২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

পাগলামি

-

রহমান, বয়স পঞ্চাশ কি ষাট হবে। যুদ্ধের সময় তখন সে ছোট। বাবা যুদ্ধে গেল। যুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীন হয়, কিন্তু রহমানের বাবা যুদ্ধ থেকে ফিরে এলো না। বাবার অনেক খোঁজ করা হলো। কিন্তু কোনো সন্ধান পাওয়া গেল না। সেই থেকে এই স্মৃতিসৌধেই রহমান থাকে। এই স্মৃতিসৌধই তার বাবা। এই স্মৃতিসৌধের সাথে সে একা একা দাঁড়িয়ে কথা বলে, হাসে। স্মৃতিসৌধে এসে দাঁড়িয়ে থাকে। দুই হাত তুলে দোয়া করে। ১৬ ডিসেম্বর এলে রহমান সবার আগে এসে স্মৃতিসৌধে ফুল দেয়।
এবার ১৬ ডিসেম্বরে রহমান স্মৃতিসৌধে এসে খুব কষ্ট পেল। সে দেখল কিছু তরুণ স্মৃতিসৌধের বেদিতে জুতা পায়ে উঠছে, ছবি তুলছে। ফুল দেয়ার ছবি। এ যেন ছবি তোলার উৎসব। তাদের মুখে অট্টহাসি। নেই শ্রদ্ধাবোধের চিহ্ন কারো চেহারায়। ক্যামেরা নিয়েই ব্যস্ত তারা। রহমান পাশেই দাঁড়িয়ে থাকে, আর মাথা নিচু করে থাকে। সবাই ছবি তুলছে, ফুল দিচ্ছে শ্রদ্ধায় নয়, ফেসবুকে দেয়ার জন্য। এসব বুঝতে পারে রহমান।
তারা অনেকক্ষণ এভাবে ছবি তুলে তারা চলে যায়। তারা যাওয়ার পর রহমান তার ছেড়া পাঞ্জাবি দিয়ে সৌধবেদি মুছে দেয়। আর বিড় বিড় করে বলতে থাকে, ‘বাবা তুমি রাগ করো না। এরা বুঝে না।’ রহমানের এমন কাজ দেখে পাশে থাকা কয়েকজন বলে উঠে, ‘দেখ দেখ, রহমান পাগলার কাজ দেখ। তাড়াতাড়ি ছবি তুলে নে। ফেসবুকে দিলে লাইক পড়বে অনেক! ভাইরালও হয়ে যেতে পারে!’

 


আরো সংবাদ