২১ মে ২০২২
`

বাংলাদেশে কনস্যুলেট না থাকায় ভোগান্তিতে পর্তুগালপ্রবাসীরা

লিজবনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারিক আহসানকে ভুক্তভোগীদের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দেয়া হয় - ছবি : নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশে পর্তুগালের দূতাবাস না থাকায় সে দেশে গমনেচ্ছু বাংলাদেশীদের ভিসা করার জন্য যেতে হয় ভারতের নয়াদিল্লীতে অবস্থিত পর্তুগাল দূতাবাসে। কিন্তু করোনা আসার পরে বেশ ক’জন বাংলাদেশী প্রবাসী তাদের পরিবারকে পর্তুগাল নিতে দিল্লীর দূতাবাসে ভিসা জমা দেয়ার পর এক বছরের বেশি হয়ে গেলেও সেখান থেকে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক কোনো সাড়া না আসায় তারা বেশ ক্ষুব্ধ।

প্রবাসীরা যদি তাদের পরিবারকে পর্তুগাল নিতে চান, সেক্ষেত্রে পর্তুগালের ইমিগ্রেশন সিস্টেম যথাযথভাবে সম্পন্ন করে এসইএফ থেকে পারমিশন নিতে হয়। তারপর ভিসার জন্য জমা দিতে হয় দিল্লীর পর্তুগাল দূতাবাসে বাংলাদেশীদের জন্য নির্ধারিত ভিএফএসে।

এই নিয়ম সম্পূর্ণরূপে মেনেও প্রবাসীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাননি দিল্লীর কাছ থেকে, বরং করোনার দোহাই দিয়ে তাদের ভিসা এক বছর যাবত আটকে রাখা হয়েছে।

পর্তুগাল প্রবাসীরা দিল্লী দূতাবাসের এমন আচরণে অসহায় হয়ে পড়েছেন। অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী বলেন, ‘গত বছর আমার মায়ের জন্য পর্তুগালের এসইএফের পারমিশন নিয়ে ফাইল জমা দেই দিল্লীতে অবস্থিত পর্তুগালের ভিএফএসে। আজ পর্যন্ত আমার মায়ের ভিসার কোনো খবর নেই। দুঃখের বিষয় হলো, গত কয়েক মাস আগে আমার মা মৃত্যুবরণ করেছেন, আমাদের কাছে আসতে পারলেন না।’

আরেক প্রবাসী বলেন, ‘পর্তুগালের রেসিডেন্ট পেয়ে গত দু’বছর আগে বাংলাদেশে গিয়ে বিয়ে করি এবং এখান থেকে যথাযথভাবে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে আমার স্ত্রীকে আনার পারমিশন পাই। সেই পারমিশন লেটার এবং আমার সম্পূর্ণ ডকুমেন্টস ভিএফএসে জমা দেই গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু আজও সেই ফাইলের কোনো খবর নেই। এদিকে ভিসা হতে দেরি হওয়ায় আমার পরিবারে বেশ কলহ তৈরি হয়েছে।’

আরেক প্রবাসী নয়া দিগন্তকে টেক্সট করে জানান, ‘ভিসা প্রক্রিয়া দেরি হওয়ায় তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন।’

এমতাবস্থায় পর্তুগাল প্রবাসীরা লিজবনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান ওই প্রবাসী। বাংলাদেশ দূতাবাস লিজবনের দ্বিতীয় সচিব এবং দূতাবাস প্রধান আব্দুল্লাহ আল রাজী তাদের সমস্যার কথা শুনে যথাসাধ্য ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রবাসীদের পক্ষে শিকদার, শোয়াইব, মামুন এবং শফিক চৌধুরী বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারিক আহসানকে ভুক্তভোগীদের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।


আরো সংবাদ


premium cement