২৮ অক্টোবর ২০২০

শরত-শোভা

-

ছোটখাটো একটা চাকরি। খুব বেশি বেতনের না হলেও খারাপ না। মধ্যমভাবে চলার জন্য যথেষ্ট। আমি, বাবা-মা আর শোভাকে নিয়ে আমার সংসার। শোভা আমার স্ত্রী। তার চাহিদার বাড়াবাড়ি নেই মোটেও। তবে একটু আহ্লাদি। তাও আবার আমার কাছে।
শরত এলে আমাদের বাসার সামনের কামিনী ফুলের গাছটা ভরে যায় ফুলে ফুলে। সকালবেলা গাছের তলাটা ফুলে সাদা হয়ে যায়। শোভা গিয়ে ফুল কুড়িয়ে আনে। আমাকে মালা গেঁথে গলায় পরায়। কখনো সে নিজে পরে, আবার কখনো কখনো খোঁপায় পরে। এতে যেন শোভার রূপ আরো বেড়ে যায়। শরতের শুভ্র আকাশ, ছোট ছোট মেঘের আনাগোনা শোভার খুব পছন্দের! আমার প্রিয় বর্ষা হলেও, শোভার প্রিয় শরৎ। শরতের জোছনা রাতে বেতের মোড়ায় বসে গভীর রাত পর্যন্ত শোভা আমার সাথে গল্প করে। এমন রাতে নাকি ভুতুড়ে গল্প শুনতে শোভার ভালো লাগে! সে গল্প বলে আর আমি মুগ্ধ শ্রোতা হই।
বাড়ির খানিকটা দূরে চানখালি খাল। খাল হলেও বেশ বড়। খালের পাড়জুড়ে অসংখ্য কাশফুল! শরৎ এলে খালের পাড় ফুলে ফুলে সাদা হয়ে যায়! মনে হয় খাল যেন সাদা বেনারসিতে সেজেছে! কাশবনের মাঝে সদ্য ডিম ফুটে বের হওয়া ডাহুক ছানার ছুটাছুটি, ডাকাডাকি। খালের ঝির ঝির বাতাস কাশবনে দোলা দেয়।
বন্ধের দিন বিকেলে শোভা বায়না ধরে খালের পাড়ে যেতে। আমিও না করি না। খালের কাছে গেলে কেন জানি মনটা আমারও হালকা হয়ে যায়। হালকা আকাশি শাড়ি পরে শোভা কাশবনের সামনে দাঁড়ায়। বাতাসে উড়ে তার চুল। সেই চুল কখনো আমার মুখে এসে লাগে। আর আমি মনে মনে ভাবি, ভালোই তো চলছে জীবন। খারাপ না! পাওয়া না পাওয়ার মাঝেই তো আমার প্রাপ্তি শোভা। একটু সুখ, এই তো চাওয়া! যাক না এভাবেই শরতের মতো বাকিটা জীবন।
Ñ পটিয়া, চট্টগ্রাম


আরো সংবাদ