১৯ এপ্রিল ২০২১
`

বসন্তের রঙ

-

ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত। ঋতুরাজ ‘বসন্ত’ এসে গেছে। বাংলা সংস্কৃতির এক অপার নিদর্শন বসন্ত ঋতু। ‘বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে।’ হ্যাঁ, বসন্ত ঋতুর শুরুতে আমাদের মনে-প্রাণে লাগে অন্য রকম এক অনুভূতি। যে অনুভূতি আমাদের শিহরিত করে। করে বিহ্বল। আমাদের মনে-প্রাণে এই যে শিহরণ লাগে তার মূল অনুষঙ্গ হলো প্রকৃতি। বসন্ত ঋতুতে প্রকৃতি কন্যা নতুন রূপে সজ্জিত হয়। গাছে গাছে নতুন কচি পাতার আগমন ঘটে। শিমুল, পলাশ আর কৃষ্ণচূড়ার আগমনে চার দিক লাল রাঙা হয়ে পড়ে। ফাল্গুনের প্রথম প্রহরে রক্তিম লালিমা নিয়ে সূর্য যেন প্রকৃতিতে নতুন রূপে সজ্জিত হয়। আম্রকাননে ভ্রমরের মেলবন্ধন লক্ষ করা যায়। কোকিলের কুহুতানে মুখরিত হয় চার পাশ।
বসন্তে রমণীরা হলুদ-লালচে শাড়ির সংমিশ্রণে নিজেদের নতুনতর ছোঁয়া দান করে। বাসন্তি শাড়িতে অপরূপে সজ্জিত প্রকৃতির সাথে রমণীরা ও নতুন রূপে নিজেকে সাজিয়ে তোলে। ছেলেরা সাদা পাঞ্জাবি আর শিশুরা রঙ-বেরঙের পোশাকে নিজেকে সাজিয়ে তোলে।
এ সময়ে কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। তাই ‘রবিঠাকুর’ কবিতায় লিখেছেন, ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে/তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে/কোরো না বিড়ম্বিত তারে।’
কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘এলো বনান্তে বসন্ত/ বনে বনে মনে মনে রঙ ছড়ায় রে/চঞ্চল তরুণ দুরন্ত।’
ফুল ভালোবাসে না এমন মানুষ খুব কমই আছে পৃথিবীতে। ফুল দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করা যায়। ফুল দিয়ে ভালোবাসার জন্য কোনো দিবস লাগে না! ভালোবাসা শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। ভালোবাসাটা জগতজুড়ে এক মায়ার বন্ধন। বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন সবই ভালোবাসার অংশ। কেউ ভালোবেসে হাসে, কেউ বা ভালোবেসে হাসায়। ভালোবেসে কেউ ছুটে আপনজনের কাছে, কেউ আবার ভালোবাসার টানে ছুটে যায় ছিন্নমূলের কাছে। কেউ ভালোবাসে, কেউ ভাসায়। এই ভালোবাসাবাসির মাঝখানে আবার কেউ এসে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়।
হীনম্মন্যতাকে দূর করে সত্যিকারের ভালোবাসায় নিমজ্জিত হোক সব মানুষ। মানুষ হয়ে আমরা দাঁড়াই মানুষের পাশে। ভালোবাসায় ফুটে উঠুক আমাদের জীবন বসন্তের লাল পলাশের মতো।হ



আরো সংবাদ