০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯, ৫ জিলহজ ১৪৪৩
`

টিউশন ও টিউটর

-


টিউশন। স্কুল-কলেজে পড়াবস্থায় শিক্ষার্থীদের পকেট খরচ চালানোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এই টিউশন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। ছাত্রাবস্থায় টিউশনি করেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন করাই ছাত্র-ছাত্রীর দৈনন্দিনের অন্যতম অনুষঙ্গ বলা চলে।
টিউশন পড়ানোর প্রথম দিন সবার মধ্যে কমবেশি নার্ভাসনেস কাজ করে, যদিও পরে তা ঠিক হয়ে যায়। টিউশনের অন্যতম উপাদান ছাত্রছাত্রী। টিউশনি যে করে তাকে টিউটর নামে পরিচয় করানো যায়। সব টিউটরই চায় তার টিউশনের ছাত্রছাত্রীটা যেন ভালো ও মেধাবী হয়। বোকা এবং হাবাগোবা যেন না হয়।
টিউটর সবচেয়ে খুশি হন তখন যখন দেখেন তার ছাত্রছাত্রী নিয়মিত পড়া শিখে দিচ্ছে, লিখে দিচ্ছে। তখন টিউটর তাদেরকে অনেক আদর-যতœ করেন এবং ভালোভাবে পড়ানোর চেষ্টা করেন। অন্য দিকে ছাত্রছাত্রী যদি দুষ্টামি করে, পড়া না শিখে তখন টিউটরের মেজাজ চরমে উঠে এমনকি অনেক সময় বেত দিয়ে মারে।
টিউটির দীর্ঘ এক মাস পড়ানোর পর অপেক্ষা করেন কখন টাকাটা হাতে পাবে। এরপর মাস শেষে যখন টিউশনির টাকাটা হাতে আসে তখন টিউটরের আনন্দের শেষ থাকে না। হয়তো এই টাকাটা বাড়িতে মা-বাবার জন্য পাঠাবে নয়তো এই টাকা দিয়ে নিজের পকেট খরচ চালাবে, মা-বাবা থেকে আর টাকা নেবে না।
টিউশনিতে আন্টি-আঙ্কেল শব্দ দু’টি বহুল ব্যবহৃত ও পরিচিত। কেউ হয়তো স্কুল-কলেজ থেকে ফিরেই টিউশনিতে চলে যায়। কিছু কিছু আন্টি টিউটরকে নিজের ছেলের মতো আদর-আপ্যায়ন করেন। টিউশনিতে গেলে ভালো নাশতা দেন, মাস শেষেই টাকাটা হাতে তুলে দেন, নিজের গাছের পাকা ফলটা টিউটরের হাতে দেন, ঈদের সময় এলে নিজের পাশাপাশি টিউটরকেও ঈদ গিফট দেন। এমন অমায়িক ব্যবহারের আন্টি আবার সবার কপালে জোটে না। ভাগ্যের জোরে দু’-একজনের কপালে জোটে। অমায়িক সেসব আন্টিদের প্রতি সালাম ও কৃতজ্ঞতা।
পরিশেষে, কেউ টিউশন করে নিজেকে চালায় আবার কেউ পরিবারকে চালায়। সবশেষে, টিউটরদের শুভেচ্ছা ও সালাম জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি ‘টিউশন ও টিউটর’-এর গল্পকথা থেকে।

 


আরো সংবাদ


premium cement