১৪ আগস্ট ২০২২
`

প্রাণীদের প্রতি সদয় হই

-

৪ অক্টোবর ছিল বিশ্ব প্রাণী দিবস। প্রাণীদের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ৪ অক্টোবর বিশ্ব প্রাণী দিবস পালন করা হয়। এই দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রাণীদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করব, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করব।’ হেনরিক জিম্মারমেন নামে এক জার্মান নাগরিক ১৯২৫ সালের ২৪ মার্চ বার্লিনে প্রথম প্রাণী দিবস পালন করেন। এরপর ১৯৩১ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রাণী রক্ষা কংগ্রেসে ৪ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক প্রাণী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। তারপর থেকে প্রতি বছর সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিকভাবে প্রাণী দিবস পালন করা হয়ে আসছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণিকুলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণিকুল বিভিন্নভাবে আমাদের উপকারে আসে। গৃহপালিত পশু আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে জড়িত। গরু আমাদের দুধ দেয়, গোশত দেয় এমনকি যাতায়াতের বাহন হিসেবে কাজ করে। এভাবে প্রতিটি গৃহপালিত পশু আমাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। অথচ পশুদের বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে নির্দয়ভাবে প্রহার করা হয়। এমনকি ন্যূনতম খাবার পর্যন্ত সরবরাহ করা হয় না যা সত্যিই অমানবিক।
অন্য দিকে মানুষের অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে প্রাণিজগতে বিপর্যয় নেমে আসছে। এর ফলে অনেক প্রাণী পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের প্রাণিজগৎ প্রবল সম্ভাবনাময় হলেও আজ হুমকিতে। পূর্বে বাংলাদেশের অনেক জায়গাজুড়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখা যেত। এখন শুধু সুন্দরবনে পাওয়া যায় তা-ও হাতেগোনা। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, সুন্দরবনের মাত্র ১১৪টি বাঘ রয়েছে, যা সত্যি আগের চেয়ে অতি নগণ্য। পার্বত্য চট্টগ্রাম, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়ে বিভিন্ন পশু পাখি দেখা যেত; এখন প্রায় শূন্য হয়ে পড়েছে। অনেক বন্য প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্তি হতে চলেছে। ইতোমধ্যে অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এর মধ্যে নীলগাই, রাজ শকুন, কালো হাঁস, বুনো মহিষ প্রভৃতি।
এ দিকে খাঁচায় বন্দী করে বিক্রি করা হচ্ছে নানা প্রজাতির পাখি। আগের মতো গ্রামগঞ্জে আর সাপ-বেজির লড়াই দেখতে পাওয়া যায় না। আমাদের জাতীয় পাখি দোয়েলে দেখা মেলে কম। মানুষ বন জঙ্গল কেটে ফেলায় অনেক প্রাণীর বাসস্থান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর বিবর্তনের ফলে অনেক প্রাণী অভিযোজনে অক্ষম হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আর এর জন্য মানুষের অপরিণামদর্শী কার্যকলাপ দায়ী। মানুষ নির্বিচারে প্রাণী হত্যা করছে। কিছু অসাধু মানুষ প্রাণী পাচারের সাথেও জড়িত।
বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী মানুষের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হলেও প্রাণীদের চলাফেরায় কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজারের ডলফিন সাঁতার কাটার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। প্রায় ৩০ বছর পর কক্সবাজারে ডলফিনের দেখা মিলেছে; সাথে হরিণের আনাগোনাও বেড়েছে। লাল পিঁপড়া আপন গতিতে চলাফেরা করতে পারছে। পাখিদের কিচিরমিচির বেড়েছে; যা পরিবেশের জন্য শুভ লক্ষণ।
আমাদের সবার উচিত প্রাণীদের প্রতি সদয় হওয়া। প্রাণীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশে প্রাণীদের জন্য একটা আইন রয়েছে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) (সংশোধিত) আইন, ১৯৭৪ । যা আমরা অনেকেই জানি না। ওই আইনের বাস্তবায়ন এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। দরকার হলে নতুনভাবে আইন প্রণয়ন করতে হবে। তাহলে আমাদের পৃথিবীর আরো রঙিন এবং বাসযোগ্য হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


আরো সংবাদ


premium cement