২৮ অক্টোবর ২০২০

স্বপ্ন ও অশ্রু

-

বিয়ের পর সালেহা বেগমের জীবন বেশ সুখেই কাটতে লাগল। একজন নারীর কাছে সবচেয়ে সুখের ব্যাপার হলো সুন্দর করে সংসার সাজানো। কিছুদিন পর সালেহার কোল আলোকিত করে এক ফুটফুটে ছেলে সন্তান আসে। এতে তাদের আনন্দ আরো বহুগুণ বেড়ে গেল। স্বামী, সন্তান নিয়ে বেশ সুন্দরভাবেই কেটে যাচ্ছিল। হঠাৎ এক ঝড়ে সব এলোমেলো করে দেয়। ইলেকট্রিক শক খেয়ে তার স্বামী মারাত্মকভাবে আহত হয়। যত টাকা পুঁজি ছিল সবই তার পেছনে ব্যয় করেও তাকে বাঁচানো গেল না। অকালে স্বামীকে হারিয়ে সালেহা পাগলের মতো হয়ে যায়। তার বাবার অত টাকা-পয়সা নেই যে তাকে এবং তার সন্তানকে দেখভাল করবে। অনেকেই পরামর্শ দিয়েছিল ছেলেকে দত্তক দিয়ে অন্য কোথাও বিয়ে বসে যেতে। সালেহা সাফ জানিয়ে দিলো, জীবন গেলেও সন্তানকে ছেড়ে সে কোথাও যাবে না। নানা কটূ কথায় জর্জরিত সালেহা সব কিছু মুখবুজে সহ্য করল।
সবার কটূ কথা তুচ্ছ করে জীবনযুদ্ধে নামলেন তিনি। ভাত-তরকারি রান্না করে বিভিন্ন মেসে দিতে লাগলেন। দিনে দিনে তার কাস্টমার বাড়তে লাগল। পরিষ্কার-পরিছন্নতা এবং সুস্বাদু রান্নার জন্য সালেহার সুনাম ছিল। ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন। যে করেই হোক ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করতেই হবে। অমানুষিক পরিশ্রমের কারণে ছেলে আস্তে আস্তে ভালো রেজাল্ট করতে থাকে। সন্তানের ভালো রেজাল্ট সালেহার সব কষ্ট দূর করে দেয়। একদিন ছেলে এসে বলল,
‘মা, মা, আমি বুয়েটে চান্স পেয়েছি’।
ছেলের কথা শোনে বুকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কাঁদতে লাগল। ছেলেও মাকে ধরে কাঁদছে।
নানা কষ্ট ও সংগ্রামের ভেতর দিয়ে কীভাবে যে পড়াশোনা শেষ হয়ে গেলো অবাক সালেহা! ছেলের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সালেহাকে নিয়ে যাওয়া হলো। ভালো রেজাল্টের জন্য ছেলে গোল্ড মেডেল পায়। গোল্ড মেডেল এনে সালেহার হাতে দিলো। আর হ্যাটটা মাথায় লাগিয়ে দিয়ে ছেলে বলল,
‘এসব প্রাপ্তি আমার না। এগুলো সব তোমার।’
সালেহার চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগল। এই কান্না কষ্টের না, এই কান্না আনন্দের। আকাশের দিকে তাকিয়ে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, দেখো তোমার ছেলে আজ কত বড় হয়ে গেছে।


আরো সংবাদ