৩০ মার্চ ২০২০
পাঠক সংখ্যা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ

-

যৌবনের কবি হেলাল হাফিজের অস্ত্র সমর্পণ কবিতায় লিখেছেন, মারণাস্ত্র মনে রেখো ভালোবাসা তোমার আমার/ মাস বন্ধু বলে জেনেছি তোমাকে, কেবল তোমাকে/ বিরোধী নিধন শেষে কতদিন অকারণে/ তাঁবুর ভেতরে ঢুকে দেখেছি তোমাকে বারবার কতবার/ মনে আছে, আমার জ্বালার বুক/ তোমার কঠিন বুকে লাগাতেই গর্জে উঠে তুমি বিস্ফোরণে প্রকম্পিত করতে আকাশ/ আমাদের ভালোবাসা মুহূর্তেই লুফে নিত অত্যাচারী শত্রুর নিঃশ্বাস।
স্বাধীনতা হীনতায় কে চায় বাঁচিতে। মূলত মানুষ স্বাধীন প্রিয়। স্বাধীন ভাবে বাঁচতে চায়। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়তে চায় প্রতিটি স্বাধীনচেতা প্রাণী। তেমনি বাংলাদেশের মানুষ ১৭৫৭ সালে ২৩ জুন পলাশীর আম্র কাননে লর্ড ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে মরণপণ যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। যদিও এ পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল সিরাজউদ্দৌলার সেনাপতি মীর জাফর আলি খাঁ ও তার অনুচরদের বিশ্বাসঘাতকতা। এ যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়েই বাংলার স্বাধীনতার সূর্য প্রায় ১৯০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়ে যায়।
১৯০ বছরের ব্রিটিশ রাজত্ব শেষে ২৪ বছরের পাকিস্তানি গোলামীর জিনজির ভেঙে ১৯৭১ সালের মার্চ-ডিসেম্বর ৯ মাসের মরণপণ লড়াইয়ে মুক্তি সংগ্রামে বিজয় লাভ করে লাল-সবুজের পতাকা অর্জন করে। ১৯৭১ নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের অধিকার অর্জন করলেও ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে রাজি ছিল না। যদিও ৩ মার্চ ১৯৭১, ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের তারিখ নির্ধারিত হয়, কিন্তু ভেতরে ভেতরে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পশ্চিম পাকিস্তানের পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বোনা শুরু করে। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ কোনো কারণ ছাড়াই ৩ তারিখের নির্ধারিত অধিবেশন বাতিল করা হয়। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারা দেশে পাঁচ দিনের হরতাল এবং অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। পাঁচ দিন হরতাল শেষে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ঘোষণা করেন- ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সারা দেশ যখন ক্ষোভে উত্তাল তখন সামরিক বাহিনীতে চলতে থাকে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যার পূর্বপ্রস্তুতি।
অপারেশন সার্চলাইট ১৯৭১- ২৫ মার্চ কালরাতে জেনারেল ইয়াহিয়া পাকিস্তানি বাহিনীকে বাঙালি নিধনযজ্ঞের সবুজ সঙ্কেত প্রদান করে সন্ধ্যায় গোপনে পশ্চিম পাকিস্তান যাত্রা করে। সে রাতেই পাকিস্তান বাহিনী শুরু করে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের হত্যাযজ্ঞ, যার উদ্দেশ্য ছিল বাঙালিদের প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে পাকিস্তানির বর্বর নির্যাতন ভুলে যাওয়ার মতো নয়।
বাংলাদেশের নিয়মিত বাহিনী কমলপুর, বিলোনিয়া, বয়রা প্রভৃতি সীমান্ত পোস্টে হামলা করে এবং ৩০৭টি পোস্টের ৯০টিই দখল করে নেয়। পাশাপাশি গেরিলা বাহিনীর হামলাও তীব্রতর হয়ে ওঠে। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার বাহিনীর নিয়মিত কাজ ছিল সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করা এবং দেশপ্রেমিক বাঙালিদের নির্যাতন করা। কিন্তু অক্টোবরের শেষের দিকে মুক্তিবাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়ে তারা দিনের বেলাতেও নিজেদের সামরিক ঘাঁটি থেকে বের হতে ভয় পেত। এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে জরুরি ভিত্তিতে পাঁচ ব্যাটালিয়ন সৈন্য তলব করা হয়।
বাংলাদেশের ভেতর তখন পাকিস্তানের পাঁচটি পদাতিক ডিভিশন। ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেটি চলে মাত্র ১৩ দিন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাকিস্তানের একটি একটি করে ঘাঁটির পতন হতে থাকে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় রেডকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনীর প্রধান জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।

 


আরো সংবাদ

বৃদ্ধকে কান ধরে উঠবস করানো এসিল্যান্ডকে একহাত নিলেন আসিফ নজরুল (২৫১২৪)করোনার বিরুদ্ধে লড়াকু ‘বীর’ চিকিৎসক যে ভয়াবহ বার্তা দিয়েই মারা গেলেন (২৪৫০৫)ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর করোনার খবরে পেছনের দরজা দিয়ে পালালেন উপদেষ্টা (ভিডিও) (১৪৩৬৩)অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া আর নেই (১২১৬৯)মুক্ত খালেদা জিয়ার সাথে দেখা হলো না সানাউল্লাহর (৯৭৮৪)কান ধরে উঠবস করানো সেই এসিল্যান্ড প্রত্যাহার (৯৭০৮)করোনার ওষুধ আবিষ্কারের দাবি ডুয়েটের ৩ গবেষকের (৯১৭৪)প্রবাসীর স্ত্রীর পরকীয়ার বলি মেয়ে (৮৯০১)করোনার আক্রমণে করুণ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের (৮৭৮৩)মোদি-যোগির রাজ্যে ক্ষুধার জ্বালায় ঘাস খাচ্ছে শিশুরা (৮৫৯৭)