২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭ আশ্বিন ১৪২৮, ১৪ সফর ১৪৪৩ হিজরি
`

শ্রাবণের বিকেল!

-

দিনটি ছিল শ্রাবণের কোনো এক শুক্রবার। দুদিন টানা ঝিরিঝিরি বৃষ্টির পর সূর্যিমামা বেশ জেগে উঠেছে। দুপুর গড়িয়ে তখন প্রায় বিকেল। রোদের প্রখরতা কমে কিছুটা শীতল পরিবেশ। গাছের পাতাগুলো সামান্য দোলছে। নীল আকাশে ঘুড়িগুলো এঁকেবেঁকে ওড়ছে। সবুজ ঘাসে বিস্তৃত মাঠ। চারিদিকে সারিবদ্ধ গাছের ছায়া। এখন অবশ্য বৃক্ষ নিধন অভিযানে সব গাছ কাটা পড়ে গেছে। দু’পাশে প্রশস্ত পিচঢালা রাস্তা। রাস্তার ওপাশেই ছোট্ট দীঘি। সেখান থেকে বইছে পানির ফোয়ারা। সামনের অংশে গড়ে ওঠেছে উঁচু উঁচু কয়েকটি দালান। পাশেই আছে প্রাচীর ঘেরা বহু পুরোনো ঐতিহাসিক উদ্যান। মাঠের ঠিক শেষ প্রান্তে বিশাল আকাশের বুকে নিজেদের মেলে ধরে দাঁড়িয়ে আছে প্রিয় কদম্ব আর কৃষ্ণচূড়া।
এক দল ফুটবল নিয়ে মাঠে নেমেছে । মাঝবয়সী আর বৃদ্ধরা বেরিয়েছেন হাঁটাহাঁটির জন্য।
বাড়ির কাজের লোককে নিয়ে হুইল চেয়ারেও বের হয়েছেন অনেকে। শিশুরা এসেছে বাবার হাত ধরে। অনেকে আবার শ্বেত পীড়িতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছে। আমিও বেরিয়েছি প্রকৃতির মধ্যে স্রষ্টার অপরূপ দর্শনে। সারা দিন ফাঁকা থাকলেও বিকেলবেলা জায়গাটা জমজমাট হয়ে ওঠে। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এটা ভিন্ন আকার ধারণ করে। কিন্তু শ্রাবণের মেঘলা আকাশ দুদিন ঘর থেকেই বেরোতে দেয়নি। তাই ভেজা মাঠ, রাস্তাঘাট শুকিয়ে ওঠতেই মানুষ বেরিয়ে এসেছে প্রকৃতির খোঁজে।
শ্রাবণ মানে বর্ষা। শ্রাবণ মানে গাঢ় সবুজ প্রকৃতির প্রেমে পড়া। জীবনের ব্যস্ততার ফাঁকে এক টুকরো সবুজের ঘ্রাণে মানুষ নিজেদের খুঁজে বেড়ায়। নির্মল হাওয়া, পানির কলকল ধ্বনি, সজীব প্রকৃতি আর হিমেল বাতাসে মন হারিয়ে যায় বারবার। বিকেলের মৃদু বাতাস এমনিতেই প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। সেই সাথে এমন মনোরম দৃশ্য জীবনকে আরো রঙিন করে তোলে। জীবনকে আরো উপভোগ করতে ভেতর থেকে আশা জাগায়।
আমি হাঁটতে হাঁটতে কৃষ্ণচূড়ার প্রান্তে এসে দাঁড়ালাম। কৃষ্ণচূড়ার লালে নিজেকে মিশিয়ে দিলাম। মাটিতে ঝরেপড়া কদমের হলুদ পাপড়িগুলো আনমনে কুড়োচ্ছিলাম। দীর্ঘশ্বাস টেনে কদম ফুলের ঘ্রাণ নিচ্ছিলাম। হঠাৎ বাতাসের একটা ঝাপটা এসে আমার চুলগুলো এলোমেলো করে দিলো। আকাশ কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে। শ্রাবণে আকাশ ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলায়। পশ্চিম পানে আকাশ মেঘের চাদরে সেজেগুজে বসে আছে। দুম করে ঘোমটা সরিয়ে বৃষ্টি নেমে পড়বে। আকাশে মেঘ মানেই বৃষ্টির আগাম সঙ্কেত। আবারো এক সন্ধ্যা বৃষ্টি। আবারো ভেজা ঘাস, টিনের চালের টিপ টিপ শব্দ, কচুপাতার গায়ে গড়িয়ে পড়া পানির স্নিগ্ধতা। শ্রাবণের সাথে বৃষ্টির যেন গভীর এক মিতালি।
বৃষ্টির দিন, বৃষ্টি তো হবেই। সে কখনো ঝমঝম মুষলধারা। কখনো ছিঁচকাদুনে টিপটিপ। বৃষ্টির আভাস পেলেই কেমন যেন কৈশোর এসে জাপটে ধরে। ছেলেবেলা স্মৃতির আয়নায় ভেসে ওঠে। এরই মধ্যে লোকেরা বাড়ির পথ ধরেছে। দোকান গুছিয়ে গামছা মাথায় ছুটছে ফেরিওয়ালা। কিন্তু আমি আজ ফিরছি না। কদম ফুলের সাথেই বৃষ্টিতে ভিজব ভাবছি। বৃষ্টিতে ভেজা হয় না অনেক দিন! বাসায় বসে জানালার ফাঁক দিয়েই বৃষ্টির ফোঁটার স্পর্শ অনুভব করি। আমাদের শহুরে জীবন বেশ ঘরকুণো হয়ে গেছে। আমরা ঘরবন্দী হয়ে থাকতেই বেশি পছন্দ করি। যদিও বর্ষণমুখর সন্ধ্যা ঘরে বসে চায়ের আড্ডায় বেশি জমে ওঠে।
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। আকাশে বিজলী চমকাচ্ছে। পাখিরা ফিরছে নীড়ে। অন্ধকারে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। ল্যামপোস্টের বাতিগুলো জ্বলে ওঠতেই নিভে গেল। বোধহয় বিদ্যুৎ চলে গেল। কখন যে আসে কে জানে। সন্ধ্যায় লোডশেডিং এখানকার চিরাচরিত নিয়ম। একটু বৃষ্টির আভাস পেলেই হলো! বিজলীর আকাশ ভাঙা শব্দে বৃষ্টিতে ভেজার সাহস হারিয়ে ফেললাম। মায়ের বকুনি থেকে বাঁচতে দৌড়ে বাসায় চলে এলাম। বৃষ্টিতে ভেজা আর হলো না। ঘরে নিভু নিভু আলোয় মোমবাতি জ্বলছে। বাইরে অফুরান জলধারা। জানালার কাচ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে জলরাশি। মা আদা বেটে চুলায় চা বসিয়েছেন। শ্রাবণ মেঘের সন্ধ্যায় চায়ের চুমুকে চুমুকে মা-ছেলের বৃষ্টি বিলাস। একমুঠো শ্রাবণের উৎসব!



আরো সংবাদ


খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা আরো এক বছর চায় বিজিএমইএ মুস্তাফিজদের দারুণ বোলিংয়ে রোমাঞ্চকর লড়াই জিতল রাজস্থান সাবমেরিন ইস্যু : ‘ক্রুদ্ধ’ ম্যাক্রঁ কি বেশি ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন? গাড়িচালক মালেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদকের আফগানিস্তানে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ হার এড়ালো বার্সেলোনা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের ২৮৩৯ পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে : ওবায়দুল কাদের মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে আপস করা যাবে না: বিএনপি

সকল