২৭ নভেম্বর ২০২০

নিজের সাথে কৌতুক

-

মানুষটার কপালে সবসময় তিনটে ভাঁজ পড়ে থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, বছরের পর বছর, একটা মানুষ কিভাবে বিরক্ত হয়ে থাকেন। এক ছাদের নিচে তবুও বিষণœ আকাশে চাঁদ ছড়িয়ে দিয়েছে। যে মানুষটা চাঁদের আলোতেও হাসতে দেখিনি তার কি কোনো মন থাকতে পারে?
তার হাত ধরে কখনো সৈকত বা নদীর কিনারায় হাঁটা হয়নি। তাই সমুদ্রের প্রতি তেমন একটা মায়া জাগে না। মেয়েটি আবার বছরের পর বছর নির্জনে একা কাটিয়েছে তাই তেমন কোলাহল ভালো লাগে না।
বৃষ্টির দিনগুলোতে মেয়েটির খুব ভিজতে মন চাইত, মেয়েটি জানালা দিয়ে বৃষ্টি ছুঁয়ে দেখত। কনকনে শীতে নীড়হারা পাখিদের মতো উম পেতে চাইত তার বুকের পাঁজরে, সেই কখনো এমন আশ্রয়ে মেয়েটিকে ভুল করেও আশ্রিতা করেনি। বড় উৎসবগুলোতে, যেমন ঈদ সবসময় মা-শাশুড়ি মাকে খুব ভোরে বাবা মসজিদে যাওয়ার আগে মা নতুন শাড়ি, নতুন জুতা, পুরনো ডিজাইনের গয়নাগুলো পরে ঈদের প্রথম সালামটা বাবাকে করত। বাবার গায়ে আতর মেখে দিতে দিতে জড়িয়ে ধরে মায়ের কপালে চুমু এঁকে দিতো। আর এই লৌহমানবটার জন্য, বিশেষ দিনগুলোতে নিজেকে পরীর মতো করে তুললেও ফিরে তাকাতো না। একটা যন্ত্রকে ব্যবহার করা যায় জোর করে, কিছু আদায় করা যায় না। কোনো জুটির গল্প শুনলে, দেখলে হারিয়ে যায় মেয়েটি কল্পনায়। ম্লান হেসে দীর্ঘশ্বাস উড়িয়ে দিয়ে আবার আশায় থাকে সেই ফিরে পাওয়ার দিনগুলোর। এভাবে অনেক না পাওয়াতে থেকে বঞ্চিত হয় অনেক দম্পতি। গুমরে গুমরে মেরে ফেলে তাদের বুকের ভেতর।
এ ধরনের মেয়েরা শুধু বিয়ের আগে স্বপ্নগুলো চোখে বাঁচিয়ে রাখতো, বিয়ের পরে স্বপ্নগুলো সীমাবদ্ধ থেকে টানাহ্যাঁচড়ায় পড়ে যায়।
পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কাজ হচ্ছে নিজের সাথে কৌতুক করা। অথচ বছরের পর বছর এভাবেই কৌতুক করে যায় কেউ টেরও পায় না।হ


আরো সংবাদ