২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

অসহায় সরকার

-

শাহান শাহ সরকার। নাম সরকার হলেও অর্থনৈতিক অবস্থার সাথে নামের কোনো মিল নেই। জীবন যে এক মহা সংগ্রামের নাম। নিয়তির খেলা বোঝা বড় দায়। তিন মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। সম্বল মাত্র একটি ভ্যানগাড়ি। সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যে কয় টাকা হয় তা দিয়েই শাহানের পরিবার চলে। তার মধ্যে আবার যদি অসুখ বিসুখ হয় তখন ঋণের বোঝা বৃদ্ধি ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এরই মধ্যে গত ২ মার্চ ঘটে গেল শাহানের পেটে লাথিমারা এক কাণ্ড।
২. শাহান ভ্যান নিয়ে প্রতিদিনের মতো সে দিনও বেরিয়েছে। হঠাৎ এক ভদ্রলোক ভ্যানে উঠে বলল; এই মামা চলো। সারাদিন আমাকে নিয়ে ঘুরবা। যত টাকা লাগে দেবো। কোম্পানির টাকা ওঠাতে হবে তো! তাই বাড়ি বাড়ি যেতে হবে। গ্রামের সহজ সরল শাহান রাজি হয়ে গেল। মূলত লোকটি ছিল চোর, ভদ্রলোক সেজেছিল। মিছামিছি কয়েক বাড়ি ঘুরার পর দূরে একটি বাড়ি দেখিয়ে দিয়ে সরকারকে বলল; যাও, ওই বাড়িতে গিয়ে দেখবে অমুক নামের এক ব্যক্তি আছে। তাকে বলো, এই নাম্বারে ফোন করতে। সে ১২ হাজার টাকা দেবে। টাকাটা নিয়ে এসো। শাহান সাহেব গেল এবং অনেক খোঁজাখুঁজির পর সেই নামের কাউকে পেলো না। অবশেষে ফিরে এসে দেখে না আছে তার ভ্যান, না আছে সেই ভদ্রলোক।
৩. বাঁশবাড়িয়া গ্রামের কামারখন্দ থানার সিরাজগঞ্জ জেলার অসহায় শাহান সরকার, এবারের মতো দ্বিতীয়বার ধোঁকা খেলো। প্রথমবার টাকা ভাঙানোর কথা বলে ৫০০ টাকার নোট একটা ধরিয়ে দিয়ে ভ্যান নিয়ে চম্পট দিয়েছিল তিন যাত্রী। যুগে যুগে টাউট বাটপাররা এভাবেই রূপ পাল্টাতে থাকবে। তবু কি শাহানরা সতর্ক হবে না! ওরা কি জানে? শাহানের ফুটফুটে সন্তানগুলো কী অধীর আগ্রহে তাকিয়ে ছিল সে দিন বাবার পথের দিকে।
ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ।


আরো সংবাদ