২৪ অক্টোবর ২০২০

দুবাইয়ে বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

-

দুবাইয়ের একটি ম্যাসেজ সেন্টারে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা এবং জোরপূর্বক অ্যালকোহলে মিশ্রিত পানীয় পানের পর তাকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে এক বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে।

সোমবার দুবাই কোর্ট অফ ফার্স্ট ইনস্ট্যান্সে বাংলাদেশি ওই কিশোরী মেয়েটি সাক্ষ্য দিয়েছে যে, তার এক আন্টি তাকে গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিয়ে এসেছিলেন এবং তাকে ম্যাসেজ সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য করেছিলেন। তাকে ম্যাসেজ সেশন শেষে ‘গ্রাহকদের সন্তুষ্ট’ করতে বলা হলে সে অস্বীকৃতি জানায়। তখন তার আন্টি তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের কাছে রেখেছিল।

অভিযোগকারী ভুক্তভোগী নারী আদালতে জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘আমি একবার আসামির সাথে দেখা করেছিলাম, সে আমার আন্টিকে বলেছিল, সে আমাকে ভালোবাসে। আমি তার সাথে কোনোরকম সম্পর্ক করতে অস্বীকার করেছিলাম। তিনি আমাকে একটি নাইট ক্লাবে নিয়ে গেলেন এবং আমাকে সোডা (কোমল পানীয়) অফার করলেন। আমি জানতাম না যে, পানীয়টিতে অ্যালকোহল মিশানো হয়েছিল এবং তা পান করার পর আমি আমার ভারসাম্য হারাতে শুরু করি। এরপরে কী ঘটেছিল তা আমার মনে নেই। তবে আমি জেগে উঠে দেখি আমি লোকটির শোবার ঘরে।

পরে বুঝতে পারি ৩৬ বছর বয়সী বাংলাদেশি আসামি আমাকে ধর্ষণ করেছেন। আন্টি আমাকে বলেছিলেন যে, যদি আসামির সাথে অনৈতিক কাজ করি তাহলে আসামি আমার থাকা-খাওয়ার খরচ চালাবেন। এক মাস পরে আন্টিকে পুলিশ পতিতাবৃত্তির কাজের জন্য গ্রেফতার করে এবং আমাকে আসামির কাছে রেখে যায়।’

অভিযোগকারী নারী আদালতে আরো বলে, আসামি আমাকে ম্যাসেজ সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য করেছিলেন। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে, আমি যদি তার কথা না শুনি তাহলে তিনি আমাকে খাবার ছাড়াই রাখবেন। তার কথা না শুনলে আমাকে বেল্ট দিয়ে মারাসহ নানা রকম নির্যাতন করতেন।

আগস্ট ২০১৯-এ আসামি আমাকে একটি ম্যাসেজ সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে আমি একজন বাংলাদেশী নারীর সাথে দেখা করি এবং আমার শরীরে সহিংসতার চিহ্নগুলো দেখাই। আমার সাথে যা ঘটেছিল সে জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ট্যাক্সি ডেকে আমাকে থানায় পৌঁছাতে সহায়তা করেছিলেন।

দুবাই পুলিশ আসামিকে আল নাহদা থেকে গ্রেফতার করেছিল। তিনি ভুক্তভোগীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক থাকার এবং বাংলাদেশ থেকে নারীদের ম্যাসেজ সেন্টারে কাজ করার জন্য নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেন।

দুবাই পাবলিক প্রসিকিউশন আসামির বিরুদ্ধে মানব পাচার ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে আদালতের কাছে আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে। আসামি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানি ১৯ মার্চ।


আরো সংবাদ