১৬ মে ২০২২
`

ফুলের ভালোবাসা

ফুলের ভালোবাসা -

প্রত্যেকটি মানুষের ভালো লাগা-মন্দ লাগা আছে। কেউ একটা জিনিস পছন্দ করে, ভালোবাসে। আবার কেউ ওই জিনিসটাকে অপছন্দ করে, ঘৃণা করে। এটি একটি স্বভাবজাত বিষয়। যা সৃষ্টিগতভাবে আমাদের সবার মধ্যেই আছে। আর এ বিষয়ে সবাই অস্বীকার বা দ্বিমত পোষণ করবে না। কিন্তু একটি বিষয়ে বেশির ভাগ মানুষই একমত হবে যে, কমবেশি আমরা সবাই ফুলকে পছন্দ করি, ভালোবাসি, তার সংস্পর্শে যাই ও তার থেকে সুঘ্রাণ বা সুবাস নেই। এ ছাড়া ফুলকে আমরা নানাভাবেই ব্যবহার করি। কারণ ফুল সবসময় আমাদের ভালো কিছুই উপহার দেয়। ফুল সবসময় আমাদের পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ায়। একটি অগোছালো, অব্যবহৃত জায়গাকে আকর্ষণীয় ও প্রিয় করে তুলে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বাস্তব সত্য হলো, আমরা ফুলকে নষ্ট করে তার সেই সৌন্দর্য শুধু কমাই। কখনো তো অপ্রয়োজনেও ফুলকে নষ্ট করি, আবার প্রয়োজনে ব্যবহার করলেও শেষটা ডাস্টবিনে বা অপরিচ্ছন্ন জায়গাতে ছুড়ে ফেলে খুবই অসম্মানজনক আচরণই করি। যা ফুলের সাথে আমাদের উত্তম আচরণ নয়। কেননা, বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র আমার খুবই প্রিয় একজন মানুষ বলেন, ‘তাজা ফুলকে তুমি ভালোবাস! তাতে গৌরবের কী হলো! তাজা ফুলকে সবাই ভালো না বাসুক, পছন্দ করে। যে কেউ তাজা ফুলকে হাতে তুলে নেয়। সুবাস গ্রহণ করে। এটি ফুলের কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা পাওয়ার মতো কিছু নয়। যদি পারো শুকনো ফুলকে ভালোবাসতে! যদি পারো ঝরা ফুলকে আলতো করে তুলে নিতে এবং চিরকালের জন্য আপন করে কাছে রাখতে, সেটি হবে গৌরবের। আর তখনই তুমি পাবে পৃথিবীর বাগানের সব ফুলের কৃতজ্ঞতা।’
সত্যি! আমরা ফুলের কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা পাওয়া তো পরের বিষয়! তার সঠিক ব্যবহার ও মর্যাদাই করি না। আমরা শুধু ফুলকে নিজেদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করি ও ব্যবহার শেষে যেখানে সেখানে ছুড়ে ফেলি। অথচ ফুলকে নষ্ট করা নয় বরং ফুলকে যতœ ও সংরক্ষণ করা, ফুলের সৌন্দর্য ও সুবাস গ্রহণ করা এবং আশপাশের পরিবেশকে সুন্দর করা উচিত। অথবা ফুলের সঠিক ব্যবহারটুকু তো অবশ্যই করা উচিত।
অতএব, আমরা আমাদের পছন্দের ফুলের সংস্পর্শে আসি, ফুলকে ভালোবাসি, ফুলের গুণাবলি গ্রহণ করি, প্রয়োজনে ফুলকে ব্যবহারও করি, অপ্রয়োজনে ফুলকে নষ্ট না করি বরং ফুলকে বাঁচিয়ে আমাদের চারপাশের পরিবেশটা আরো সৌন্দর্যমণ্ডিত করি। সর্বোপরি ফুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও অর্জন করি। তাহলেই আমরা পাবো পৃথিবীর সব ফুলের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।

 


আরো সংবাদ


premium cement