২৯ নভেম্বর ২০২০

রাজধানীতে পশু বিক্রয়ে মন্দা

রাজধানীতে আসা শুরু হয়েছে কোরবানির পশু - নাসিম সিকদার

কুষ্টিয়ার গরু ব্যাপারি আব্দুল হালিম। গত ২০ বছর ধরে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটে গরু বিক্রি করেন। গাবতলী হাটে তার গরু রয়েছে। মেরাদিয়া হাটেও এবার ১৬টি গরু এনেছেন এ ব্যাপারি। সবই দেশী গরু। তিনি জানান, গত বছর এ সময়ে হাটে গরু ভর্তি থাকত; কিন্তু এবার অনেক জায়গা ফাঁকা পড়ে রয়েছে। ক্রেতাও আসছেন হাতে গোনা। আব্দুল হালিম বলেন, করোনার কারণে এবার গরু কী পরিমাণ বিক্রি হবে তা বোঝা যাচ্ছে না। এ জন্য গরু কম এনেছি। অন্যবার যেখানে মেরাদিয়া হাটে তিন ট্রাক গরু আনি, সেখানে এবার মাত্র এক ট্রাক গরু এনেছি। একই রকম অভিমত শাহজাহানপুর মৈত্রী সঙ্ঘের মাঠে আসা গরু ব্যাপারি শাহাদাত হোসেনের। এ হাটে তিনিসহ চারজন মিলে এবার দুই ট্রাক গরু এনেছেন। তিনি বলেন, অন্যবার আমরা চার-পাঁচ ট্রাক গরু আনি; কিন্তু এবার হাটের অবস্থা বোঝা যাচ্ছে না। এ জন্য কম গরু এনেছি। তবে গরু বিক্রি যদি ভালো হয় তাহলে আরো আনার প্রস্তুতি রয়েছে। এভাবে রাজধানীর বেশ কয়েকটি কোরবানির পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, অন্য বছরের চেয়ে এবার হাটে গরু কম আসছে। বিক্রিও এখনো তেমন শুরু হয়নি। 

রাজধানীর গাবতলীতে সবচেয়ে বড় স্থায়ী হাট। ব্যাপারিদের প্রধান টার্গেট থাকে এ হাটে গরু আনা। সেখানে সারা বছরই গরু থাকে। এর পাশাপাশি কোরবানির সময় এলাকা বাড়িয়ে হাটের পরিধি বৃদ্ধি করেন ইজারাদাররা। এবারো এ হাটে গরু এসেছে বেশ। তবে অন্য বছরের তুলনায় কম। একইভাবে রাজধানীর অস্থায়ী হাটের মধ্যে আফতাবনগরে সবচেয়ে বড় হাট বসে। এখানে সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নাটোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে গরু এসেছে। নাটোর থেকে আসা গরু ব্যাপারি ইকবাল হোসেন বলেন, গত বছরও আমি এ হাটে গরু নিয়ে আসি; কিন্তু এ সময়ের চেয়ে বেশি ছিল। এবার হাটে গরু কম এসেছে। তিনি এবার হাটে ৯টি গরু এনেছেন জানিয়ে বলেন, দেশী জাতের এ গরুর দাম চাচ্ছেন দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা করে। তবে ক্রেতা খুব কমসংখ্যক এলেও তারা দাম বেশি বলছেন না। হাট ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার দুই পাশে, অলিগলির সড়কের পাশে দেশী গরুর পাশাপাশি ভারতীয় গরুও রয়েছে বেশ। তবে এসব ভারতীয় গরু ৮-৯ মাস আগে ভারত থেকে এনে দেশে প্রতিপালন করা হয়েছে বলে বিক্রেতারা জানান। হাটে ইজারা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা গতকাল বিকেলে জানান, হাটে গরু বিক্রি তেমন শুরু হয়নি। মাঝে মাঝে দু-একটি বিক্রি হচ্ছে বলে তারা জানান। 

মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, জে ব্লকের সড়কের পাশে ফুটপাথ ঘেঁষে গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। ফরাজী হাসপাতালের সামনে গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। দোকানপাটের সামনেও রাস্তায় গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আশপাশের খালি জায়গায় এবং অলিগলিতে গরু উঠেছে। তবে এখনো গরু রাখার অনেক শেড খালি পড়ে রয়েছে। এ হাটের বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য বছর এমন সময় যে হারে গরু বিক্রি হতো, এবার সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না। মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিম থেকে এ হাটে পাঁচটি গুরু এনেছেন মো: ইমন হোসেন। তিনি বলেন, ক্রেতার সংখ্যা কম। দু’দিন ধরে হাটে গরু উঠালেও আগ্রহী ক্রেতা পাননি। সামনে কী অবস্থা হয়, সেটি নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন এ ক্রেতা। মেরাদিয়া হাটের ইজারা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা জানান, হাটে গরু বিক্রি তেমন শুরু হয়নি। তবে আজ রাত থেকে হাটে গরু আসা বাড়তে পারে। এরপর বিক্রিও বাড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। 

বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা দনিয়া পশুর হাটে অন্তত ১০ হাজার গরু উঠেছে। বিভিন্ন দামের গরু রয়েছে এ হাটে। ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে বেশি গরু পাওয়া যাচ্ছে। এ হাটের ইজারাদার মো: কামরুজ্জামান বলেন, অন্যবারের চেয়ে এবার বিক্রির সংখ্যা তুলনামূলক কম। এ জন্য খুবই দুশ্চিন্তা হচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা খরচ উঠাতে পারব কি না। তিনি বলেন, এ হাটের ইজারামূল্য এক কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং পরিচালনা খরচও অনেক। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হব আমরা। 

হাজারীবাগ পশুর হাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি আবুল হোসেন বলেন, আজ (সোমবার) দুপুর পর্যন্ত হাটে প্রায় তিন হাজার গরু উঠেছে। স্বল্পপরিসরে বিক্রি শুরু হয়েছে। একই চিত্র রাজধানীর উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর, উত্তরা মৈনারটেক, ডুমনী, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট হাটেরও।

অন্য দিকে বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতা, ইজারাদারের সদস্য এবং অনেক ক্রেতার মুখেও মাস্ক নেই। আবার অনেকে মাস্ক ব্যবহার করে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটে আসছেন। প্রচণ্ড গরমের কারণে সারা দিন মুখে মাস্ক রাখতে পারছেন না পশু ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকরা। তবে পুলিশের টহল, সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আনাগোনা থাকায় অনেকে ভয়েও মুখে মাস্ক ঠিক রাখার চেষ্টা করছেন। গোপীবাগ হাটে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন করলেও মেরাদিয়া, আফতাবনগর, শাহজাহানপুর হাটে হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।


আরো সংবাদ