২৮ অক্টোবর ২০২০
সেতু বিভাগের ১২ প্রকল্প

সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা অর্থায়ন খুঁজছে সরকার


আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে সেতু বিভাগের মাধ্যমে সরকার বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পসহ ১০টি প্রকল্প বর্তমানে চলমান আছে। এগুলো ছাড়াই ঢাকা শহরের তলদেশে সাবওয়ে, ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ অবস্থানে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু/টানেলের বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণ, শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কে মেঘনা নদীর উপর সেতু/টানেল নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, ঢাকা মহানগরীর ইনার রিং রোডের উপর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নির্মাণসহ ২০টি প্রকল্পের মধ্যে ১২টি বাস্তবায়নে দুই লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করে বিদেশী ঋণ সহায়তা খুঁজছে সরকার।

বিদেশী ঋণ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি), সরকার টু সরকার (জিটুজি) পিপিপির মাধ্যমে এই অর্থায়ন খোঁজা হচ্ছে বলে সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পসহ চলমান ১০টি প্রকল্প আগামী ২০২২ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত করার জন্য ৭৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। এই তালিকায় রয়েছে, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণ প্রকল্প, সাপোর্ট টু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প এবং বিআরটি (গাজীপুর টু বিমানবন্দর) প্রকল্প। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী করোনাসহ বিভিন্ন কারণে এসব মেগা প্রকল্পের কাজে কিছুটা স্থবিরতা এসেছে।

এ দিকে, সেতু বিভাগ আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের যেসব পরিকল্পনা নিয়েছে সেগুলোর মধ্যে ২০টি প্রকল্প রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে দুই লাখ ৫৫ হাজার ৩৮৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ১২টি প্রকল্পের জন্যই দুই লাখ ২৪ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা প্রাক্কলন করে বিদেশী আর্থিক সহায়তা খোঁজা হচ্ছে। বাকিটা সরকারি ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে জোগান দেয়া হবে। এই ২০ প্রকল্পকে দু’ভাগে রাখা হয়েছে।

মধ্যমেয়াদে বাস্তবায়িতব্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প হলো ১০টি। এই ১০ প্রকল্পের বাস্তবায়ন খরচ প্রাক্কলন করা হয়েছে এক লাখ ৬১ হাজার ২৩৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে ছয়টি প্রকল্পেই প্রাক্কলিত খরচ এক লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

প্রকল্প ছয়টি হলো, ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা শহরের তলদেশে সাবওয়ের ২০ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ (প্রথম পর্যায়), ১০ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর উপর সেতু নির্মাণ, ১১ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে রহমতপুর-বাবুগঞ্জ-মুলাদি-হিজলা সড়কে আড়িয়াল খাঁ নদীর উপর সেতু নির্মাণ, দুই হাজার ৬৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাকেরগঞ্জ-বাউফল সড়কে কারখানা নদীর উপর সেতু নির্মাণ, ১৬ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কে মেঘনা নদীর উপর সেতু/টানেল নির্মাণ, তিন হাজার কোটি টাকায় চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলাধীন মেঘনা-ধনাগেদা নদীর উপর সাদুল্যাপুর ইউনিয়নের বেলতলী পয়েন্টে ভবেরচর-বেলতলী সংযোগ সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা ও নির্মাণ প্রকল্প।

তিনটি প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন থেকে জোগান দেয়ার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে; যেখানে ৩০ হাজার কোটি টাকাই খরচ ধরা হয়েছে পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ অবস্থানে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু/টানেলের বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণে।

এ ছাড়া মধ্যমেয়াদে (২০২১ হতে ২০২৫ সালের মধ্যে) বাস্তবায়িতব্য মাঝারি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প (বাজেট এবং পিপিপি/জি-টু-জি ভিত্তিতে অর্থায়নসাপেক্ষে) হলো ১০টি, যার বাস্তবায়ন খরচ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯৪ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এখানে ৯৩ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা ধরা হয়েছে ছয়টি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে।
বিদেশী ঋণ, জি টু জি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) থেকে এই অর্থায়ন খোঁজা হচ্ছে। আর এই ছয় প্রকল্প হলো, ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, সাত হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভুলতা-আড়াইহাজার-নবীনগর সড়কে মেঘনা নদীর উপর সেতু নির্মাণ, সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জাহাঙ্গীর গেট থেকে বেগম রোকেয়া সরণি পর্যন্ত ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণ, ২৫ হাজার ১২০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত খরচে ঢাকা মহানগরীর ইনার রিং রোডের উপর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নির্মাণ, আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বন্ধু শিল্পাঞ্চল (মিরসরাই) থেকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নির্মাণ, দুই হাজার ২৪৫ কোটি টাকায় পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কে এলিভেটেড/অ্যাট গ্রেড এক্সপ্রেসওয়ে, সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকায় পিরোজপুর জেলার বড়মাছুয়া-রায়েন্দা বলেশ্বর নদীতে সেতু নির্মাণ প্রকল্প।

সেতু বিভাগ থেকে জানা গেছে, আগামী ২০৪১ সাল পর্যন্ত মধ্যমেয়াদে পরিকল্পনায় মেগাসহ আরো ১৮টি প্রকল্প তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের যে খরচ প্রাক্কলন করা হয়েছে তা বর্তমান রেট শিডিউল ধরে। অনুমোদনকালে যে রেট শিডিউল থাকবে সেটিকে ভিত্তি করেই নতুন করে আবার ব্যয় প্রাক্কলন করা হবে। তাতে খরচ বৃদ্ধির সম্ভাবনাই বেশি। তবে অর্থায়নের কারণে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদেশী ঋণনির্ভর প্রকল্প অনুমোদনের আগে ঋণদাতার সাথে অর্থায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করেই আগানো উচিত। দেখা যায়, প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে; কিন্তু বিদেশী অর্থায়ন দোটানাতে পড়েছে। ফলে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শুরু করা যায় না। আবার দফায় দফায় মেয়াদ ও খরচ বাড়াতে হয়।


আরো সংবাদ