২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

মালয়েশিয়ায় বড় ভাইয়ের গোপনকৃত লাশ মিললো হাসপাতালে

মালয়েশিয়ায় বড় ভাইয়ের গোপনকৃত লাশ মিললো হাসপাতালে - ছবি : নয়া দিগন্ত

মালয়েশিয়ায় ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান বগুড়া জেলার কাহালু থানার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মো. উজ্জ্বল হোসেন (৩৪)। মালয়েশিয়ায় থাকা আপন ছোট ভাই নিহারুল ইসলাম পরিবারকে জানিয়ে দিয়েছেন, উজ্জ্বলের লাশ দাফন করে ফেলেছেন। আসল সত্য বেরিয়ে আসার পর জানা গেল, বড় ভাই উজ্জ্বলের লাশ দাফন করা হয়নি।

জানা যায়, হাসপাতালে রেখেই পালিয়ে যান ছোট ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী নিহারুল ইসলাম। মরহুমের স্ত্রী রেশমা বেগম জানেন, তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তার লাশ দাফন করা হয়েছে। এখনো নিহারুল ইসলাম রেশমার সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন। তবে কী কারণে আপন ছোট ভাই নিহারুল এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন তা জানা সম্ভব হয়নি। তবে পরিবার থেকে জানা যায়, নিহারুল বৈধ অনুমোদন না থাকায় হয়তো পালিয়ে
বেড়াচ্ছেন। লাশ হাসপাতালে রেখে গোপন করার বিষয়টি তখনই ফাঁস হয় যখন ৩ মাস পর গতকাল এই প্রতিবেদকের কাছে মালয়েশিয়ার ইপুহ হাসপাতাল থেকে ফরেনসিক কর্মকর্তা ফোন করেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, এক বাংলাদেশীর লাশ ৩ মাস ধরে পড়ে আছে হাসপাতালের হিমঘরে। আমরা তার পরিবারের সন্ধান এখনো পাইনি। লাশের অবস্থা খারাপ। দ্রুত দাফন করার ব্যবস্থা করতে হবে।

ফরেনসনিক কর্মকর্তার কাছ থেকে কিছু ডকুমেন্টস সংগ্রহ করে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উজ্জ্বলের বাড়ি বগুড়া জেলার কাহালু থানায়। তার সাথে কোনো পাসপোর্ট ছিল না। তখন বগুড়া প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে উজ্জ্বলের স্ত্রী রেশমা বেগমের সাথে যোগাযোগ করলে লাশ এখনো হাসপাতালে পড়ে আছে এই কথা শোনার পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি কাদঁতে কাঁদতে বলেন, উজ্জ্বলের আপন ছোট ভাই মালয়েশিয়া থেকে জানিয়ে দিয়েছে, উজ্জ্বল হার্ট অ্যাটাকে মারা যাওয়ায় তাকে এখানেই দাফন করা হয়েছে। সেজন্য দেশে লাশ পাঠাতে অনেক টাকার দরকার।

উজ্জ্বলের স্ত্রী আরো বলেন, ভাই হয়ে ভাইয়ের সাথে এমন প্রতারণা কিভাবে করতে পারে? আমার স্বামী মারা গেছে, আমার ছোট দেবর এখনো আমার সাথে কোন যোগাযোগ করেনি। এমনকি আমার স্বামীর মৃত্যুর খবরটা পর্যন্ত এখনো দেয়নি। আমি প্রতিবেশীর কাছ থেকে শুনেছি আমার স্বামী মারা গেছে। তারপর অনেক কান্নাকাটি করেছি কিন্তু নিহারুল কোনো তথ্য দেয়নি।

তবে পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় মালয়েশিয়াস্থ প্রবাসী কমিউনিটির কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছেন তারা। আর দূতাবাসে বাজেট যথেষ্ট না থাকায় সরকারি খরচে লাশ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। লাশ দেশে পাঠানোর খরচ বহন করার জন্য প্রবাসীরা সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাগিদ দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব লাশের দাফন সম্পন্ন করতে হবে কারণ লাশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

 


আরো সংবাদ


premium cement