১২ আগস্ট ২০২০

ভাইরাস যেদিন চলে যাবে!

চারাগল্প
-
24tkt

করোনা নামক ভয়াল ভাইরাসের গ্রাসে আক্রান্ত পৃথিবী। সেই ভয়াল গ্রাসকে পরাজিত করতে গিয়ে ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ ছিলাম কিছু দিন। চেহারাটা আগের থেকে একটু ফকফকা হয়েছে। তবে পকেটের অবস্থা যায় যায়। এখন ঘর থেকে বের হয়েছি। বের হওয়ার পরে সোজা সেই চিরচেনা রাস্তার ধারে চলে এলাম। রাস্তাটা এখনো আগের মতো নির্জন। তবে খাঁ খাঁ রোদের তেজ সোজা রাস্তার ওপর পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো বন্ধ। এই দুপুরে আমার অপেক্ষা বৃথা যাবে নিশ্চিত। এই রাস্তাটায় দুপুরে নিলা কলেজ থেকে বাড়ি ফিরত। আমি তার অপেক্ষায় রাস্তার একপাশে বসে থাকতাম। নিলা বেখেয়ালি ভাব করে আমার পাশ ঘেঁষে চলে যেত। একবার আমার দিকে মুখ তুলেও চাইত না। আজও নিলার আসার সেই রাস্তার পানে চেয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবছি নিলা কি আজ আসবে? সেও নিশ্চয় অনেক দিন ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ ছিল। ঘরে থাকতে থাকতে নিশ্চয় সেও আগের থেকে অনেক ফর্সা হয়েছে!
এসব ভাবছিলাম। আচমকা আমার চোখ জোড়াকে অবাক করে দিয়ে পথের ওইপ্রান্ত থেকে নিলা আসতে লাগল। আমি আগের মতো পথের ধারে বসে পড়লাম। মাথা নিচু করে বসে রইলাম। একটু পরে নিলা আমার পাশ দিয়ে চলে যাবে। আজো কি কিছু বলবে না? প্রায় দু’মাস হয়ে গেছে নিলার এক বান্ধবীকে দিয়ে তাকে ভালোলাগার কথা জানিয়েছিলাম।
নিলা আমার কাছাকাছি এসেই থমকে দাঁড়াল। তার এমন দাঁড়িয়ে যাওয়া আমি আশা করিনি। একটু নার্ভাস হলাম। তবে ভয় পেলাম না। বসা থেকে উঠে দাঁড়ালাম। নিলার চোখে চোখ রাখতেই সে বলে উঠল, ‘এখনো বিপদ কেটে যায়নি! ঘর থেকে বের হওয়া একেবারেই উচিত হয়নি।’
‘তবে তুমি কেন বেরিয়েছ?’ আমি জানতে চাইলাম।
‘আমি জরুরি দরকারে বেরিয়েছি।’ সে উত্তর দিলো।
আমি তার হাতের দিকে তাকালাম। হাতে ওষুধের থলে দেখতে পেলাম। তার মানে সে সত্যি কথা বলেছে।
‘আমিও জরুরি দরকারেই বেরিয়েছি।’ আমিও সোজা বলে দিলাম। নিলা আমার কথা শুনে মুখ বাঁকা করে চলে যেতে লাগল। আমার কাছে আজ খুব আনন্দ লাগছে। নিলা আজ এই প্রথম আমার সাথে কথা বলেছে। বুকে সাহস সঞ্চার করে পেছন থেকে চেঁচিয়ে বললাম, ‘এখনো উত্তর জানালে না।’
নিলা পেছন ফিরে চাইল। তারপর একটা হাসি দিয়ে বলল, ‘পৃথিবী থেকে এই মারাত্মক ভাইরাস যেদিন চলে যাবে সেদিন উত্তর দেবো!’
ছাগলনাইয়া, ফেনী


আরো সংবাদ