২৮ অক্টোবর ২০২০

ডোপ টেস্ট জানতে সিঙ্গাপুর কলম্বিয়া থাইল্যাল্ড সফর

চাকরিতে যোগদানের আগে মাদক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত
-

চাকরিতে যোগদানের আগে মাদকাসক্ত ব্যক্তি শনাক্তে ডোপ টেস্ট করা হবে। চাকরি প্রার্থীদের স্বাস্থ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। আর এই ডোপ টেস্টের অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের জন্য সিঙ্গাপুর, কলম্বিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড সফরে যাবেন বিভিন্ন পর্যায়ের ২০ জন কর্মকর্তা। অবশ্য পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তি রয়েছে। সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ডেটাবেজসহ সার্ভার স্থাপনের ব্যাপারে।

পরিকল্পনা কমিশনের কাছে পাঠানো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, মাদকের এই ভয়াল থাবা রোধে প্রাথমিক ধাপ হিসেবে মাদক গ্রহণের প্রমাণের জন্য ডোপ টেস্ট ও ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণিত হলে এর নিশ্চিত পরীক্ষা আবশ্যক। বর্তমানে এই সুবিধা স্বল্প পরিসরে বিদ্যমান আছে। তবে এই সুবিধার আরো বিস্তৃতি আবশ্যক। এ ছাড়াও সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার সাথে ডোপ টেস্ট অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা প্রদান করে স্বাস্থ্য অধিদফতর এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মাদকাসক্ত শনাক্তকরণে ডোপ টেস্ট প্রবতন প্রকল্প প্রস্তাব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। তিন বছর মেয়াদে বাস্তবায়নে এই প্রকল্পের জন্য ৬২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা খরচ প্রাক্কলন প্রস্তাব করা হয়েছে।

দেশের ১৯টি জেলায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো- ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল, পটুয়াখালী, সিলেট, রংপুর ও দিনাজপুর। প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো- ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদকাসক্ত ব্যক্তি শনাক্তকরণ, সারা দেশে পয়েন্ট অব কনট্রাক্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মাদক পরীক্ষা করে তা নির্ণয়, ডোপ টেস্টের মাধ্যমে চাকরিতে যোগদানকারী প্রার্থীদের যথাযথ স্বাস্থ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

বিশ্বব্যাপী মাদকের আগ্রাসন বর্তমান সময়ের আলোচিত গ্লোবাল ইস্যুগুলোর অন্যতম। আশির দশকে সারা বিশ্বে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পায়। এ থেকে কার্যকরভাবে পরিত্রাণ অতীব দুরূহ এবং জটিল। এই আগ্রাসন রোধকল্পে গৃহীত কৌশলগুলোও অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে শতভাগ সফলতার মুখ দেখছে না। বিশ্বে নিয়ত পরিবর্তনশীলতার সাথে আবির্ভাব ঘটছে নিত্যনতুন মাদকের। একাধিক নতুন সাইকো অ্যাক্টিভ সাবসট্যান্স মাদকরাজ্যে থাবা বিস্তারের চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা পর্যুদস্তের পাশাপাশি জঙ্গিবাদের অর্থায়ন মানিলন্ডারিংয়ের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাদকের চোরাচালন যুক্ত থাকার বিষয়টিও নতুন কিছু নয়।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হলো, ডোপ টেস্টের জন্য প্রয়োজনীয় কিট, কনফার্মিটি টেস্ট যন্ত্র, বিকারসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য যন্ত্র, প্রয়োজনীয় রাসায়নিক, অফিস যন্ত্রপাতি ক্রয়। অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের জন্য সুরক্ষা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সিঙ্গাপুর ও কম্বোডিয়ায় স্ট্যাডি ট্যুরের আয়োজন। এখানে চার লাখ কালেক্টরসহ মোবাইল স্যালাইভা টেস্টিং মেশিন কেনা হবে ২২ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। ১০টি কনফার্মিটি টেস্ট যন্ত্র কেনা হবে সাড়ে ১৬ কোটি টাকায়, স্থানীয় প্রশিক্ষণে যাবে ৫০ লাখ টাকা। এখানে বিদেশে স্ট্যাডি ট্যুরে ৫০ লাখ টাকা খরচে কলম্বিয়া ও সিঙ্গাপুরে যাবেন ১০ দিনের জন্য ১০ জন কর্মকর্তা। প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনের একটি টিম ১০ দিনের প্রশিক্ষণে সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ড যাবেন। তাদের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ৫ জনের আরেকটি টিম ১০ দিনের প্রশিক্ষণে যাবেন সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ড যাবেন। তাদের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক বিভাগের যুগ্ম-প্রধান অভিমতে বলছেন, ডেটা বেইজ সার্ভারের জন্য সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন অত্যধিক। ডাটা সংরক্ষণের জন্য বিসিসির ডাটা সেন্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। আর ডাটা প্রক্রিয়াকরণের জন্য আইসিটি বিভাগের সাথে সমন্বয় করে যথাযথভাবে ব্যয় প্রাক্কলন করে একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরির সংস্থান রাখা যেতে পারে। বিকার, কিট, টেস্ট টিউবসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা যেতে পারে।


আরো সংবাদ