০২ জুন ২০২০

কোথায় আশ্রয় নেবে আমেনারা

ফুটপাথই এখনো আমেনাদের আশ্রয়স্থল - নয়া দিগন্ত

রাত ৮টা। আরামবাগ ফুটপাথে বিছানো চটের বিছানায় বসে ৭-৮ বছরের ছোট্ট শিশু আমেনা। এক হাত দিয়ে রাতের খাবারের বক্স ঘাঁটছে, অন্য হাতে মোছার চেষ্টা করছে ভেজা চোখ দুটো। পাশ থেকে নানী নূর জাহান বেগম রাগান্বিত হয়ে ধমকের সুরে বলছে ‘আজকে তো ভাত কপালে জুটছে, দু’দিন পর কী খাবি তাই ভাব, আবার তরকারির জন্য প্যান প্যান করতেছে।’ আমেনার হাতে প্লাস্টিকের একটি বক্স। তার মধ্যে ভাত আলুভর্তা আর ডাল। গত ৩-৪ দিন ধরে শুধু রাতের বেলা ভাত জোটে তার কপালে। তাও আবার সেই একই তরকারি। আজ আর এক তরকারি খেতে চাইছে না। কিন্তু নানীর কাছে তা বলতেও পারছে না। তাই চোখের পানি তার।

রাতে আমেনাদের খাবারের কাছে তার কান্নার কারণ জানতে চাইলে এমনটি বলেন নূর জাহান। আরামবাগ ক্যাশ অ্যান্ড কেরি দোকান থেকে ফুটপাথ ধরে ফকিরাপুলের দিকে ১০০ গজের মতো এগোলেই আমেনাদের বিছানা। প্লাস্টিকের কয়েকটি বস্তা সেলাই করে তৈরি করা হয়েছে বড় একটি বিছানা। তার ওপর কাঁথার মত কিছু কাপড় বিছানো। বালিশ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ছোট ছোট ঝোলার ব্যাগ। যার মধ্যে তাদের দৈনন্দিন ব্যবহারের কাপড় রয়েছে।

কাছে গিয়ে কথা বলতে চাইলে প্রথমে ভয় পান নূর জাহান। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্টে আছি, তার ওপর আপনার সাথে কথা বলে যদি এই রাতের ঘুমানোর জায়গাটুকুও হারাতে হয় তাহলে আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। পরে ছবি না উঠানোর শর্তে তিনি বলেন, দেশে কী এক রোগ আইছে যার কারণে সব কিছু বন্ধ। এমনকি রাস্তায় একটা মানুষও নাই। ঢাকায় আসার বয়সে এমন অবস্থা কোনো দিন দেখি নাই।

তিনি বলেন, আগে মানুষের শব্দের মধ্যে ঘুমাইছি কোনো অসুবিধা হয় নাই। আর এখন তো এতো সুনসান যে গভীর রাতে ঘুম ভাঙলে ভয়ে আর ঘুম আসে না।
একটি প্রশ্ন করলে জবাবে তিনি বলেন, সবার তো ঘর আছে, তাই অসুখ থেকে বাঁচার জন্য ঘরে আশ্রয় নিচ্ছে। বাইরে বের হচ্ছে না। কিন্তু আমরা কোথায় আশ্রয় নিবো। আমাদের তো মাথা গোঁজার মতো কোনো জায়গা নাই। সারা দিন ভিক্ষা করে রাতে ফুটপাথে ঘুমাই। কিন্তু এখন বাইরে কোনো মানুষ নাই কার কাছ থেকে ভিক্ষা নিয়ে ক্ষুধা মেটাবো।

শুধু আমেনা বা নূর জাহানই না, তাদের মতো হাজারো ভাসমান মানুষ ঘুরছে রাজধানীর অলিগলি দিয়ে। যাদের করোনা সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা নেই। কেউ ধারণা দিলেও তা থেকে বাঁচার জন্য যে সাবান পানি বা স্যানিটাইজার প্রয়োজন তার কোনোটাই জোগাড় করার সাধ্য নেই তাদের। ভাসমানদের অনেকেই বলছেন, যেখানে জরুরি প্রয়োজন সারতেই সামান্য পানি পান না তারা, সেখানে বারবার কী দিয়ে হাত ধুবেন।


আরো সংবাদ