০৪ আগস্ট ২০২১
`
অ ব কা শ ভা ব না

অবসরে গ্রামে চলে যাই

-

নদীর জোয়ার-ভাটার কোনো অবসর নেই। প্রকৃতির নিয়মে তাকে তার কাজ করে যেতে হয়। আমিও ঠিক সে রকম প্রভুর নিয়মে চাষ করে যাই প্রতিনিয়ত আমার জীবন, কর্ম, শিল্প-সাহিত্য। এই লেখক জীবনে আমি যখনই বড় ধরনের কোনো অবসর পাই তখন গ্রামে চলে যাই। গ্রামে আমার পরিবারকে সময় দেই। পরিবারের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না ভাগ করে নেই। বিশেষ দিনগুলো বরাদ্দকৃত থাকে আমার পরিবারের জন্য। সেখানে যদি আবার অবসর পাই তাহলে মূল্যবান বই পড়ি যা আমার বাড়িতে রাখা আছে। সেগুলো পড়লে আমি লেখনী শক্তি বৃদ্ধি করতে পারি। মনে প্রশান্তি ও অনেক শক্তি পাই। আমার সেসব শক্তি ঢাকায় এসে তা কাগজবন্দী করি। সেখান থেকে বেরিয়ে আসে কিছু কবিতা-ছড়া, গল্প, প্রবন্ধ ইত্যাদি। এ ছাড়া ঢাকা শহরে প্রতিদিন সাহিত্যের খুঁটিনাটি বিষয় মাথায় যখনই ঘুরপাক খায় তা সাথে সাথে নোট করি, কাগজে টুকে রাখা দিনযাপনগুলো, যার মাধ্যমে সাহিত্যের নতুন দিগন্ত খুঁজে পাই। নতুন দিগন্তের পূর্ণতা লাভ করে হয়ে ওঠে কখনো কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ ফিচার প্রভৃতি। এসব লেখা ঘঁষামাজা করে পাঠিয়ে দেই সংবাদপত্রে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত লেখা ক্রমেই পৌঁছে যায় পাঠকের হাতে হাতে। কেউ কেউ পড়ে আমাকে অভিনন্দিত করে। আবার কেউ কেউ পড়ে অনুযোগ করে ফেসবুকে, ফোনে বা সরাসরি দেখা হলে তাদের মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে। আমি কারো মান-অভিমানে কষ্ট পাই না। বেশি কষ্ট পেলে অবকাশ সময়ে কিছু করা যায় না। অবকাশকালীন সব কিছু ভুলে শিল্প-সাহিত্যে মনোনিবেশ রাখাই লেখকের কাজ।
আমি যা কিছু করি আমার নিজের চিন্তা-চেতনায় করি। এ বিষয়ে কোনো ব্যাকরণ ফলো করি না। ব্যাকরণ ফলো করে লিখতে গেলে সেটা আর ভালো লেখা হয়ে ওঠে না। হয়ে ওঠে ভালো ব্যাকরণ। আমি লেখা শেষ করে তারপর দেখি লেখাটি কোন ব্যাকরণে গিয়ে ঠেকেছে। এটা আমার ব্যর্থতা বলব এই কারণে যে, আমি ব্যাকরণ খুব কম বুঝি।
তবুও যারা লেখালেখি করে সবাইকে ব্যাকরণ মানতে হয়। আমিও যে মানি না তা নয়! না মানলে আমার তো কোনো লেখাই লেখা হয়ে উঠত না। এই বিষয়গুলোই আমার অবকাশ জীবনের খুঁটিনাটি ভাবনা। এবং বুকের মধ্যে বেশি বেশি দেশপ্রেম লালন করি। বুকের মধ্যে দেশপ্রেম না থাকলে আমার সন্তানদের মধ্যে দেশপ্রেম জন্ম নেবে না। তাই শিল্প-সাহিত্যর মধ্যে নিজের সৎ চিন্তা প্রতিনিয়ত দেশের জন্য উৎসর্গ করে লিখে যাই নিরন্তর। হ



আরো সংবাদ