২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

বসন্তের সেই মেয়েটি

চারাগল্প
-

বসন্ত বাতাসে গাছের পাতারা শূন্যের মাঝে আনন্দ করতে করতে ঝরে পড়ে মাটিতে। আহ! এই ঝরে পড়া পাতাদের এমন অনাবিল আনন্দ আমাকে মুগ্ধ করে। এমনি ফাল্গুনে আমি ছুটে যাই গ্রামে। গ্রাম ছেড়ে আমার মন আর কোথাও ফিরে যেতে চায় না। আমি বিকেলে ছুটে যাই রাস্তার ধারে। মনের রাজ্যে সুখেরা পেখম মেলে ওই নীল আকাশের তীরে ভিড়তে চায়। এমনি এক পাতাঝরা লগ্নে পাশে দিয়ে কারো হেঁটে যাওয়া অনুভব করলাম। বসন্তের বৈরী হাওয়ারা তার থেকে মিষ্টি ঘ্রাণ চুরি করে এনে আমার নাকে ছুড়ে দিলো। আমি ব্যাকুল হয়ে গেলাম। এই ঘ্রাণ আমাকে মোহিত করে টেনে নিয়ে যেতে লাগল। আমি বুঝতে পারছিলাম, এই মায়াবী ঘ্রাণ বসন্তের হাওয়ায় উড়ে চলা কোনো ললনার এলোমেলো চুল থেকে আসছিল। আমি পেছন পেছন যেতে লাগলাম। কিছু দূর যাওয়ার পর সে আচমকা দাঁড়িয়ে পড়ল আর পেছন ফিরে আমাকে সালাম দিলো, ‘আসসালামু আলাইকুম। ভাইয়া কেমন আছেন?’
আমি সালামের উত্তর দিয়ে বললাম, ‘তোমাকে তো চিনতে পারলাম না...’।
Ñ‘ভাইয়া আমাকে চিনতে পারছেন না! আমি নিলা! আপনার আছমা ফুফুর মেয়ে...।’
-‘ওহ, চিনতে পেরেছি। অনেক বড় হয়ে গেছ! সেই ছোটবেলায় দেখেছি। তোমার আম্মু কোথায়?’
Ñ‘আম্মু দুই দিন পরে আসবে’। বলেই সে আবার বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করল।
বসন্তের সারা রাত উন্মাদ হাওয়ারা সেই পুরনো ঘ্রাণ যেন শুধু আমার জন্য বয়ে আনছিল। আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনি। আমি মনে মনে ঘুম কেড়ে নেয়া মেয়েটির নাম দিলাম ‘বসন্তের মেয়ে’!
সে দিন বিকেল বেলা তাকে বাড়ির একটা পিচ্চি বাবুর মাধ্যমে রাস্তায় ডেকে পাঠালাম। আমার ডাকে সাড়া দিয়ে কিছুক্ষণ পর সে এসে পৌঁছাল। এসেই আমার কাছে জানতে চাইল ‘কেন ডেকেছেন ভাইয়া?’
Ñ‘এমনি বসন্তের দিনে কেউ কী ঘরে বসে থাকতে পারে? তোমাকে পাতাদের ঝরে পড়া দেখাব! আমার কথা শুনে সে হেসে বলে উঠল ‘পাতা ঝরে পড়ার মধ্যে দেখার এমন কী আছে?’
পরেরদিন বিকেল বেলা। আমি আবার রাস্তার ধারে ছুটে এলাম। এসেই আমি খুব অবাক হলাম। কারণ আমার আসার আগেই সে এসে পড়েছে। ঝরতে থাকা পাতাদের ছুঁতে চাইছে। আমি তার কাছে জানতে চাইলাম, ‘কি বিষয়! আজ আগেই চলে এলে’?
Ñ‘কাল খুব আনন্দ পেয়েছিলাম! আসলে আপনি না দেখালে বুঝতেই পারতাম না পাতাদের ঝরে পড়া দেখতে এত ভালো লাগে!’ সে উত্তর দিলো। আমি মুগ্ধ হয়ে তার কথা শুনছিলাম। আমি ভনিতা করা পছন্দ করি না। তাই সরাসরি ওকে বলে ফেললাম, ‘নিলা আমি তোমার সাথে সারা জীবন এভাবে পাতাদের ঝরে পড়া দেখতে চাই!’ আমার কথা শুনে সে থমকে গেল। তার চেহারায় অমানিশার অন্ধকার ঘনিয়ে এল। এ দিকে আমি টেনশনে ঘামে ভিজে যাচ্ছিলাম। আমার বুকের নিঃশ্বাসরা আরো ঘন হতে লাগল। মনে হচ্ছে নির্ঘাত অপমান হতে চলেছি! মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েও ফেললাম। সে এখনো থমকে রইল। আমার দিকে সরাসরি তাকিয়ে আছে। যেন আমার মুখে এই কথা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমি একটু লজ্জিত হয়ে গেলাম। সে আমার দিকে তাকিয়ে কিছু বলার প্রস্তুতি নিলো। তার পর বলে দিলো, ‘আমিও’!
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী।

 


আরো সংবাদ