটি ধাপে ব্যত্যয়

প্রকল্প মেয়াদে কাজ হয়েছে ৫০.১২ শতাংশ; তদারকির প্রতিটি ধাপে ব্যত্যয় - ছবি : সংগৃহীত

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ব্যত্যয় ও অনিয়ম চলছে। অনুমোদিত প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুসরণ করে টেন্ডার প্রক্রিয়া, ডিজাইন ও সুপারভিশন হচ্ছে না। প্রতিটি ধাপে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটছে। টেন্ডারে নতুন করে কাজ যুক্ত করা হয়। মাঠ পর্যায়ে সুপারভিশনের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকৌশলীদের অবহেলার কারণে প্রকল্প মেয়াদের দুই বছর দুই মাসে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৫০.১২ শতাংশ। এই ব্যত্যয় এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোন কোন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ছিলেন সে বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নজরুল ইসলাম পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (সিলেট জোন) প্রকল্পটি ৫৩৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা খরচে দুই বছরে বাস্তবায়নের জন্য একনেকে ২০১৮ সালের ২৯ মে অনুমোদন দেয়া হয়। ২০২০ সালের ৩০ জুন প্রকল্পটি সমাপ্ত করার কথা। কিন্তু নানা ব্যত্যয়ের কারণে দুই বছর দুই মাসে কাজ হয়েছে মাত্র ৫০ দশমিক ১২ শতাংশ। খরচ হয়েছে ২৬৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এখন বাকি ৫০ শতাংশ কাজ শেষ করার জন্য আরো এক বছর সময় চেয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

সওজ হবিগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, চুনারুঘাট-সাটিয়াজুড়ি-নতুনবাজার সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা মহাসড়ক। এর দৈর্ঘ্য ১২.৭৮০ কিলোমিটার। গড় প্রশস্ততা সাড়ে ৫ মিটার। সড়কটির নাজুক অবস্থা। সওজর ডিজাইন ইউনিটের ডিজাইন অনুসরণপূর্বক সম্পূর্ণ সড়কটি এগ্রিগেট বেইজ টাইপ-১ দ্বারা মজবুতিকরণসহ ৫০ মিমি ডিবিএস বেস কোর্স ও ৪০ মিমি ডিবিএস ওয়্যারিং কোর্সসহ ৬টি ১২ মিটার আরসিসি বক্স কালভার্ট এবং আনুষঙ্গিক কাজ অন্তর্ভুক্ত করে জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (সিলেট জোন) শীর্ষক প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু দরপত্র আহ্বানের সময় ভুল করে সড়কটির দুই পাশে০.৯০ মিটার করে প্রশস্তকরণসহ ৩.৭০ মিটার মূল সড়ক মজবুতিকরণ করে তার ওপর ৬০ মিমি ডিবিএস ওয়্যারিং কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, দরপত্র প্রক্রিয়ায় সড়কটির প্রশস্ততা ৩.৭০ মিটার (১২ ফুট) বিবেচনায় নিয়ে উভয় পাশে ০.৯০ মিটার করে প্রশস্তকরণের কাজ টেন্ডারে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়; যা অনুমোদিত মূল ডিপিপিতে নেই। এ ক্ষেত্রে প্রতীয়মান হয় যে ডিপিপির অনুমোদিত প্রাক্কলন অনুযায়ী টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি। টেন্ডার প্রক্রিয়া ও মাঠ পর্যায়ের সুপারভিশনের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকৌশলীদের এ ক্ষেত্রে অবহেলা রয়েছে। আর টেকনিক্যাল সার্ভিস উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জানান, ধারণা থেকে ডিজাইনের ভিত্তিতে ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ভৌত কাজের জন্য পৃথক নির্মাণ ডিজাইন করা হয়। যার কারণেই এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। নির্মাণ ডিজাইন ছাড়া ডিপিপি প্রণয়ন না করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা সভায় সংশ্লিষ্ট সবাই একমত হন।

জানা গেছে, কোন ডিজাইন ও প্রাক্কলনের ভিত্তিতে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং টেন্ডার আহ্বান প্রক্রিয়ায় কোন কোন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ছিলেন সে বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। এ দিকে, পরিকল্পনা কমিশন বলছে, এ জাতীয় ভুল প্রকল্প, বাস্তবায়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই মন্ত্রণালয় কর্তৃক কমিটি গঠন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া ও সুপারভিশনে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা প্রয়োজন। যুগ্মসচিব, উপসচিব ও সওজর একজনকে নিয়ে কমিটি করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগে দাখিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।


আরো সংবাদ