০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ৭ জিলহজ ১৪৪৩
`

সোনালি দিন

-

নদীর মাঝি বলে এসো নবীন
মাঠের কবি বলে এসো নবীন
দেখেছি দূরে ওই সোনালি দিন।
হ্যাঁ, নদীর মাঝি, কবি এরা নবীনকে আহ্বান জানাচ্ছে, সোনালি দিনের। তাদের সব বাধা পেরিয়ে কঠিন হাল ধরার জন্য ডাকছে। সুন্দর আগামী দিনের প্রত্যাশায়। আজকের দিনের নতুন কিশোর-কিশোরীরাই হাল ধরবে সমাজ বিনির্মাণের, রাষ্ট্র গড়ার। তাই তাদের ভালোবাসা দিয়ে ডেকে নিতে হবে নতুন দিনের পথে। ওরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, আগামী স্বপ্নের বাস্তবায়ন। অনাগত দিনের নতুন ইতিহাস। ওদের মধ্যেই সুপ্ত আছে ভাবিকালের কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, দুঃসাহসী অভিযাত্রী, ইতিহাস খ্যাতনামা মানুষ।
বয়ঃসন্ধিকাল একজন মানুষের বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অর্থাৎ কিশোর-কিশোরী থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত সময়। সাধারণত ১০ থেকে ২১ বছর বা টিনএজারকেই বয়ঃসন্ধিকাল হিসেবে ধরা হয়। মনোবিজ্ঞানীদের ধারণা, এই বয়সে মানুষের মস্তিষ্কে চলে ছোট থেকে বড় হওয়ার ভাঙা-গড়া বা মস্তিষ্কের পুনর্গঠন। বিশেষজ্ঞরা এ কথাও বলেন যে, এই বয়সে শরীর আর মনের পরিবর্তনের কারণে কিশোর-কিশোরীরা নিজের অনুভূতিকে কখনো কখনো কন্ট্রোল করতে পারে না।
বয়ঃসন্ধিকালের এই ধাপটিতে এত কিছু ঘটে যা অনেক মা-বাবাই জানেন না। তাই তাদের সাথে এই সময়ে কত সাবধানে কত যতেœ আচার-আচরণ করতে হয় তাও তারা জানে না। আর সে কারণেই দেশে কিশোর অপরাধপ্রবণতা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।
দুঃখের বিষয় যে, যারা ভবিষ্যতের উজ্জ্বল সম্ভাবনার বলিষ্ঠ অঙ্গীকার, যাদের কর্ম সাধনা ও সিদ্ধির ওপর নির্ভর করে দেশ ও জাতির গৌরব ইতিহাস, যারা আগামী দিনের স্বপ্ন ও সার্থকতা তাদের জীবনই আজ উপেক্ষার অশ্র“সিক্ত বেদনার কত করুণ কাহিনী। দুঃখ-দারিদ্র্য লাঞ্ছনার কত অভিশাপ। পূর্ণ প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই কতজন ঝরে যায় অকাল মৃত্যুতে, কতজন ডুবে যায় কাজে, রোজগারের তাগিদে, কতজন চলে যায় অন্ধকার পথে।
কিশোরদের জীবনের সুস্থ বিকাশের জন্য চাই যথার্থ ও সুস্থ পরিবেশ। চাই উদার হৃদয় ও মন-মানসিকতা। চাই প্রীতি-প্রেমের পরিচর্যা। মা-বাবা, শিক্ষক ও সমাজই তাকে পরিকল্পিত শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল। ওরা পৃথিবীকে দেখবে নতুন চোখে। ওদের চপল চলার ছন্দে মধুময় হবে পৃথিবী। তবে ওরা নতুন চোখে যেন সুন্দর কিছু দেখে, ওদের চলা যেন অন্ধকার পথে না হয়ে আলোর পথে হয় তা দেখিয়ে দেয়া, বুঝিয়ে দেয়ার দায়িত্ব মা-বাবার, শিক্ষকসমাজ ও সরকারের। ওদের সুন্দর পথে চালিত করার জন্য সবার কাছে ওদের স্নেহ ভালোবাসার বুভুুক্ষু হৃদয়ের প্রসারিত আহ্বান।
আজকের শিশু-কিশোররাই আগামী দিনের জাতির ভার বহন করবে। তাদের ভেতরে সেই স্পৃহা জাগিয়ে তোলার জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে। তারা আদর্শ নাগরিক হয়ে জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেবে। বিশ্বের দরবারে দেশ ও জাতির মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। তাদের আগামী দিনের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। প্রতিভাভিত্তিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। ওদের প্রতিভা জাগিয়ে তুলতে সঠিক শিক্ষাব্যবস্থা ও বাস্তবায়ন জরুরি। ওরা উপযুক্ত হয়ে গড়ে উঠতে না পারলে জাতির ভবিষ্যৎ মুখ থুবড়ে পড়বে। সভ্যতার অবলুপ্তি ঘটবে। তাই তাদের সঠিক বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দিয়ে তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের সবার মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। মা-বাবাকে ছেলেমেয়ের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং সঠিক যতœ নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে ছেলেমেয়ে স্বাস্থ্যবান হওয়ার সাথে সাথে চরিত্রবান হয়ে উঠছে কি না। তারা যেন আত্মনির্ভরশীল হয় আগে থেকেই তার অনুশীলন করা দরকার। সাবধান থাকতে হবে, ওরা যেন কোনোভাবেই তিরস্কারের তিক্ত আস্বাদ কখনো না পায়। বয়ঃসন্ধিকালের তরুণ যদি কোনো একটি কাজ করে, হোক সে কাজ খুবই নগণ্য তবুও তার প্রাপ্য প্রশংসা থেকে তাকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।


আরো সংবাদ


premium cement