০৪ আগস্ট ২০২১
`

বাবা বলতেন আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না

-

শৈশবে থিয়েটারের হয়ে মঞ্চে মঞ্চে অভিনয় করে কবিতা আবৃত্তি করে যাকে ভেতর থেকে ভালোবেসে ছিলাম তার নাম কবি নজরুল। বাংলা সাহিত্যে যার অসামান্য অবদান। বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে নজরুলের ছবি আঁকতাম, নিজেও চেষ্টা করতাম দু-একটা কবিতা লিখতে। যদিও পরিবারের সাবার দৃষ্টিতে এসব নিছক পাগলামী ছাড়া আর কিছুই না। বাবা বলতেন এসব করে কি হবে বরং মন দিয়ে লেখা পড়া করে চাকরিবাকরি করো। স্কুল শিক্ষক বাবার মুখে এসব শুনে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকতাম। প্রতি উত্তরে কিছুই বলার সাহস ছিল না।
কবি হওয়ার সুপ্ত বাসনা তৈরি হয় দ্রোহের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহকে দেখে, পড়ে। কবিতার জন্য মানুষ ঘর ছাড়ে রুদ্রকে না দেখলে হয়তো জানতাম না।
কবিতা আমাকে সন্ন্যাসী করেছে করেছে গৃহহীন নাবিক। কবিতা লিখতে লিখতে কবিরা হয়ে ওঠে জগত শ্রেষ্ঠ প্রেমিক। আমি ও এর বাইরে ছিলাম না, যৌবনে এসেছে অসংখ্য প্রেম। একটা সময় লিখতে শুরু করলাম পত্রপত্রিকায় গল্প কবিতা প্রবন্ধ। শুরুর দিকে যখন খবরের কাগজে ছাপা অক্ষরে নিজের নাম দেখতাম তখন স্বর্গীয় সুখ অনুভব করতাম।
পরবর্তীতে বেরিয়েছে বেশ কিছু বই। প্রকাশ পেয়েছে দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের কণ্ঠে নিজের লেখা ও সুর করা অসংখ্য গান। এখনো চেষ্টা করছি সুরের মূর্ছনায় রাঙিয়ে দিতে সঙ্গীত অঙ্গন।
জীবনে কতটা সফল কতটা ব্যর্থ এসব হিসাব করে সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা হয় না। সময়ের কাছে ছেড়ে দিতে হয় নিজেকে।
তবে কিছুটা সফল অন্তত এই সময়ে দাবি করতেই পারি। যখন দেখি যে বাবা একসময় নিরুৎসাহিত করতেন তিনি আজ উৎসাহ দেন। সাহিত্য সংস্কৃতি যদিও সাধন ভজন ধৈর্য্যরে বিষয় খুব দ্রুত কিছু আশা করাই ভুল। ধৈর্র্য্যরে দীক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলাম সঙ্গীত গুরু কিংবদন্তি গীতিকার আবদুল গফুর হালীর কাছ থেকে।
সৃজনশীল কাজে ভালো লাগা কাজ করে যখন দর্শক শ্রোতাদের ভালোবাসার চাদরে নিজেকে আগলে রাখতে পারি। প্রিয়তমা শাহনাজ রুমীই আমার সাধন সঙ্গী। তার ভালোবাসায় হতে পারি নতুন নতুন কবিতার কবি। ব্যস্ত জীবনে অবসর বলে কিছু নেই তবুও জীবনের প্রয়োজনে একটু সময় পেলে ছুটে যাই গ্রামে, পানগুছি নদীর তীরে খুঁজে ফিরি হারানো শৈশব। যে নদী আমাকে সন্ন্যাসী হতে দেয়নি বারবার টেনে নিয়েছে আপন ভিটায়। কবিতার সন্ধানে কবিকে ভ্রমণে যেতে হয়। একটু সময় পেলে আমিও।

 



আরো সংবাদ