১৪ আগস্ট ২০২২
`

আমলাতান্ত্রিক ধ্যান ধারণা

-

আমাদের দেশে কোন পক্ষের ক্ষমতা বেশি? এর জবাবে নেতারা বলবেন, জনগণই ক্ষমতার উৎস। বাস্তবে আমাদের সমাজ আমলাতান্ত্রিক ধ্যান ধারণায় অভ্যস্ত। দেশের মানুষ মনে করেন আমলারা যা বলবেন দেশের মন্ত্রীরাও অনেক ক্ষেত্রে তা মেনে নিবেন। কেন মেনে নেন, আমরা যারা সাধারণ মানুষ, তারা তা জানি না। যারা আমলাদের কথায় চলেন তারাই বলতে পারবেন। আমলাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও আছেন, যারা মনে করেন এ দেশের মানুষ তাদের জমিদারির প্রজা। তবে অনেক ক্ষেত্রে এমন আমলারাও আছেন তারা লাঠিয়ালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। কেউ বলবেন সবাই তো আর এক রকম হয় না। আমাদের মধ্যে যেমন ভালো মানুষ আছেন, ঠিক তেমনি আমলাদের মধ্যে যারা ভালো মানুষ আছেন, তাদের অবস্থাও দেশের অসহায় মানুষের মতো। খারাপের ঠেলায় পড়ে মানুষকে ভালোবাসেন এমন আমলারা মানুষের পক্ষে মুখে কিছু বলতে পারেন না। অন্যায়কে হজম করতে গিয়ে নিজেরাও অন্তর্জ্বালায় কিংবা বিবেকের আগুনে পুড়তে থাকেন। তারা ক্ষমতা দেখাতে চান না। নিয়মের মধ্যেই থাকতে চান। আবার এমন আমলারাও আছেন, তারা কোনো এলাকায় গিয়ে দায়িত্বের বাইরে এমন সব কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, যেসব দেখে সাধারণ মানুষ হতভাগ হয়ে যান।
দেশের একশ্রেণীর আমলা কখনো চান না তাদের কাছে গণমানুষ মন খুলে কথা বলুক। একটা দূরত্ব নিয়ে তারা চলতে চান। এমন আমলাও আছেন যারা রাতে দলবল নিয়ে নিরীহ মানুষের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন। চোখ বেঁধে গৃহস্থকে ঘর থেকে তুলে এনে মারতে থাকেন। তখন আমলারা বুঝাতে চান ক্ষমতার বহর। অসহায় মানুষকে অসৎ আমলারা ক্ষমতা দেখিয়ে দরিদ্র জনগণকে বোঝাতে চান তারাই দেশের রাজা-মহারাজা। যদিও ১/১১-এর মতো সময় এলে দুর্নীতিবাজ আমলারা নিজেরা নিজের পাপের কথা স্মরণ করে পালানোর পথ খোঁজেন। কিছু আমলার বিরুদ্ধে আবার এমন অভিযোগও আছে, যাকে তারা সাজা দেন তাকে চোখ বেঁধে দস্তখত নেন, তাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়। দেশে এমন আমলাও আছেন যার ক্ষমতা অনেক কিছুর চেয়েও বেশি।
দেশের অসৎ আমলারা যে কাউকে মুহূর্তের মধ্যে জেলের ভেতর ঢুকাতে পারেন কিংবা তাদের একটি আদেশে একটি লোকের অনেক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। অসৎ আমলাদের কাছে আইন কোনো ব্যাপার নয়। তারা যে কারো শরীরে হাত তুলতে পারেন। তাদের কাছে রাত-দিনের কোনো তফাৎ নেই। এসব অসৎ আমলা কোনো বৃদ্ধকে কানে ও শার্টের কলারে ধরে টেনে আনতে পারেন।
যারা নিয়মিত সংবাদপত্র পাঠ করেন তারা নিশ্চয়ই দেখেছেনÑ নিকটাতীতে কুড়িগ্রামের বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে এনে মাদক ও গাঁজা রাখার অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক বছরের বিনাশ্রম সাজা দেয়া হয়েছিল। এ ঘটনা সাংবাদিকসহ সারা দেশের মানুষ জানার পর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। শুধু যে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে এক বছরের বিনাশ্রম সাজা দেয়া হয়, তা নয়। অভিযোগ আছে মোবাইল কোর্টের সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট এবং তার সাথের লোকজন কর্তৃক মধ্যরাতে সাংবাদিক আরিফের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে মারতে মারতে গাড়িতে তোলা হয়। সবাই একটা কথা স্বীকার করবেন আমাদের মধ্যে এমন সব মানুষ আছেন, যারা ক্ষমতা পেলে চোখের সামনের মানুষকে আর মানুষ মনে করেন না। মনে করেন তাদের দাস। মনে করেন সবাই তার কথামতো চলবে। কথার বাইরে গেলেই এই শ্রেণীর ক্ষমতাবান ব্যক্তি রেগে আগুন হয়ে যান। তখন তাদের রাগের আগুনে অসহায় মানুষ জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। অসৎ আমলারা ভাবেন আমার জমিদারিতে থেকে আমার প্রজারা আমার কথা শুনবে না, তা কি হয়।
লেখক : আইনজীবী, হবিগঞ্জ


আরো সংবাদ


premium cement