০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯,
`

ইন্টারনেট সেবা

-

বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ব কোভিড-১৯-এর জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি নিয়ে দিন পার করছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস, মিটিং, ক্লাস, ক্রয়-বিক্রয়, চিকিৎসাসেবা বা সব কিছুই এখন ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে পড়েছে। অনেক দেশ এ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিনা মূল্যে ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। ফলে তারা অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসাসেবাসহ সব কিছু এই মহামারীর মধ্যেও সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে। অথচ আমাদের দেশে এসব কাজে ধীরগতি লক্ষণীয়। নেই বিনামূল্যে কোনো ইন্টারনেট সেবা, আবার অপারেটরগুলো যে স্বল্পমূল্যে ডাটা কিংবা ফ্রি মেসেঞ্জার, ফেসবুক, ফ্রি ডাটা অফার দিয়ে যাচ্ছিল; তাতেও বাধ সাধা হয়েছে। ইন্টারনেট সেবায় বাধা দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ব্যবস্থা করা হয়নি কোনো বিকল্প স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সেবার।
দেশে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ক্রমবর্ধমান। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সাথে সাথে টেলিযোগাযোগ অপারেটরের নানাবিধ সেবা ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি অপারেটরদের সেবাসংক্রান্ত বিষয়ে গ্রাহকের অভিযোগও বেড়েছে। পাশাপাশি অপারেটরদের ইন্টারনেট সেবাদানের মাধ্যমে বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতার বিষয়টিও সত্য। কিন্তু বিটিআরসির চিঠির মাধ্যমে এ বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের ঘোষণা কখনোই অভিযোগের সমাধান হতে পারে না। এর বিকল্প কোনো সমাধান থাকতে পারে। অথবা বিটিআরসি ফ্রি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে বিকল্প পন্থা অবলম্বন করতে পারে। অপারেটরদের সাথে কথা বলে ইন্টারনেটের মূল্য নির্ধারণ করতে পারে। মানসম্মত বা সবাই ব্যবহার করতে এমন উপযোগী ইন্টারনেট মূল্য নির্ধারণ করতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশের এক জিবি ইন্টারনেট কিনতে গেলে প্রয়োজন পড়ে ৫২ থেকে ৫৭ টাকা। আবার তা কিনলেও দেখা যায় মেয়াদ কিংবা সময়সীমা অপারেটররা ধরে দিচ্ছে দু-তিন দিন। আবার এক জিবি ৩০ দিনের মেয়াদ নিলেও মূল্য ১৭৯ টাকা।
দেশের অনেক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস বহাল রয়েছে। অনলাইন ক্লাসে একজন শিক্ষার্থীর প্রতিদিন এক জিবি ডাটা লাগে। কিন্তু উচ্চমূল্যের এসব ডাটা কিনে ক্লাস করা বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে তারা পিছিয়ে পড়ছে। বর্তমানে করোনাকালে বন্যায় কর্মহীন হয়েছেন অনেকে। আয়-রোজগার বন্ধ। অনেকের আবার খাদ্যসঙ্কট রয়েছে। এ অবস্থায় ছেলেমেয়েদের উচ্চমূল্যে ডাটা কিনে দেয়া ওই সব অভিভাবকের পক্ষে সম্ভব নয়। আবার অপারেটররা যে স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সেবা কিংবা ফ্রি ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছিল, তাও এখন বন্ধ। মহামারীর এই সময়ে সবার সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। ফলে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে গেছে। কিন্তু এখন বিটিআরসির বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবার সিদ্ধান্ত যেন অনেকটাই সঙ্কুচিত করেছে এসব যোগাযোগ।
বিনা মূল্যে ইন্টারনেট সেবা নিষিদ্ধকরণে ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ। ফলে তারা ইন্টারনেট-ভিত্তিক কার্যক্রমে দক্ষতা অর্জন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এটাই বলা যেতে পারে, উন্নত বিশ্বের দেশগুলো যখন সবার জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সেবা কিংবা স্বল্পমূল্যে ডাটা দিচ্ছে, এ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সেখানে বাংলাদেশে উচ্চমূল্যে ডাটা কিনতে হচ্ছে, যা সবার পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। এর ফলে সমাজের একশ্রেণী পিছিয়ে পড়ছে এবং সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জনগণের জন্য স্বল্পমূল্যে ডাটাসেবা কিংবা বিনা মূল্যে ডাটাসেবা দেবে, তা না দিয়ে বরং ডাটার মূল্য বাড়াচ্ছে; যা দুঃখজনক।
করোনাকালে বিটিআরসির উচিত স্বল্পমূল্যে কিভাবে ডাটা দেয়া যায় সে বিষয়ে অপারেটরদের সাথে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সমাধান করা। প্রকৃতপক্ষে ডাটামূল্য কম ও ডাটার মেয়াদ বা সময়সীমা বাড়ানো। এক জিবি ডাটা ১০ টাকার আশপাশে হলে হয়তো প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সবাই ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল অপারেটরগুলোকে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা নিষিদ্ধকরণের চিঠি পাঠানোয় গ্রাকদের ভোগান্তি সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মনে হয়। সুতরাং বিলম্ব না করে দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবহারকারী গ্রাহকদের দুর্ভোগ লাঘবে ডাটার মূল্য কমানো জরুরি হয়ে পড়েছে। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়


আরো সংবাদ


premium cement