০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

ঘরে ঘরে ঈদ, ভার্চ্যুয়াল শুভেচ্ছা

-

ঈদ। তবে অন্য রকম। স্মরণকালের মধ্যে এবারই প্রথম ব্যতিক্রমী ঈদ উদযাপন করছে দেশের মানুষ। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে এবার ঘরেই পালিত হচ্ছে ঈদের উৎসব। বাইরের বের হবার খুব একটা সুযোগও নেই। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘরে অবস্থান করেই পরিবার নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে হবে। ঈদের নামাজও বড় কোনো মাঠে কিংবা ঈদগাঁহে করা যাচ্ছে না। কাছের মসজিদেই সীমিত পরিসরে পড়তে হচ্ছে ঈদের নামাজ। করোনায় শারীরিক দুরত্ব বজায় থাকলেও ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায় আত্মীক বন্ধনের এ যেন এক অনন্য নজির এবার ঈদে। দূরে থেকেই কাছে সবাই।

নিজ নিজ ঘরে থেকে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার নির্দেশনা থাকলেও থেমে নেই ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়। কারণ দুনিয়া তো এখন হাতের মুঠোয়। কাছের কিংবা দূরের, দেশে অথবা বিদেশের যে যেখানেই আছে সেখান থেকেই ভার্চ্যুয়াল জগতে অবিরাম চলছে ঈদের শুভেচ্ছা।

বাহ্যিকভাবে ঘরে বসে সবাই ঈদ আনন্দ উপভোগ করলেও ঈদের আমেজ আর আনন্দের গন্ডি শুধু ঘরেই বন্দি নেই। প্রযুক্তির সুবাদে ঈদের আনন্দ আজ গোটা দুনিয়ার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তকে ছুঁয়েছে। মোবাইল ফোনে, ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে, ভাইভার কিংবা ইউটিউবে প্রিয়জনকে ঈদের আনন্দের ভাগ দিতে সরগরম পুরো ভার্চ্যুয়ার দুনিয়া। করোনায় শারীরিক দুরত্ব বজায় থাকলেও আত্মীক বন্ধনের এ যেন এক অনন্য নজির এবার ঈদে। কোথাও বা আবার ভিডিও কনফারেন্সে চলছে আড্ডা।

আধুনিক প্রযুক্তির এতোসব সুযোগ সুবিধার পরে করোনাকালের এবারের ঈদ যেন অনেকটাই বিবর্ণ। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী সাম্প্রতিক ঘুর্ণিঝড় আমফানে এখনো বিপর্যস্থ। বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। অনেকের ঘর থাকলেও সেগুলো পানিবন্দি। আমফানের ক্ষতির বাইরে যারা আছেন তারাও করোনায় দীর্ঘ ছুটিতে আর্থিক সঙ্কটে পরিবার নিয়ে আছেন। নিম্ন আয়ের মানুষদের অনেক ঘরে হয়তো চুলা জ্বালানোর মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেকের জন্যই এবার তাই দু:সময়ের ঈদ।

ভার্চ্যুয়াল দুনিয়া ঘুরে দেখা যায় অনেকেই তাদের ফেসবুকে লিখেছেন আমি ও আমার পরিবিার এবার ঈদ উদযাপন করছি না। কাজেই ইনবক্সে আমাকে ঈদ শুভেচ্ছা জানাবেন না। অনেকে আবার মানবিক নানা উপদেশও দিচ্ছেন। কেউ লিখছেন, এই ঈদে এক টুকরো গোশত হয়তো রান্না হবে না কারো কারো উনুনে। আসুন আমরা তাদের খোঁজ নিই, সহয়তার হাত বাড়িয়ে দেই। কেউ বা ঘরে ঈদ উদযাপনের কথা জানচ্ছেন সবাইকে।

তবে হতাশার মাঝেও আছে আশার আলো।অনেকে লিখেছেন, ‘সময় এক রকম যায় না, দিন পাল্টাবে। সুদিন আসবেই’। সবার সাথে আমরাও অপেক্ষায় থাকলাম। কেটে যাবে সংকট, আবার হাসবো আমরা প্রাণের উচ্ছ্বাসে। মিলিত হবো ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে। ঈদ মোবারক।



আরো সংবাদ