২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭ আশ্বিন ১৪২৮, ১৪ সফর ১৪৪৩ হিজরি
`

সত্যই সুন্দর

সত্যই সুন্দর -

জীবনকে সুন্দর করতে হলে সত্য বলতে হবে। সত্য চর্চা করতে হবে। সত্যের সঙ্গে বসবাস করতে হবে। সত্যই সুন্দর। সত্যই জীবন। এবং সত্যই উন্নত করে জীবনকে। জীবনের সব বাঁকে সত্যের আনন্দ জাগ্রত থাকে। সত্যের মতো সুন্দর কিছু নেই। সত্যের মতো আনন্দের কিছু নেই। যারা বড় হয় সত্য ধারণ করেই বড় হয়। যারা ইতিহাস সৃষ্টি করে তারা সত্য প্রয়োগেই করে।
মানুষের শরীর সত্যের উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে। সৃষ্টি করা হয়েছে সত্যকে ধারণ করার আয়োজনে। ফলে সত্য মানুষকে এগিয়ে দেয়। মিথ্যা পিছিয়ে দেয়। সত্য নিজেই বিজয়ী। মিথ্যা আপনাতে হেরে যায়।
মিথ্যার কোনো নির্দিষ্টতা থাকে না। সত্যের কোনো অন্যথা হয় না।
মিথ্যা একটি শব্দ। শব্দটি ছোট বড় সবার জানা। সবাই বোঝে মিথ্যা মানে কি? যখন কেউ কথা বলল- আর শ্রোতা বললো তুমি মিথ্যা বলেছ। এর কি অর্থ সবাই বোঝে। যেকোনো বিষয়ে সত্য না বলাটাই মিথ্যা। কথাটি যেই বলুক। যেভাবেই বলুক। এমনকি কৌতুক করে বললেও কিন্তু মিথ্যা মিথ্যা-ই। অনেকে হেসে হেসেই মিথ্যা বলে। অনেকে কথায় কথায় মিথ্যা বলে। অনেকে আবার বিনা প্রয়োজনেও মিথ্যা বলে। কেউ কেউ বন্ধুদের সঙ্গে বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা বলে। কেউ ফের অকারণও মিথ্যা বলে। আবার মিথ্যা বলার সঙ্গে সঙ্গে কেউ বলে- দুষ্টমি করেছি। এমন করে নানান আয়োজনে মিথ্যা কথার চর্চা হয়।
মিথ্যা বলে। বলতে থাকে। কিন্তু এভাবে মিথ্যা বলার ফল কি দাঁড়াচ্ছে এটি ভাবে না। কি হয় মিথ্যা বললে। কি প্রতিক্রিয়া ঘটে মনে। শরীরে। কেমন করে ঘটে ভাবতে
পারে না। অথবা ভাবেও না। ভাবার প্রয়োজন মনে করে না।
অথচ এটি ভাবা উচিত। গভীরভাবে ভাবা উচিত। কারণ মানুষ তো সবাই ভালো থাকতে চায়। ভালো থাকার আকাক্সক্ষা সবার মনেই ভাসে। সবাই স্বপ্ন দেখে সুখী জীবনের। হয় তো মিথ্যা কথাটিও বলছে ভালো থাকার জন্য। যে বলছে মিথ্যেটি- সে ভেবে নিয়েছে মিথ্যা বললেই বুঝি ভালো থাকা যাবে। সত্যটাকে লুকিয়ে অসত্য বলার যে মানসিকতা কেউ কেউ ভাবেন তাতেই বুঝি সুখ।
কিন্তু বাস্তবে কি হয়? কি দাঁড়ায় মিথ্যার পরিণাম? কি হয় মিথা বলার পর।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ স. বলেছেন- মিথ্যা হলো সকল পাপের মা। এ বিষয়টি খুব ভালো করে বুঝতে হবে। মিথ্যাকে কেনো মহানবী পাপের মা বললেন?
মা তো তিনি যিনি সন্তান জন্ম দেন। একজন মা অনেক সন্তান জন্ম দিতে পারেন। দেনও। ঠিক একটি মিথ্যাও অনেক পাপের জন্ম দেয়। একটি মিথা স্থির করার জন্য অনেক মিথ্যা বলতে হয়। মিথ্যা কেবল মিথ্যার জন্ম দেয়। আর মিথ্যা জন্ম দেয় পাপ। যে বা যিনি কথায় কথায় মিথ্যা বলে তার মুখে আর সত্য ফোটেই না। প্রতিটি বিষয়ে সে মিথ্যাই বলতে থাকে। এক সময় লোকেরা জেনে যায় এই লোকটি মিথ্যুক। এর কথা বিশ্বাস করা যাবে না। বিশ্বাস করেও না। ফল হয় এই-তার পরিচিত প্রতিটি মানুষ তাকে এড়িয়ে চলে। বর্জন করে। তার সুখে দুঃখে পাশে থাকে না কেউ। তার বন্ধু থাকে না। যারা থাকে তারাও ছেড়ে যায় ওকে।
মিথ্যাবাদীর কোনো ব্যক্তিত্ব থাকে না। তাকে কেউ সম্মান জানায় না। তার প্রতি শ্রদ্ধা অথবা ভালোবাসা কোনোটিই ঠিক থাকে না। ছোট হোক বড় হোক সবাই তাকে পাশ কাটিয়ে চলে।
শুধু এখানে থেমে থাকে না। মিথ্যার খারাপ ফল পাওয়া যায় নগদ নগদ। এর প্রথম হলো-মিথ্যা বললেই মনের ওপর নেগেটিভ চাপ পড়ে। এক ধরনের বোঝা চেপে বসে। বেশ অস্বস্তি সৃষ্টি হয়। ফলে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে মন খারাপ হয়ে যায়। একই সাথে অস্থির হয়ে ওঠে মন। অন্তর্জ্বালা শুরু হয়ে যায়! এর ফল দাঁড়ায় কোনো কিছুতেই আনন্দ পাওয়া যায় না। সুখ পাওয়া যায় না। স্বস্তিও না। কাজে মন বসে না এবং কাজে মনোযোগ থাকে না।
মিথ্যা বললে আরও যে বিষয়টি ঘটে তা হলো-মিথ্যাবাদীর চেহারা খারাপ হয়ে যায়। বিমর্ষ হয়ে যায়। মলিন হয়ে ওঠে। চেহারায় লাবণ্য থাকে না। সৌন্দর্য থাকে না। থাকে না কোনো আকর্ষণ।
আরো যে বিষয় হয়-মিথ্যাবাদী কখনো সাহসী হতে পারে না। তার বুকের ভেতর সাহস থাকে না। সাহস হয় সততা থেকে। মিথাবাদীর তো সততা নেই। সুতরাং সে তো কেবলই ভয়ের ভার বহন করবে। বরাবরই সে ভীতু হয়। মিথ্যার ভয় তাকে জড়োসড়ো করে রাখে। তাকে কূলহারা করে রাখে। কোনো কূলেই ঠাঁই হয় না তার। ফল দাঁড়ায়-কোনো কিছুতে তার আত্মবিশ্বাস থাকে না।
মিথ্যা বললে আরো ভয়ঙ্কর বিষয় হলো-শরীরে জটিল রোগ বাসা বাঁধে। মিথ্যা বলার ধকল সইতে হয় হার্টকে। নিশ্চয় এ ধকল ভালো ধকল নয়। এভাবে বারবার সইতে সইতে এক সময় দুর্বল হয়ে যায় হার্ট। ব্রেইনও সমস্যায় পড়ে। ব্রেইনে চাপ পড়ে বেশ। চাপ পড়তে পড়তে এক সময় ব্রেইনও দুর্বল হয়ে পড়ে। কেউ যখন মিথ্যা বলে তখন সারা শরীরেই এক ধরনের ঝাঁকুনি ওঠে। গোটা শরীরে এর নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে।
এর কারণ তো আছে।
কারণ হলো-মানুষের শরীরটির কলকব্জা এবং মেশিনারি সবই সত্যকে ধারণ করার উপযোগী। মিথ্যাকে নয়। সত্য যখন মিথ্যার দোষে দুষ্ট হয় তখন তার প্রতিক্রিয়া ভালো হবে না একটিই স্বাভাবিক।
তাই আমাদের উচিত যেকোনো উপায়ে সত্য বলা। যেকোনো ভাবে মিথ্যা পরিহার করা।
নিজেকে সুন্দর ও সুস্থ রাখার জন্যই এটি জরুরি। যারা সুখী হতে চান তাদের উচিত সত্যের সঙ্গে থাকা। সত্য মান্য করা এবং মিথ্যা পরিহার করা।



আরো সংবাদ


খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা আরো এক বছর চায় বিজিএমইএ মুস্তাফিজদের দারুণ বোলিংয়ে রোমাঞ্চকর লড়াই জিতল রাজস্থান সাবমেরিন ইস্যু : ‘ক্রুদ্ধ’ ম্যাক্রঁ কি বেশি ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন? গাড়িচালক মালেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদকের আফগানিস্তানে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ হার এড়ালো বার্সেলোনা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের ২৮৩৯ পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে : ওবায়দুল কাদের মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে আপস করা যাবে না: বিএনপি

সকল