০৪ মার্চ ২০২১
`

স্বপ্নের বয়ান

-

এখনো মানুষ ভালোবাসে বলে বেঁচে থাকার ইচ্ছে হয়! পরিচিত, অপরিচিত কত মানুষ পাশ কেটে চলে যায়। কারো সময় আছে আর কারো সময় নেই। কেউ কারো সাহায্যে স্বইচ্ছায় এগিয়ে আসে আর কেউ এড়িয়ে যায়। কারো কথাবার্তা সারাজীবন মনে গেঁথে থাকে হাসিমাখা সুখ হয়ে। আর কারো কারো কথাবার্তা হৃদয়ে দহন লাগিয়ে দেয়! দিন শেষে কেউ কাছে আসতে চেষ্টা করে। আর কেউ দূর নির্বাসনে চলে যায়। কারণ মানুষ মানুষকে ভালোবাসতেও জানে। আবার ভালোবাসার বদলে ঘৃণাও করতে জানে।
দিনটি শুক্রবার। সাপ্তাহিক ছুটির দিন। বাড়ি যাবো। মহাসড়কে এসে দাঁড়িয়ে আছি গাড়ির অপেক্ষায়। প্রচুর গাড়ি দেখে হাত ইশারায় সিগন্যাল দেই। কিন্তু কে কাকে চেনে! অপেক্ষমাণ মানুষ বাংলাদেশে হয়তো এভাবে হাজার হাজার আছে। একটু সহানুভূতি ড্রাইভাররা দেখাচ্ছে না বলে গণমানুষের কর্মসম্পাদনা থেমে আছে এই মুহূর্তে। অথচ সবাই যদি সামান্যতম সহানুভূতি দেখাত পরস্পরের প্রতি তাহলে আজকের বাংলাদেশ হয়ে যেত হৃদ্যতার আবাসভূমি!
আমার তৃতীয়বারের সিগন্যালে কালো রঙের একটি হায়েস এসে থামল। ড্রাইবারের পাশের সিটে বসা ভদ্রলোকটি আমাকে হাত বাড়িয়ে ডাক দিলেন। মুচকি হেসে গাড়িতে উঠলাম। ড্রাইভার ছাড়া গাড়িতে আরো তিনজন লোক ছিলেন। প্রত্যেকের মুখে মাস্ক। হায়েসের সামনের সিটে বেল্টবাঁধা ভদ্রলোকের নাম ‘তাজ ইসলাম’। লম্বাদেহ। সফেদ চেহারা। দেখে প্রথমে মনে হয়েছে বিদেশী লোক। কথায় কথায় জেনেছি কুলাউড়া বাড়ি তাদের। আমার সাথে মিট করতে করতে পাশের সিটে বসে থাকা দু’জন তরুণের সাথেও পরিচয় করিয়ে দিলো। আমি অপর দু’জনের সাথেও হ্যান্ডশেক করলাম। গাড়িতে যথাসম্ভব আমি কথা না বলে চুপ থাকার চেষ্টা করি। গাড়িতে মিউজিক বাজছে। সেই মিউজিক আমাকে চারপাশের সবুজাভ পরিবেশে বিভোর করে রেখেছিল।
খানিক পর আমার নীরবতার প্রহর ভাঙিয়ে তাজ আঙ্কেল আমার সাথে গল্প করা শুরু করলেন এবং জানতে চাইলেন বাড়ি কোথায়? নাম কি? আমি মুখে মুখে প্রত্যুত্তর দিলাম। আলাপচারিতায় সবার সাথে অন্তরঙ্গ হয়ে গেলাম। তবুও আমার বয়েসের তুলনায় তারা অনেক বড়। তাই আমি কখনোই কথাবার্তায় অ্যাকসেস বাতচিত করিনি।
তাজ আঙ্কেল, মজার মানুষ। কথার ভেতর জাদু আছে, এই কথা স্বীকার করতে হবে। তিনি প্রতিটি কথায় বড্ড হাসাতে পারেন। তার নাম আমাকে দু’-একবার বলার পর ফের জিজ্ঞেস করলেন, এখন বলো তো আমার নাম কি? আমি বললাম, আঙ্কেল...! সবাই হেসে কুটিকুটি।
এক সময় কী কারণে জানি না, আমার সাথে কথা বলতে সবাই আনন্দবোধ করতে লাগল। আমারও অনেক ভালো লাগছিল তাদের সাথে থাকতে। তাদের কথাবার্তায় যতদূর জানলাম আমার মতো তারাও সংস্কৃৃতিপ্রেমী। রবীন্দ্রচর্চা তারা নিত্য করেন। একজন তো গড়গড় করে অনেকগুলো নজরুলগীতি শুনিয়ে দিলেন। তারপর চলতে থাকল, রবীন্দ্র এবং নজরুল নিয়ে নানা প্রসঙ্গে কথাকলি। আমি কথার এক ফাঁকে বলে ফেলি, আমিও সাহিত্যচর্চা করি এবং কবিতা লিখি। ওমনি সবাই জোরাজোরি করলেন কবিতা শুনানোর জন্য। আমার মুখস্থ কোনো কবিতা ছিল না বলে ডায়েরি থেকে একটি কবিতা পড়ে শোনালাম। আবৃত্তি খুব মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করলেন সবাই। আবৃত্তি শেষে সবাই বাহবা দিলেন খুব। তাজ আঙ্কেল জানতে চাইলেন, আমার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন কী? কি হতে চাই জীবনে?
আমি কবি হবো। গ্র্যাজুয়েশন পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা অনার্স নিয়ে পড়ব। এরপর ঢাকা মহানগরে প্রতিটি গলিপথে ঘুরব। রাস্তার পাশে টঙ দোকানে চা খাবো। সাধারণ কবি হয়ে গলির মানুষের সাথে মিশব। তাদের দুঃখ-কষ্ট কবিতায় লিখব। কবিতার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে চাই এদেশের দুঃখী শ্রমজীবী, বিধবা নারীর পূর্ণ অধিকার।
এ দেশের মানুষের বুকে কবিতার বীজ বপন করতে চাই। একজন সৃষ্টিশীল কবি হয়ে এ দেশের কবিতাঙ্গনকে যুগ-যুগান্তর প্রাণবন্ত করে রাখতে চাই। তাজ আঙ্কেল আমাকে উৎসাহ দিলেন। আমি নিজের স্বপ্নের ওপর দৃঢ় থাকার প্রেরণা পেলাম নতুন করে।



আরো সংবাদ


১৩৫৬ দিন বয়সের ভিসি ১১১৯দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত নর্দান শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা রসিক মেয়রের নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন সেব্রিনা ফ্লোরার নোয়াখালীতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন আবরার হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ ৪ বড় ফেরি বিকল, তীব্র যানজট বিশ্ববাজারে তাঁতবস্ত্রের প্রসারে অবদান শাহজাদপুরে নারী উদ্যোক্তাকে সংবর্ধনা টেকনাফে ‘ক্রিস্টাল মেথ’সহ গ্রেফতার ১ ছাতকে অবৈধ স্থাপনা : উচ্ছেদে অনিয়মের অভিযোগ ফরিদপুরে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের চেক বিতরণ করোনার টিকা নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সকল