১৩ আগস্ট ২০২০

ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৮৭ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬৩ জন

ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৮৭ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬৩ জন - ছবি : সংগৃহীত
24tkt

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৮৭টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৬৩ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৯৪৮ জন। এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গঠিত ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’।

৭টি জাতীয় দৈনিক, ৪টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে শিশু ৫২ জন এবং নারী ৬৭ জন। আর এসব দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে এককভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ১০২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১০৭ জন, যা মোট নিহতের ২৩ শতাংশ। আর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ২৬.৩৫ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৯ শতাংশ। বাসযাত্রী ৩৯ জন, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস যাত্রী ৩৪ জন, ট্রাক ও পিক-আপ ভ্যান যাত্রী ২৫ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ১১২ জন ও অন্য যানবাহনে ১১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫১ জন।

দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ৩২৯ জন, যা মোট নিহতের ৭১.০৫ শতাংশ। দুর্ঘটনাগুলো বেশি ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে, যার সংখ্যা ২৩৬টি (৬১ শতাংশ) এবং মহাসড়কে ১৫১টি (৪৫ শতাংশ) ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ধরন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মুখোমুখি সংঘর্ষ ৭৮টি, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে/উল্টে ৮৬টি, সাইড দিতে গিয়ে ৬০টি, এবং চাপা দেওয়া ১৩৬টি ও অন্য কারণে ২৭টি ঘটনা ঘটেছে।

এসব দুর্ঘটনায় দায়ী যানবাহনের সংখ্যা ৫৮৪টি। এরমধ্যে বাস ৮৭টি, ট্রাক ও পিকআপ ১০৪টি, কাভার্ড ভ্যান ২১টি, লরি ও ট্রাক্টর ১৪টি, কার ও মাইক্রোবাস ৪৩টি, মোটরসাইকেল ১০২টি, বাইসাইকেল ১৩টি, রিকশা ২৮টি, নসিমন-করিমন-আলমসাধু-মাহেন্দ্র ১১৭টি, সিএনজি-ইজিবাইক-৩৮টি, ট্রলি ৪টি ও অন্য যানবাহন ১৩টি। এছাড়া ৪৭টি রেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৪ জন এবং আহত ১৭ জন। ৭টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহণ খাতে চাঁদাবাজিকে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে কিছু বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা অত্যন্ত জরুরি। এগুলো হলো দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে, পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্বরাস্তা তৈরি করতে হবে, পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে, রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের উপর চাপ কমাতে হবে, বারবার কমিটি গঠন এবং সুপারিশমালা তৈরির চক্র থেকে বেরিয়ে টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা পোষণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গত জানুয়ারি মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ও আহত-নিহতের পারিমাণ সবই বৃদ্ধি পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে সড়ক নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জানুয়ারি মাসে ৩৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৫ জন নিহত ও ৮৩৪ জন আহত হয়েছিল।


আরো সংবাদ