২৯ অক্টোবর ২০২০
প্র কৃ তি নি য়ে

প্রকৃতির সৌন্দর্য ও আনন্দ

-

প্রকৃতি পাঠে আছে আমার অনন্ত তৃষ্ণা। এ তৃষ্ণা চিরন্তন। অবচেতন ভাবেই প্রকৃতির মায়া আমাকে জড়িয়ে রেখেছে আদিম মমতায়। নদী সাগর পাহাড় এসব আমাকে যেন ঘুম থেকেও ডাকে। হাতছানিতে ডাকে তবুও আমিও ছুটে যাই প্রকৃতির কাছে। নিবিড় সবুজের মাঝে মিশে যাই। কখনো বা আমার গ্রামকে দেখতে যাই। ছুটি দিগি¦দিক। আনাচে-কানাচে। প্রকৃতি পাঠের মধ্য দিয়ে অদেখা-অজানার অনন্ত তৃষ্ণাকে তৃপ্ত করতে মরিয়া হয়ে যাই। দেখি প্রকৃতিতে কত না রূপান্তর, নয়নাভিরাম দৃশ্য। কত বৈচিত্র্যময় চিত্তাকর্ষক রূপ রঙ। দেখি ভাবি। ভাবি আর ভাবি। এই যে প্রকৃতিতে আমরা যা দেখি তার কতটুকু দেখি দেখার দৃষ্টি দিয়ে? যতটা দেখি তার কতটাই বা অনুভব করি? প্রকৃতির গূঢ় রহস্য বের করার মতো চিন্তাই বা করেছি কখনো! জগতে ফেলনা কিছু নেই। দেখার দৃষ্টি তীক্ষè হলেই বস্তু যত ক্ষুদ্র্রই হোক না কেন তা যেমন হয়ে ওঠে অমূল্য। আবার দৃষ্টি মন্থর হলে অমূল্য বস্তুটিও দলে যাই নিয়ত অবহেলায়। এই যে পথপাশে বুনো ঘাস হয়ে জন্মানো ঘাসফুলটিও তো কম সৌন্দর্য্য নিয়ে জন্মায়নি। কী অপার মহিমায় মেলে ধরে ঐশ্বর্য। সুশোভিত করে আছে সবুজ দিগন্ত। অগণিত রঙিন ঘাসফুল কী বিচিত্র নকশায় ফুটে বিছানা পেতে রেখেছে একটি সবুজ মাঠে। যেন মায়ের হাতে বোনা, যেন বোনের হাতে বোনা যতেœ সেলাই করা বাংলার নকশি কাঁথা। মনোহরিণী এই মাঠ দেখামাত্রই ইচ্ছে করে ছুঁয়ে দেই। বুকে জড়িয়ে একটু ঘুমাই। এ ঘুমে কোনো স্বপ্ন না আসুক। কেননা স্বপ্নই তো বাস্তব হয়ে ফুটে আছে স্বয়ং হাতের মুঠোয়। এতটা কাছে না এলে কিংবা অবহেলার চোখ এই বাংলার রূপ না দেখে মলিন হয়ে পড়ে থাকতো বিস্তীর্ণ মন-মরুতে। এই পথে আর কতটুকু হাঁটা যায়। ওসব ফেলে আমি চলতে থাকি। অবিরাম চলতে থাকি। দেখতে থাকি বাংলার রূপ। এই যে রাস্তার পাশে লোহিত লালের ডালা সেজে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়াটির লালিমা, সহজেই আমার মন কাড়ে। আহা কী টকটকে লাল-সবুজের বুক চিরে বেরিয়ে এসে আপন মহিমায় হাসছে। বিলাচ্ছে তার বিলাসী রক্তিম সৌন্দর্য! ঠিক যখনি দেখি তার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া পাখির ঝাঁক। দৃশ্যটা আরো বেশি আনন্দময় করে তোলে আমাকে। আনন্দের ওপর উপরি মাত্রা পাওয়া আনন্দ উম্মাদ করে তোলে আমাকে। আহা আমিও যদি পাখি হতাম উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে দেখে নিতাম চির সবুজ চির মায়াময় আমার বাংলার অপরূপা মুখ।


আরো সংবাদ