২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

ঝুলে আছে মালয়েশিয়ার সরকার গঠন, শঙ্কায় কলিং ভিসার সিন্ডিকেট

ঝুলে আছে মালয়েশিয়ার সরকার গঠন, শঙ্কায় কলিং ভিসার সিন্ডিকেট - ফাইল ছবি

সম্প্রতি শেষ হলো মালয়েশিয়ার ১৫তম জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন শেষে এক বিস্ময়কর ত্রিমুখী ফলাফল পেয়েছে। যার জন্যে প্রস্তুত ছিলেন না দেশটির জনগন ও রাজা। প্রবাসীরা ভোটে অংশ্রগ্রহন করেন না। তবে বিভিন্ন কারণে সরকার পরিবর্তন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার পরিবর্তন হলে দেশের আইন-কানুন ও নিয়ম-নীতিতে সংশোধন বা পরিবর্তন হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। জটিলতার অবসান গঠিয়ে যে নতুন সরকার আসবে এতে শ্রমবাজার অথবা চলমান কলিং ভিসার সিস্টেম কিংবা সিন্ডিকেটে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না? সবার মনে একই প্রশ্ন হলেও মোদ্দা কথা হলো পরিবর্তন আসতেও পারে আবার নাও আসতে পারে।

ড. মাহাথির মোহাম্মদ কলিং-এর পক্ষ ও বিপক্ষের রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব না হয়েও এবারের নির্বাচনে তিনি জামানত হারিয়েছেন, যা অবাক বিষয়। তিনি ২০১৮ সালে ক্ষমতার এসে কলিং ভিসা স্থগিত করেছিলেন। এরপরে দীর্ঘ সময় কলিং নিয়ে তিনি কোনো হস্তক্ষেপ করেননি।

মালয়েশিয়ার ১৫তম সাধারণ নির্বাচনে ২২০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮২টি আসন পেয়েছে আনোয়ার ইব্রাহিম নেতৃত্বাধীন পাকাতান হারাপান জোট। নিকটতম জোট মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের পেরিকাতান ন্যাশনাল পেয়েছে ৭৩টি আসন।

এতদিন যারা ক্ষমতায় ছিল বা যে সরকারের সময় সিন্ডিকেট করা হয়েছে সেই জোট বারিসান নেই তাদের ধারে কাছেও, তারা পেয়েছে মাত্র ৩০টি আসন। মালয়েশিয়ায় গণতান্ত্রিকভাবে সংসদীয় ব্যাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী দেশ পরিচালনা করেন। দেশটিতে রাজতন্ত্র বিদ্যামান থাকলেও দেশ পরিচালনায় রাজা কোনো হস্তক্ষেপ করেন না। দেশ পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থাৎ কোনো জোট-ই এককভাবে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় আসন পায়নি। সরকার গঠনের জন্য ২২০ আসনের মধ্যে কমপক্ষে ১১২ আসন পেতে হবে। এই জটিলতা দ্রুত নিরসনের জন্য মালয়েশিয়ার রাজা আগং ডি পার্টুয়ান আবদুল্লাহ সক্রিয় হয়ে শীর্ষ দুই জোট আনোয়ার ইব্রাহিম ও মহিউদ্দিন ইয়াসিনকে ডেকে নিয়ে কোয়ালিশন সরকারা বা জোট গঠনের মাধ্যমে যৌথভাবে সরকার গঠনের অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দেশটির কোনো জোট-ই ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি। তবে আশাকরা যাচ্ছে খুব শিগগরই এই জটিলতা নিরসন হবে।

যদি এমন ঘটনা ঘটে যে, কোনো জোটই সরকার গঠন করতে পারেনি তাহলে রাজার এমনও ক্ষমতা আছে পুনরায় নির্বাচন ঘোষণার। যদিও এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দেশটির সংসদ বা প্রধানমন্ত্রী কার্যকর না থাকলে সকল ক্ষমতা ও দেশ পরিচালনার দায়ভার চলে যায় রাজার ওপর।

নির্বাচনের ফলাফল বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে, যে সরকার এতদিন ক্ষমতায় ছিল, যে সমস্ত মন্ত্রী এমপিরা কলিং সিন্ডিকেটকে আশ্রয় প্রশয় দিয়েছে সেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব এবং সাবেক মানবসম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানার জোট পেয়েছে মোট ২২০ আসনের মধ্যে ৩০ আসন। এতে স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে মালয়েশিয়ার সাধারণ জনগন তাদের চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখান করেছে। এদিকে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশীদের প্রতি উদাসীন ও বৈষম্য বর্ধক বলে জনশ্রুতি আছে। তবে প্রবাসীদের জীবন মান ও কলিং ভিসায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না সেটা নিশ্চিত করে বলতে হলে চূড়ান্ত সরকার গঠন করার পর তাদের শাসন কার্যক্রম দেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


আরো সংবাদ


premium cement