২৩ জানুয়ারি ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

সাবিনার সুরে রঙিন হলো ফোবানা

সাবিনার সুরে রঙিন হলো ফোবানা - ছবি : নয়া দিগন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে গেইলর্ড হোটেলের পটোম্যাক কনভেনশন সেন্টারের সামনে নানা দোকানের পসরা সজানো হয়েছে। মেয়েদের শাড়ি-গয়না থেকে শুরু করে ছেলেদের পাঞ্জাবি রাখা আছে একপাশে।

অন্যদিকে বইয়ের দোকান, ব্যাংকের প্যাভিলিয়ন, ফ্রি মুসলিম ম্যাচমেকিং সার্ভিসসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক পণ্য এবং সেবার বিজ্ঞাপন দেয়া। হঠাৎ দেখলে মনে হতে পারে ঢাকায় বাণিজ্যমেলা চলছে।

ফোবানার দ্বিতীয় দিনের আয়োজন এইটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। হলের ভেতর ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন এবং জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান। যেখানে অতিথি হয়ে এসেছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। তিনি মঞ্চে দঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্মৃতি রোমন্থন করেন।

বাংলাদেশের ৬৪ জেলাতেই তার যাওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, 'বাংলাদেশের জেলাগুলোতে ভ্রমণ করার অভিজ্ঞতা সুখের স্মৃতি হয়ে থাকবে সারা জীবন।'

মজিনা বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই দুয়ার খোলা রাখে। আর বাংলাদেশে কর্মসংস্থান তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করে।

মজিনার বিদায়ে পর শুরু হয় সাস্কৃতিক পর্ব। যেখানে মিউজিক আইডল, ড্যান্স আইডলসহ দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মোহিত হয় দর্শক।

সাবিনা ইয়াসমিন মঞ্চে উঠে বলেন, 'আজ যে গানটি দিয়ে শুরু করব তা লিখেছেন নজরুল ইসলাম বাবু, সুর করেছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।'

দর্শকদের আর বুঝতে বাকি থাকে না কোন গান গাইবেন তিনি। সাবিনা গাইতে শুরু করেন ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ পুরো হল তখন পিনপতনের শব্দ শুনার মতো শান্ত। গান শেষ হতেই করতালির শব্দ। ঘোর ভাঙে সবার।

এবার প্রিয় শিল্পীর জনপ্রিয় গানগুলোর অনুরোধ। একেক দিক থেকে একেক উপমা দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন মঞ্চের সামনে বসা স্রোতারা। সাবিনা ইয়াসমীনও রসিকতা করে বলেন, 'কী কী বললেন আপনারা, কোকিল, কিংবন্তী! জাতির অঙ্কার! কিন্তু আমি তো মানুষ একজন।'

এরপর মাইক্রোফোন হাতে এক এক করে গাইতে শুরু করেন- চিঠি দিও প্রতিদিন, কি জাদু করিলা, ইশারায় শিস দিয়ে আমায় ডেকো না, ভালোবাইসা একবার তুমি বউ কইয়া ডাকো।

সাবিনা ইয়াসমীনের আগে দ্বিতীয় দিন মঞ্চে আরো গেয়েছেন তাহসান, রবী চৌধুরী, লাইপাসহ প্রবাসী শিল্পীরা।

অনুষ্ঠান দেখতে মঞ্চে প্রবেশ করার আগে প্যাভিলিয়নেপসরা সাজিয়ে বসা বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে। সাজানো পসরার মধ্যে ব্যাতিক্রম মনে হয়েছে ‘ফ্রি মুসলিম ম্যাচ মেকিং সার্ভস’ স্টলটি। মূলত মুসলিম ছেলে-মেয়েরা যাতে তাদের পছন্দের পাত্র-পাত্রী বেছে নিতে পারে সেজন্যই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় এর উদ্যেক্তা হাফিজুর রহমানের সঙ্গে। তিনি পেশায় একজন প্রোকৌশলী। গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর। ১৯৯৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।

এই উদ্যোগ সম্পর্কে হাফিজুর বলেন, ‍"আমার দীর্ঘদিনের আমেরিকায় থাকার অভিজ্ঞতা হলো এখানে অধিকাংশ মানুষই সত্যি কথা বলেন। সেটা রঙ কালো, সাদা কিংবা যে বর্ণেরই হোক। এ কারণে অভিবাকরা ছেলে-মেয়েদের অনেক স্বাধীনতা দেন। ভালো এবং মন্দ বুঝিয়ে দেয়ার পর ছেলে-মেয়েদের সিদ্ধান্তে অবিভাকরা খুব একটা চাপ প্রয়োগ করেন না। এরমধ্যে যেসব ছেলে-মেয়ে ধার্মিক তারা অনেক সময় পছন্দের পাত্র-পাত্রি পান না। বিশেষ করে যোগ্য পাত্র পেতে মেয়েদের ভোগান্তি হয়। এই জায়গাটাকে সহজ করতেই আমাদের ‘ফ্রি মুসলিম ম্যাচ মেকিং সার্ভিস’। আমরা এর জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো স্টেটে একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ করেছি যেন কাজটি ভালোভাবে করা যায়।'

ওয়েব সাইটে সবাই সঠিক তথ্য দেবে, এটার কি নিশ্চয়তা আছে? প্রশ্নের জবাবে হাফিজুর রহমান বলেন, 'আমাদের ওয়েবসাইট এমনভাবে তৈরি করা যেখানে পাত্র-পাত্রীর কোনো ছবি থাকবে না। অন্য তথ্যগুলো আমরা যাচাই করে যখন সঠিক মনে হবে তখনই দেখা করার ব্যবস্থা করবো। আমি প্রথমেই আপনাকে বলেছি এই দেশে মানুষ মিথ্য কম বলে। যে ছেলে ড্রিংক করে সে কিন্তু মিথ্য বলবে না, মেয়েদের ক্ষেত্রেও তাই। পূর্বে সম্পর্ক ছিল কি ছিল না সেটা নিয়েও কেউ লুকোচুরি করে না।'

তিনি বলেন, 'আমি আমার মেয়েকে দেখেছি। তার বন্ধুরা যারা আছেন তাদের দেখছি। দেখা গেছে মুসলিম ছেলে-মেয়েরা প্রায়ই নিজ দেশের যোগ্য পাত্র-পাত্রী না পেয়ে অন্য দেশের ছেলে-মেয়েকে বিয়ে করছে। আমদের ‘ফ্রি মুসলিম ম্যাচ মেকিং সার্ভিস’এসব বিষয়কে আরো সহজ করবে।'


আরো সংবাদ


premium cement